নীতু ও নীল পরী

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

75

নীতু তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। কিন্তু সে নিজেকে অনেক বড়ো মনে করে। যদি কেউ ওকে খুকি বলে ডাকে, তাহলে রেগেমেগে আগুন। সে তো এখন আর ছোট্ট মেয়ে নয়। তাকে নীতু বলেই ডাকতে হবে। তার বাবা ও মায়ের ক্ষেত্রে এটা অবশ্য ব্যতিক্রম কারণ সব সন্তান তার বাবা ও মায়ের কাছে আজীবন ছোট্ট সোনামণি। নীতুর কোন ভাইবোন নেই। বাবা ও মায়ের একমাত্র অতি আদরের সন্তান। তবুও ওর মনে অনেক কষ্ট কারণ বাসায় ভীষণ একাকিত্ব সময় কাটাতে হয়। ওর বাবা ও মা থাকেন অফিসে আর নীতু স্কুল থেকে বাসায় ফিরে একা সময় কাটায়। যদিও বাসায় গৃহপরিচালিকা রহিমা খালা আছে, তবুও সে নিজেকে একাই মনে করে। সে একা একাই নিজের হোমওয়ার্ক সেরে দুপুরের লাঞ্চ করে একাই বিছানায় ঘুমাতে যায়। ওর কোন খেলার সাথী না থাকায় বিকালে বাসায় বসে বই পড়ে, টিভি দেখে ও কম্পিউটার গেমস খেলেই সময় কাটে।
একদিন দুপুরে ঘুমাতে যাওয়ার সময় জানালার গ্রীলে একটি সুন্দর নীল প্রজাপতি বসা দেখতে পেল। সে জানালার কাছে গিয়ে প্রজাপতির ডানায় স্পর্শ করতেই, প্রজাপতিটা নীতুর মতই সুন্দর একটি ছোট্ট মেয়ে হয়ে গেল। নীতু এই দৃশ্য দেখে তো খুব অবাক এবং বেশ ভয় পেয়ে যায়। নীতুর এই অবস্থা দেখে ওই মেয়েটি বললো, আমি পরীর মেয়ে নীল পরী। প্রজাপতি হয়ে ফুলের বাগানে ঘোরাঘুরি করি। তখন নীতু আরো বিস্মিত হয়ে নীল পরীর দিকে তাকিয়ে রইলো। সে নীল পরীকে বললো, আমার কোন বন্ধু নেই, তুমি কি আমার বন্ধু হবে? তখন নীল পরী সম্মতি প্রকাশ করে নীতুকে জড়িয়ে ধরে বললো, আজ থেকে আমরা দুজন বন্ধু। নীতু তখন খুব খুশি, যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী।
নীল পরী নীতুকে বললো, তুমি কি আমার সাথে খেলতে চাও, ঘুরতে চাও? নীতু জানালো, হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি তোমার সাথে খেলতে চাই, ঘুরতে চাই।
তখন নীল পরী নীতুকে সঙ্গে করে উড়তে উড়তে একটি বিশাল বড়ো বাগানে নিয়ে গেল। সেখানে হাজার রকমের ফুলের ও ফলের গাছ। ফুল গাছে হরেক রকমের অদ্ভুত সুন্দর সুন্দর ফুল ফোটে আছে আর ফল গাছে মজার মজার সব ফল। ওরা দুজনে মিলে সেখানে খেলছে, মনের আনন্দে গান গাইছে। দুজনে মিলে মজা করে আনেক ফল খেয়েছে আর ফিরে আসার আগে দুজনেই দুটো ফুলের মুকুট বানিয়েছে। বন্ধু হিসেবে একজন আরেকজনকে সেই ফুলের মুকুট মাথায় পরিয়ে দিয়েছে। সন্ধ্যে হওয়ার আগেই নীল পরী নীতুকে আবার ওর বাসায় পৌঁছে দিয়ে আজকের মতন বিদায় নিয়ে চলে গেল। নীতুর ঘুম ভেঙে উঠে দেখে চারিদিকে কেউ নেই, আগের মতন সে একাই আছে। ওর কাছে পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নের মতন লাগছে, সম্ভবত সে স্বপ্ন দেখেছে। তারপর ফ্রেশ হতে ওয়াশ রুমের আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দেখতে পেল মাথায় সেই নীল পরীর দেওয়া ফুলের মুকুট। সে তখন বুঝতে পারছে না, এটা কি স্বপ্ন ছিল নাকি সত্যি সত্যি ওর কাছে নীল পরী এসে ছিল।