নেতানিয়াহুর পরমাণু চুক্তি ভন্ডুলের প্রচেষ্টায় ম্যার্কেলের অসম্মতি

34

তেহরান-বিশ্বশক্তি পরমাণু চুক্তি থেকে সমর্থন প্রত্যাহারে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ম্যার্কেল তাকে বলেছেন, জার্মানি ইসরায়েলের সুরক্ষার অধিকার সমর্থন করে। তবে নিজ দেশকে নিরাপদ করে তুলতে পরমাণু চুক্তি বাতিলের ইসরায়েলি অজুহাত নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। চুক্তি বাতিলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউরোপীয় তিন দেশ সফরে গেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। জার্মানিতে অনুষ্ঠিত নেতানিয়াহু-ম্যার্কেল বৈঠক সূত্রে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান পরমাণু চুক্তির প্রশ্নে জার্মানির অবস্থান জানিয়েছে।
২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রæতি দেয়। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত ৮ মে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলেও নিজেদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা নিশ্চিত করেছে তিন ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাকি দুই দেশ রাশিয়া এবং চীনও রয়েছে একই অবস্থানে।
ওবামা প্রশাসনের সময় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তেহরানের সম্পাদিত পরমাণু চুক্তিকে শুরু থেকেই নেতিবাচক অবস্থান থেকে দেখছে ইসরায়েল। এ নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যত এ চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সমর্থন প্রত্যাহারে রাজি করানোর জন্য তিন ইউরোপীয় দেশ সফর শুরু করেন নেতানিয়াহু। সোমবার বার্লিনে তাকে স্বাগত জানান ম্যার্কেল। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসতে ম্যার্কেলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু তাতে সফল হননি তিনি। নেতানিয়াহুকে ম্যার্কেল বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকারকে সমর্থন করি এবং সবসময়ই ইরানকে বিষয়টি নিয়ে বলে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য (জার্মানি ও ইসরায়েল) একই, তা হলো ইরানের হাতে যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। তবে কী উপায়ে সে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।’
ইউরোপীয় দেশগুলো চুক্তি বহাল রেখে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা-বহির্ভূত বাস্তবতায় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার পক্ষে। তবে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর একটা বড় অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ব্যপ্তি অনেক বিস্তৃত হওয়ায় ইউরোপের বাণিজ্যিক আদান প্রদানেও এর প্রভাব পড়বে। তাদের পক্ষেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে ওই কোম্পানিগুলো। ইরানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটালের। তবে ইরানে ব্যবসার কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু টোটালসহ ফরাসি কোম্পানিগুলো নয়, চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসার ঘোষণার পর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ।