উখিয়ায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন

উখিয়া প্রতিনিধি

27

 

রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ উখিয়ায় বালুখালি ক্যাম্প পরিদর্শন করে সেখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তাদের মিয়ানমারে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে। রবিবার বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি বালুখালি ক্যাম্পের পরিস্থিতি দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের সাথে খোলামেলা কথা বলে তাদের দুঃখ দুর্দশার বর্ণনা শুনেন তিনি। এসময় রোহিঙ্গারা পুনরায় মিয়ানমারে ফিরে গেলে পরিবারের মৃত বা আহত সদস্যদের মত নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাদের বলেন, “কেবল বাংলাদেশ না,সমগ্র বিশ্ব রোহিঙ্গাদের পাশে আছে। রোহিঙ্গারা যাতে সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারেন এবং নিরাপত্তার সঙ্গে

নিজ দেশে বসবাস করতে পারেন,তা নিশ্চিত করে ফেরত পাঠানো হবে তাদের।”
পরে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশের জন্য এই রোহিঙ্গারা একটা বোঝা। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে সাধ্যমত পাশে দাঁড়িয়েছে। “এখন চুক্তি হয়েছে; রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে সম্মানের সাথে ফিরতে পারে সেটা নিশ্চিত করা হবে। কারণ মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে।”বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা চার লাখের মত রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে। আর গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর আরও সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। তাদের ফেরার পথ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সম্মতিপত্রে সই করেন।
এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কতটা আশাবাদী সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, “আলোচনাতো শুরু হল। আলোচনা হলে ইমপ্রæভমেন্ট হবে।” আরবের হুদাইবিয়া চুক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই চুক্তি শুরুতে অপমানজনক মনে হলেও পরে সেটা ‘উপকারী’ হয়েছিল।
তিনি বলেন,“রোহিঙ্গারা আত্মমর্যাদা নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কেননা সমগ্রবিশ্ব বাংলাদেশের সাথে আছে।”
এর আগে রাষ্ট্রপতি বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কেন্দ্র ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন হোসেন চৌধুরী মায়া এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন। রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন। নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সন্ধ্যায় কক্সবাজারে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়ামের ‘মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এক্সসারসাইজ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।