সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কারাগারে, সিনিয়র নেতারা এলাকাছাড়া

নেতৃত্ব সংকটে বিপাকে মহানগর বিএনপি

এম এ হোসাইন

4

মামলা আতঙ্ক থেকে এবার নেতৃত্ব সংকট নিয়ে বিপাকে পড়েছে নগর বিএনপি। দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের পর এবার নেতৃত্ব দেয়ার মতো কেউ নেই দলটিতে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলের সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এএসএম সাইফুল আলম দায়িত্বে এলেও মামলার ভয়ে তারাও ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে নেতৃত্বহীন অবস্থায় আছে নগর বিএনপি।
কথা হলে সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুলাল বলেন, আজও (বৃহস্পতিবার) খুলশী থানায় একটি মামলা হয়েছে, সেখানে আমাকে এবং সুফিয়ান ভাইসহ ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে ‘গায়েবি’ মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে এভাবে মামলা ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আপনাদের দৃষ্টিতে একধরনের শূন্যতা দেখছেন। আসলে কোনো শূন্যতা নেই। মামলার জামিন নিয়ে সবাই ব্যস্ত, সবাই দৌড়াদৌড়িতে আছেন। এটা কেটে গেলেই জমজমাট অবস্থা দেখতে পাবেন। সরকার যে লেভেল ফিল্ডের কথা বলছেন সেটা তারা করতে পারছে না। তারা হয়রানি করতেই ব্যস্ত আছে।
সর্বশেষ বুধবার নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এসময় তার সাথে থাকা যুবদল নেতা শামসুল হককেও গ্রেপ্তর করে পুলিশ। ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে। একই দিনে নগরীর আকবর শাহ এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে নগর বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক আব্বাস রশিদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। গ্রেপ্তার আছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল রহমান শামীম। তাছাড়া ইতিমধ্যে নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ইকবাল চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেহান উদ্দিন প্রধানসহ ১১ ওয়ার্ডের সভাপতি ও ৫ থানার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন। সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের পর বাকি নেতারাও আড়ালে চলে গেছেন। ২৭৫ সদস্যের নগর বিএনপির কমিটির সিনিয়র বাকি নেতাদের এখন কারো দেখাই পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক নেতাই গ্রেপ্তার আতঙ্কে চট্টগ্রাম ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছেন। অনেকে চট্টগ্রামে থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
জানতে চাইলে নগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আবু সুফিয়ান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে তারা দুজনেই এলাকার বাইরে আছেন। আজগুবি মামলা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে। কোনো কিছুর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
গত ২১ আগস্ট রোববার দুপুরে কোতোয়ালী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে আদালত চত্বরে পুলিশের উপর ‘হামলা’র ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার পুলিশ বাদি হয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশের উপর ‘হামলার’ ঘটনায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় পরের দিন সোমবার মাহাবুবুর রহমান শামীম ও আবুল হাশেম বক্করকে নগরী জিইসি মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। সিনিয়র দুই নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেকটা আড়ালেই চলে গিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার জন্য ঢাকায়ও চলে যান কিছু নেতা। বুধবার ঢাকায় অবস্থান নেওয়া নগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও যুবদল নেতা শামসুল হক গ্রেপ্তার হন। এ অবস্থায় সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুধু বিএনপি নয়, আতঙ্কে আছে অঙ্গসংগঠনের নেতারাও। গ্রেপ্তার আতঙ্কে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র নেতারা ইতিমধ্যে এলাকা ছাড়া হয়েছেন। অনেকে নিজেদের মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রেখেছেন।