‘নির্বাচনী নাশকতা’ রুখতে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

রতন কান্তি দেবাশীষ

12

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা শাখাসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে। বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত চেক পোস্ট। নগরীর চার প্রবেশপথে নেয়া হয়েছে কড়াকড়ি ব্যবস্থা। নাশকতামূলক কর্মকান্ডরোধে সকল প্রস্তুতি রয়েছে পুলিশের। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারিসহ নগরজুড়ে সতর্কাবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলায়ও একইভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নির্বাচন। সে লক্ষ্যে এখন রাজনীতির মাঠ গরম। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নফরম সরবরাহ কার্যক্রম শেষ হলেও বিএনপি’র এখনো চলছে। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেয়া হচ্ছে মনোনয়নপত্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ করছেন আবার অনেকে জমাও দিচ্ছেন।
মূলত সর্বত্র বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। চারিদিকে ভোটের আলোচনাই প্রাধান্য পাচ্ছে। চায়ের দোকান, গণপরিবহন থেকে শুরু করে সব জায়গায় একই আলোচনা।
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অস্থিশিীলতার আশংকা রয়েছে জনমনে। বিশেষ করে ঢাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন নিহত হওয়া এবং পল্টনে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের পর এ আশংকা আরো বেড়ে গেছে।
তবে পুলিশ বলছে, নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সিএমপি ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেট্টোপলিটন ও জেলা পুলিশকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, কোনোভাবেই নির্বাচনী সহিংসতা মেনে নেয়া যাবে না। যেকোনোভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। কেউ সহিংতা সৃষ্টি করতে চাইলে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনী সহিংতারোধে করণীয় নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন সিএমপি ও জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশি ব্যবস্থাকে সাজানো হয়েছে। কেউ যাতে সহিংসতা করতে না পারে বা চেষ্টাও করতে না পারে সেজন্য সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে। সময় ঘনিয়ে আসলে সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। করলেই কঠোর ব্যবস্থা।
জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোকে চিহ্নিত করে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোকে এক ক্যাটাগরিতে রেখে, এরপর কম ঝুঁকিপূর্ণ ও কম গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোকে বাকি দুইটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এই তিন ক্যাটাগরির আসনগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে আসনগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কোন্দলও বিবেচনায় আনতে বলা হয়েছে।
এসব এলাকায় যখন যা ঘটবে তাৎক্ষণিকভাবে তা সিনিয়র কর্মকর্তাদের জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোনো তথ্য গোপন করা যাবে না। কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নগরী ও জেলায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিমও রয়েছে মাঠে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ের দিকে তাদের নজর বেশি। নগরীতে ৩৩টি চেক পোস্ট বসানো হবে। এরি মধ্যে নগরীর চার প্রবেশমুখে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ।
সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পোশাকধারী বাড়তি পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ। সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামান। র‌্যাব সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন।