নির্বাচনের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত জানাবে আজ

43

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না সে সিদ্ধান্ত আজ রবিবার জানাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিও রয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রবিবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন ড. কামাল হোসেন।
গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাতের এই বৈঠকে ছিলেন না তিনি। তার অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। খবর বিডিনিউজের
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু, সুব্রত চৌধুরী, মোকাব্বির খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাহিদ উর রহমান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন।
বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে, ২০ দলের বৈঠক হয়েছে। এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হল। দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামীকাল (আজ) দুপুর ১টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন প্রেস কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা আপনাদের জানাবেন, জাতিকে জানাবেন।”
এই বৈঠকের আগে বিকালে এই কার্যালয়েই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। তারপর বৈঠক করেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতারা।
ওই বৈঠকের পর জোট শরিক এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত আগামী দুই দিনের মধ্যেই জানানো হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে পাঁচ বছর আগে নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এবারও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে আসছিল। পাশাপাশি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ছিল তাদের।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত না করার প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে নিয়ে গেল মাসে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আহব্বানে সাড়া দিয়ে তাদের সঙ্গে দুই দফা সংলাপে বসেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ সাত দফা দাবি তোলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
তাদের দাবি নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।
ঐক্যফ্রন্টের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবে ২০ দল : এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, নির্বাচনে যাবো কী যাবো না, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। আগামী দুই দিনের মধ্যে ২০ দলীয় জোট, আমাদের মূল দল বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে উপস্থাপন করবে।
গতকাল শনিবার (১০ নভেম্বর) রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ এ মন্তব্য করেন।
অলি আহমদ বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসবে। এখনও পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’ খবর বাংলা ট্রিবিউনের
এ সময় সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই নিবন্ধনভুক্ত যেসব দল আছে, তারা চিঠি লিখবে। চিঠির ভাষা এরকম হবে, যদি আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, সে ক্ষেত্রে আমাদের অনেকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবে। অনেকে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে, যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যাওয়া, না যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি। সরকার কথা দিয়েছিল সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে। আমরা মনে করি না যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। আমরা দেখছি প্রতিনিয়ত বিশেষ করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের আটক করা হচ্ছে, রাস্তাঘাটে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব বন্ধ না করা পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা জানাবো না।’
অলি আহমদ আরও বলেন, ‘অবশ্যই ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুধু ২০ দলীয় জোট নয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা বলে মত নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জাতিকে জানানো হবে ‘
২০ দলীয় জোটের সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপির নেতারা ছাড়া জোটের ১৯ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির নেতারা জোটের নেতাদের কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে কার কী মত। তখন বৈঠকে উপস্থিত ১৬ জন নেতা হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন। বাকি তিন জন নেতা না সূচক উত্তর দেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০ দলীয় জোটের নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না বলে মত দেন বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বক্তব্য রাখেন ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ও জাতীয় পার্টির একজন নেতা।
জামায়াতের আব্দুল হালিম, এলডিপির কর্নেল অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্পর্কে বলেন, যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে, তাহলে আমরাও অংশ নেবো। আর বিএনপি অংশ না নিলে আমারও অংশ নেবো না। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির।
এছাড়াও বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক হয়। তাহলে আগামী কয়েকদিনের মধ্য কে কোন আসনে নির্বাচন করবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অলি আহমদের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ৬টা থেকে এক ঘণ্টার এই বৈঠকে বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের আবদুল হালিম, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা এমএ রকীব, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নুর হোসেইন কাসেমী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান, মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকের আগে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির নেতারা।