নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জোরদার করতে হবে

9

আমাদের দেশটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে গতি সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে সবদলই কিছু কিছু ক‚টকৌশল অবলম্বন করে থাকে। সমগ্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক তথা নিয়মতান্ত্রিক পন্থার চেয়ে পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য বেড়েছে। ক্ষমতার লোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদেরও ব্যবহার করতে দেখা যায়। নির্বাচন আসলে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজদের কদর যেমন তথাকথিত- নেতৃবৃন্দের কাছে বেড়ে যায় তেমনি সন্ত্রাসীরাও নিজস্ব স্বার্থে নির্বাচনের পূর্বে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে দেখা যায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার খবর দেশের পত্রপত্রিকায় প্রতিদিন প্রকাশ পাচ্ছে। বিশেষত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাসমূহের মধ্যে ভৌগলিক পরিবেশগত কারণে ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। মহেশখালীর পাহাড়ে অস্ত্রের কারখানা পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। টেকনাফেও অস্ত্র বেচাকেরার বাজার সরগরম।
পার্বত্য জেলাসমূহে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরও বর্তমানে অস্ত্রের ঝনঝনানি কমছে না। ২৬ অক্টোবর দৈনিক পূর্বদেশের প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি স›দ্বীপেও অস্ত্রকারখানার সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাধারণ মানুষের কামনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হোক। কিন্তু কেন্দ্র দখল করে জনগণের ভোট ডাকাতির লক্ষ্যে একশ্রেণির তথাকথিত নেতা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় গ্রহণ করতে চায়। দেশে অস্ত্র উদ্ধার কর্মসূচি ও দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন অস্ত্র কারখানা বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। মহেশখালীতে জলদস্যু ও সন্ত্রাসীদের অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী পাকড়াও অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ তৈরি করার কারণে ডাকাত সন্ত্রাসীরা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে রাজি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তৎপরতাই পারে নির্বাচনের পূর্বে অস্ত্রবাজদের নিষ্ক্রিয় করে দিতে। আমরা মনেকরি, নির্বাচনের পূর্বে অস্ত্র উদ্ধার কর্মসূচি জোরদার করে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব, আর তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সাথে পালন করলে আগামী নির্বাচনে জনগণ অবাধ ভোট প্রদানের অধিকার পাবে।