নদীর গভীরতা বাড়াতে যথাযথ ড্রেজিং কার্যক্রম জরুরি

9

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের নদীগুলোর খনন ও তীর প্রতিরক্ষার কাজ জোড়াতালিতে চলে। এর জন্য কার্যকর কোন গবেষণা আছে বলেও মনে হয় না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নদী শাসন, তীর রক্ষা, নদী খনন ইত্যাদি কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড করতে দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড যেভাবে তাদের কার্যক্রম দেশে চালিয়ে আসছে তাতে মনে হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আর্থিক উন্নয়নই হচ্ছে। পানিসম্পদের উন্নয়ন বিপরীতমুখী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বছরের পর বছর বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। কিন্তু নদীর নাব্যতা বাড়ছে না। হচ্ছে না নদী ভাঙ্গন রোধ। পানি দেশের নদীগুলোতে প্রবাহিত না হয়ে, প্রবাহিত হতে দেখি তীরের উপর দিয়ে। প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায় বন্যা হতে। বন্যার পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘর-বাড়ি, ফসল, গবাদিপশু। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে ছোট বড় মিলিয়ে ২৮টি ড্রেজার রয়েছে। যা আমরা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানতে পারি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য মাত্র ২৮টি ড্রেজার যথেষ্ট নয়। কারণ এগুলোর বার্ষিক খনন ক্ষমতা ৫০ লাখ ঘনমিটার মাত্র। চাহিদামাফিক দেশের নদীগুলোকে সচল রাখতে ২০০ কোটি ঘনমিটার বার্ষিক খনন ক্ষমতার পরিমাণ ড্রেজার প্রয়োজন। সাংবৎসর পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন তথা ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। কিন্তু নদীর কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। নদী খনন, বেড়িবাঁধ ইত্যাদি কার্যক্রমের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিবছর একটি মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দেয়। দেশের আর্থিক অপচয় ছাড়া তার কোন সফলতা দেশ ও জনগণ পায় না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের টাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড বেশিরভাগ কাদা আর পানিতেই তলিয়ে দেয়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের কারণে সরকারের মোটা অংকের টাকার অপচয় হতে দেখা যায়।
কর্ণফুলী নদী দেশের একটি বিশিষ্ট নদী। এ নদীতেই চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর রয়েছে। নদী ও বন্দরের নাব্যতা যথাযথ রাখা খুবই জরুরি। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্পসমুহ বাস্তবায়নে নানা জটিলতার কথা বলে কর্ণফুলীকে সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছে না। কর্ণফুলী নদী খনন ও নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজে ২৮৩ কোটি টাকার যে প্রকল্পটি হাতে নিয়ে ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড, তাতেও নানা জটিলতার কারণে শতভাগ কাজ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের দায়দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগেভাগে সম্ভাব্য জটিলতার কথা ভেবে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কাজে নয়ছয় করা আর ঘনঘন প্রকল্পের কাজে প্যাকেজ পরিবর্তন কখনো সুফল বয়ে আনবে না। আমরা মনেকরি পাউবির দায়িত্ব দেশের প্রয়োজনীয় ২৪টি নদ-নদীর ভাঙন, নদী ভরাট, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান এবং নদীর নাব্যতা ও ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আগেভাগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সার্বিক পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। প্রকৃতপক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ড সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে পরিকল্পিত কাজ করলে দেশের নদীগুলো সচল থাকবে এবং বন্যা পরিস্থিতি ও জলাবদ্ধতা সমস্যা কমে আসবে এমন মত দেশের সবস্তরের মানুষের।