নেপালে বিমান দুর্ঘটনা বাংলাদেশের কাছে আরও তথ্য চায় তদন্ত কমিটি

33

নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত হওয়া বিমান, সেই ফ্লাইটের পাইলট ও কো-পাইলট সংক্রান্ত আরও তথ্য চায় নেপালে গঠিত তদন্ত কমিটি। একইসঙ্গে সেসব তথ্যের মূল নথিপত্রও চেয়েছে তদন্ত কমিটি। অন্যদিক বিমানটি বø্যাকবক্সের তথ্য সংগ্রহের জন্য এপ্রিল মাসে কানাডায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তদন্ত কমিটি।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া, দুর্ঘটনার দিন বিমানবন্দরটির টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথপোকথনের রেকর্ডও সংগ্রহ করেছে। বিমানবন্দরে সেদিন কর্তব্যরত কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত কমিটি। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
সূত্র জানায়, নেপালে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোপূর্বে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানটি ও সেই ফ্লাইটের পাইলট ও কো-পাইলট সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল। এ দুর্ঘটনা তদন্তে নেপালের সরকার ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশ থেকেও তদন্তে যুক্ত হয়েছেন ৬ সদস্যের একটি দল। ১৮ মার্চ তদন্ত কাজে যোগ দিতে বাংলাদেশে থেকে নেপালে যান এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন
গ্রæপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ। নেপালের চাহিদামতো বেশ কিছু তথ্য সেদিন নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তদন্ত কমিটি আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের কাছে, একইসঙ্গে সব তথ্যের মূলকপিও চেয়েছে।
জানা গেছে, কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কথোপকথন ইউটিউবে প্রকাশিত শেষ চার মিনিটের রেকর্ডের আংশিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। একইসঙ্গে উড়োজাহাজটি থেকে উদ্ধার হওয়া বø্যাকবক্স থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এপ্রিল মাসে কানাডায় পাঠানো প্রস্তুতি নিচ্ছে তদন্ত কমিটি।
এ প্রসঙ্গে নেপাল থেকে টেলিফোনে এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রæপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বলেন, ‘সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে একসঙ্গে ঘটনার বিশ্লেষণ করা হবে। এর আগে কোনও কিছুই দিয়ে ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব না।’ বø্যাকবক্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে তথ্য উদ্ধার করতে পাঠানো হবে, তাদের কাছে ¯øট খালি পেতে হবে। এটির একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।’
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতোপূর্বে নেপালের তদন্ত চাহিদামতো পাইলটের লগবুক, পাইলট লাইসেন্স, কো-পাইলটের ফ্লাইংয়ের অনুমতিসহ পাইলট সংক্রান্ত সব তথ্য ও বিমানের ক্রয়, মেরামত সংক্রান্ত ও বিমানটি সংক্রান্ত অন্য সব পাঠানো হয়েছে। তারা আরও তথ্য চাইলে বাংলাদেশ সহায়তা করবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ সোমবার নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন।