নিউমার্কেটে ভিড়ের সাথে বাড়ছে বিক্রি

রাহুল দাশ নয়ন

76

আসল নাম বিপনী বিতান। নিউ মার্কেট নামেই পরিচিতি বেশি। সব পণ্যের সমাহার থাকা মার্কেটগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। নামিদামি মার্কেটকে পেছনে ফেলে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখনো ৫০ বছরের পুরানো নিউ মার্কেট। বিপণী বিতানে প্রবেশ করলেই তাঁর দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে। বিশাল করিডোরে ক্রেতাদের পদচারণা দেখেই বুঝা যায় এ মার্কেটের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণের বিশেষত্ব। ঈদের কেনাবেচা উপলক্ষে নিউমার্কেটে এখন মানুষের ব্যাপক পদচারণা।
বিপণী বিতান মার্চেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাগির পূর্বদেশকে বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের মতো এবারো ঈদকে সামনে রেখে বিপণী বিতানকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। পুরো মার্কেটে লাইটিং করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাখা হয়েছে অর্ধশত জনের দক্ষ কর্মীবাহিনী। আগে ১৫ রমজানের পর থেকে বেচাবিক্রি জমজমাট হলেও এখন শবে বরাতের পর থেকে বেচাবিক্রি জমেছে। আমরা সকল ব্যবসায়ীকে সুলভমূল্যে বেচাবিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবছর ক্রেতাদের সাথে ভালো ব্যবহারের জন্য ব্যবসায়ী ও বিক্রয়কর্মীদের পুরস্কৃত করি। ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল সার্বক্ষণিক সেটি মনিটরিং করছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য মার্কেটগুলো যতই আধুনিক হোক নিউ মার্কেটের মতো আরামে বাজার কোন মার্কেটে করা যাবে না। এছাড়াও জিরো পয়েন্টে অবস্থান হওয়ায় এ মার্কেটের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ আছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, খ্যাতনামা নকশাকার ফিদা হোসেন (জি. ইব্রাহিম) ছয় একর জমির উপর বিপণী বিতানের নকশা প্রণয়ন করেন। ১৯৬২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ১৯৬৪ সালের দিকে বিপণী বিতান পুরোদমে ব্যবসা শুরু করে। চার তলা বিশিষ্ট এই মার্কেটে মোট ৫১৬টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে নিচ তলায় ১১৪টি, দ্বিতীয় তলায় ১৫৮টি, তৃতীয় তলায় ১০৯টি, চতুর্থ তলায় ৭৫টি দোকান রয়েছে। বি বøকে রয়েছে ৫১টি দোকান। এ মার্কেটেই রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের প্রথম ডিজিটাল কার পার্কিং। নিরাপত্তার জন্য নিউমার্কেটে মানুষের আস্থা আছে। ঈদের বেচাকেনার জন্য সিডিএ, ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো মার্কেট ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক দুটি জেনারেটরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে এস্কেলেটর। বর্ষায় পানি জমে থাকার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
সরজমিন দেখা যায়, নিচতলায় শাড়ি, ক্রোকারিজ, থান কাপড়, তৈরি কাপড়, বেডিং, পর্দা, টেইলারিং, কালার ল্যাব, স্টুডিও, স্ন্যাকবার, প্রসাধনী দোকান রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় স্বর্ণ, ঘড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী, অফিস স্টেশনারী, চশমা, টেইলারিং, তৈরী পোশাক, লাইব্রেরি, রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড ও কুলিং কর্ণার। তৃতীয় তলায় জুতা, তৈরী পোশাক, চামড়া জাতদ্রব্য, প্রসাধনী সামগ্রী, ইলেকট্রিক দ্রব্য, টেইলারিং, খেলনা সামগ্রী, স্টিল ফার্নিচার। চতুর্থ তলায় ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য সামগ্রী, মোবাইল, ভিডিও, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য সামগ্রী মেরামত সেন্টার রয়েছে। বিপণী বিতানের প্রতিটি ফ্লোরে ক্রেতায় ভরপুর। এরমধ্যে শাড়ি, রেডিমেট গার্মেন্টস ও জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
বিপণী বিতানের বাঙালি বাবু, হান্ডিবাজার, শৈশব, জেন্টাল ম্যান, কেটস আই, রেভলন, অদুদ ব্রাদার্স, রুপের হাট নামের দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি বেশি। তরুণ ক্রেতাদের টার্গেট করে এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুল পণ্যের সমাহার ঘটানো হয়েছে। পাঞ্জাবি, ফোর্তা, জিন্স প্যান্ট, টি শার্টসহ কিডস আইটেমের নিত্যনতুন সমাহার।
কিডস আইটেমের জন্য বিখ্যাত শৈশব। নিউমার্কেটের তৃতীয় তলার ৩৭৪নং দোকানটিতে ক্রেতায় ভরপুর। শৈশবের ব্যবস্থাপক আরশাদুল ইসলাম পূর্বদেশকে বলেন, শৈশবে জিরো থেকে ১৩বছরের শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ ওয়াশ করা নিজস্ব ব্যান্ডের পোশাক পাওয়া যায়। যে পোশাকগুলো গায়ে দিলে শিশুদের স্ক্রিনে কোন ধরনের সমস্যা হবে না। প্রত্যেক পণ্যের সাথে একটি করে স্ক্র্যাচ কার্ড দেয়া হচ্ছে। পণ্যের কেনার পর যে কার্ড ঘষলেই এক থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। লেহেঙ্গা, ত্রি-পিস, স্কার্ট, সিঙ্গেল ফ্রোক, ডেনিমের জিন্স প্যান্ট, পাঞ্জাবি-পায়জামা, লেহেঙ্গা শাড়ির নতুন সমাহার ঘটানো হয়েছে। রমজান ১০টির পর থেকে বেচাবিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শাড়ির কয়েকটি প্রসিদ্ধ দোকানে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তি ছিল। ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে প্রচুর পণ্য সম্ভার ঘটিয়েছে ব্যবসায়ীরা। নিত্যনতুন ও অভিজাত্য পণ্যে ভরপুর মার্কেটের প্রতিটি দোকান। নকশী বাংলা, জেক্স কালেকশন, রূপ তরঙ্গ, ওহী টেক্সটাইল, পাবনা স্টোর, এ ওয়াদদু ব্রাদার্স এন্ড কোং, আজমির স্টোর, অদুদ ফ্যাশন, রুপের হাট, শাড়ি কালেকশন নামের দোকানগুলোতে শাড়ি ও থ্রি পিচের বিপুল সমাহার। পণ্যের মধ্যে এবার ঈদ বাজার দখল করে রেখেছে টাঙ্গাইলের তাঁতীর শাড়ি, মাসনাইশ, টাঙ্গাইলের কাতান, ঢাকাই জামদানি, চায়না সিল্ক, হাফ সিল্ক, ভাগলপুরী, ফুলের কাজ করা ফ্রক-গ্রাউন, মসলিন এ্যাপলিক, তাঁতের এ্যাপলিক, বুটিকস শাড়ি, ক্যাটালগ শাড়ি, হাফ এন্ড হাফ শাড়ি, জয়পুরী শাড়ি ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছুকিছু পণ্যের গত বছর বের হলেও এবারো কদর রয়েছে। পুরো মার্কেট ঘুরেফিরে পছন্দের পোশাকটিই ক্রয় করছেন ক্রেতারা।
জেন্টাল ম্যানের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার প্রথম থেকে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। নিজস্ব ব্রান্ডের স্পেশাল কাবুলি ও মুম্বাই পাঞ্জাবি ভালোই বিক্রি হচ্ছে। এ দুটি পন্য নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে।