নদীর কান্না শুনিতে পাই

মুশফিক হোসাইন

22

মাননীয় আদালত নদীকে জীবন্ত যত্না হিসাবে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র কী? নদী বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘রিভারভাইন পিপল’ পরিচালিত প্রাথমিক এক সমীক্ষায় জানা যায় যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ৪০৫টি নদ-নদীর মধ্যে ৩৭টি সবচেয়ে বেশি দখর-দূষণের শিকার। যদিও সমীক্ষাটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত না হলেও তারা তিন ধরনের দুষণ ও দখলের উৎস চিহ্নিত করে। তবে যে সকল নদ-নদী ইতিমধ্যে মৃত বা বিলুপ্ত হয়েছে, সেগুলো সমীক্ষার ধরা হয় নাই।
রিভারভাইন পিপল যে সব নদীগুলো সমীক্ষায় চিহ্নিত করেছে, তা হলো রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চলের বড়াল নদী, কুমিল্লা অঞ্চলের ডাকাতিয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্ণফুলী, হলদা, নেত্রকোনার মগড়া, খুলনার ময়ুর, হবিগঞ্জের থোয়াই ও সোনাই, সিলেটের সুরমা, পিয়াইন, বিবিয়ানা, বাসিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের নবগঙ্গা, টাঙ্গালের লৌহজং, লাঙ্গুলিয়া, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরী ও বংশী, কক্সবাজারের বাঁকশালী, ময়মনসিংহ অঞ্চলের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, রংপুুরের ঘাঘট, ইছামতি, দিনাজপুরের পুনর্ভবা, বগুড়ার করতোয়া, নওগাঁ-জয়পুরহাটের ছোট যমুনা লাটোরের নারোদ, কুড়িগ্রামের সোনাভরি, বরিশালের সন্ধ্যা, ফরিদপুরের কুমার, সাতক্ষীরার আদি যমুনা, যশোরের কপোতাক্ষ ও ভৈরব, নরসিংদীর হাড়িধোয়া এবং গাজীপুরে চিলাই নদী।
রিভারভাইন কর্তৃপক্ষ মূলত নগর সংলগ্ন নদ-নদীর দুষণ ও দখলের প্রতিবেশি গুরুত্ব দেন। তাতে দেখা যায় যে, দখল-দুষণের থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত হয়েছে। যদিও উচ্ছেদ ও দূষণবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয় মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রীখ। তার বাইরে দখল-দূষণের চিত্র প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মনোযোগের বাইরে থেকে যায় বলা চলে।
রিভারভাইন পিপল ২০১৬ সাল থেকে দখল দূষণের শিকার নদীর তালিকা হালনাগাদ করে আসছেন। তালিকাভুক্ত নদ-নদী নিয়ে আলাদা ‘একাদেমিক ডকুমেন্টশন’ শেষে সশীক্ষাটি চূড়ান্ত হবে বলে তারা জানান। সমীক্ষায় লক্ষ্য করা গেছে যে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর পাশ দিয়ে বহমান নদীগুলো বেশি দখল-দূষণের শিকার। এই মহানগরীতে শিল্প-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও নাগরিক বর্জ্য বেশি পতিত হয়ে থাকে। তারা বলেন, ’৯০ দশকে থেকে নদ-নদীতে দখল-দূষণ বাড়ছে। একই সময়ে পরিবেশি ও নদী সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা প্রণীত ও নতুন নতুন সংস্থা প্রণিত হলেও দখল-দূষণ হ্রাসে দৃশ্যতঃ কোন প্রভাব পড়েনি। সংস্থাটির মতে, দখল ও দূষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। দেখা যায় যে, প্রথমে দখল করে বাণিজ্যিক বা আবাসিক প্লটের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। পরে সেগুলোতে বর্জ্যে দূষণ শুরু হয়। দুঃখজনক হলে সত্য যে, রিভারইন জানায়, সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে দখল-দূষণের কোন শিকার নদীর আলাদা কোনো তালিকা পাওয়া যায় না। একথা সত্য যে, ঢাকার প্রাণ প্রবাহ হিসাবে খ্যাত বুড়িগঙ্গা নদী সবচেয়ে বেশি দখল ও দূষণের শিকার। এর আদি চ্যানেলের অধিকাংশ ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। সেখানে গড়ে উঠেছে পাকা অবকাঠোমা ও সড়ক। ’৯০ দশকের শেষভাগে ‘বুড়িগঙ্গা বাঁচাও’ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তারপরও প্রতি বছরই নদী দখল উচ্ছেদ চলে, কিন্তু বাস্তবে কী উচ্ছেদ হচ্ছে? দুষ্ট লোকেরা বলে, এসব অবিযান লোক দেখানো! বস্তুতঃ নদী দখলমুক্ত করতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।
বিআইডবিøউটিএ ঢাকা নদী বন্দরের আওতাভুক্ত বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বলু এবং নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের শীতলক্ষা নদীতে দখল উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এর আগেও কয়েক বার অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এ সকল উচ্ছেদ অভিযান কখনই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। ঐ সকল নদীসমূহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বছরের পর বছর জবর দখল অবস্থায় থাকে। সর্বশেষ হাইকোর্ট এক রায়ে তুরাগকে ‘আইনি সত্তা’ হিসাবে ঘোষণা করে। এই নদী তীব্র দুষণের শিকার। সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষ এই রায়ের ফলে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছে। প্রশাসন যদি আন্তরিক হয় তবে তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভব।
রিভারইন পিপলের সমীক্ষায় দেখা যায় যে, কিছু নদী শুধু দখলের শিকার আবার কিছু নদী দখলের সাথে সাথে দুষণেরও শিকার। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী নিয়ে গবেষণা করেন, তাদের মতে, ‘কর্ণফুলী নদী জোয়ার ভাটার নদী বলে এক দুষণের মাত্রা অনেক সময় চোখে পড়ে না, পড়লেও কম পড়ে। বাস্তবে কেবল কর্ণফুলী নদী নয়, এর ৩০টি সযোগ খালও চরম দুষণের শিকার। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬০ লাখের অধিক মানুষের সব ধরনের বর্জ্য সরাসরি এসব খালের মাধ্যমে মূল নদীতে পতিত হচ্ছে। পানিতে জীব বৈচিত্র্য টিকে থাকার জন্য নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা অন্তত ৫-৬ শতাংশ থাকা আবশ্যক। কিন্তু কর্ণফুলীতে এই মাত্রা সবনিম্ন ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে প্রায় শতাধিক শিল্প-কারখানার রাসায়নিক দূষণ যদি ইটিপির মাধ্যমে উৎস স্থানে শোধন করা যায়, তাহলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরে ডাকঢোল পিটিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। শোনা যাচ্ছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠান উচ্চতর আদালতে স্টে-অর্ডার নিয়ে আসে। যার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ অভিযান নানা শঙ্কায় পড়ে।
রিভাইন পিপলের সমীক্ষায়, ৩৭টি নদীতে তিন ধরনের দখলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে স্থায়ী আবাসন বা বাণিজ্য কেন্দ্র ছাড়া ও সরকারি অপরিকল্পিত স্থাপনার মাধ্যমেও নদ-নদী দখলের শিকার হচ্ছে। অপরিকল্পিত স্থাপনা হচ্ছে, পরিকল্পনাহীন ও অবৈজ্ঞানিকভাবে নির্মিত আড়াআড়ি সড়ক, বাঁধ ও সøুইসগেটকে বোঝঅনো হচ্ছে। এমন দখলের শিকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বেশি পরিকল্পিত হয়।
নদী তীরবর্তী জেলা, উপজেলার শহর, পৌরসভা, বাজার, হাসপাতাল, পোল্ট্রি খামার এবং মানব বর্জ্য ফেলার কারণে নদ-নদীগুলো চরম দূষণের শিকার। দূষণের শিকার উচ্ছেদ করলেও নদী তার প্রাণ ফিরে পাবে না। সাথে সাথে প্রয়োজন দূষণমুক্ত করা। এখানে উল্লেখযোঘ্য যে ব্রিটেন টেমস নদী দূষণমুক্ত করার জন্য হাজার কোটি পাউন্ড ব্যয় করতে হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় মোদী ক্ষমতায় আসার পর ‘গঙ্গা বাঁচাও’ আন্দোলনের নজ্য হাজার হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়ে গঙ্গা দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনা করে। বিশেষজ্ঞরা ভলছেন, একটি নদী দূষণমুক্ত করার জন্য শুধু হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় তো আছেই। তার সাথে দুই থেকে তিন দশক সময় লেগে যায়। সর্বোপরি নদী অববাহিকায় মানুষের মন ও মানসিকতা যদি দূষণমুক্ততার পক্ষে না হলে নদী দূষণমুক্ত কখনই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার সর্বপ্রথমে থাকা চাই।
দেশে নদী কমিশন নামে একটি সংস্থা আছে। দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়-জলাভূমি, হাওও ও সমুদ্র উপকূল দূষণ ও দখলমুক্ত রাখতে সরকারকে সুপারিশ করা ছাড়া আর কোন ক্ষমতা নেই জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের। নির্বাহী কোন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি কমিশনের কার্যপরিধিতে। কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা বা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও নেই তাদের। জাতীয় নদী রক্ষ কমিশনের আইনে রয়েছে নানা দুর্বলতা। এছাড়া আছে সরকারের অন্যান্য বিভাগের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিকতা। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পরও তাদের নেই নিজস্ব কার্যালয়। আছে জনবল সংকট, বরাদ্দওকম বাজেটে। দেশের অন্য কমিশনগুলো আইনিভাবে শক্তিশালী করে গঠন করা হলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শুধু মাত্র বাংলাদেশের প্রাণ নদীর কোন উন্নয়ন আজ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সম্প্রতি লেখক গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশ এখন নদীর মৃত্যুর দেশে পরিণত হয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ‘নদী বাঁচাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নদ-নদী বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে। গত ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ঢাকার জাতীয় যাদুঘরেরসামনে অনুষ্ঠিত এক মানব বন্দনে এসব কথা বলেন। আঘাতের পর আঘাতে আজ দেশের সকল নদী বিপন্ন। বাংলাদেশের উচ্চ আদালত কীভাবে নদী ও প্রতিবেশ সুরক্ষা হবে, সে বিষয়ে দফায় দফায় রায় ও নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। প্রথম ২০০৯ সালে এক রায়ে ‘নদীর সীমানা চিহ্নিত করা সহ নদী সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এসেছিল। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন ওই রায়েরই ধারাবাহিকতা। সবশেষ তুরাগ নদ নিয়ে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দফায় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ যে রায় দিয়েছেন, তা আগের যে কোন রায় থেকে নানা কারণে সতন্ত্র। প্রথমত, এই প্রথম দেশের একটি নদীকে ‘আইনি সত্তা’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বহমান তুরাগ নদ সুরক্ষিত থাকার অধিকার আরও সংহত হলো। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এর আগে কলম্বিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতে একই ধরনের ঘোষণা এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের রায় এক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট।’ নদীকে সত্তা হিসাবে ঘোষণা কেবল প্রতীকী নয়, উচ্চ আদালত এই প্রথম জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে দেশের সবনদী ও জলাশয় গুলোর অভিভাবক ঘোষণা করেছেন। এগুলোর সুরক্ষা তাদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক’ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নিধিরাম সর্দার। কমিশন শুধু সুপারিশ ও পরামর্শ দিতে পারে। এর বাইরে এর কোন কার্যনির্বাহী ক্ষমতা নেই। তারপরও বলল, উচ্চ আদালতের এই দিক নির্দেশনা যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে। এই রায় একটি মাইলফলক। সরকারকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে। আমরা আশা করি সরকারি নীতিনির্ধারণে আন্তরিকতার অভাব নেই।
সম্প্রতি সরকার ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ছাড়াও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী দখল ও দূষণমুক্ত করে নাব্যতা ফেরাতে ১০ বছর মেয়াদী একটি মহাপরিকল্পনার খসড়া চুড়ান্ত করেছে। নদীগুলোকে দখল-দূষণমুক্ত করে নাব্যতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই টাক্সফোর্সে কমিটিতে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। এই কমিটি একটি ১০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যান উপস্থাপন করবে। এই প্ল্যানে ক্রাস প্রোগ্রাম, স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় ভাগ করা হয়েছে।
আমরা নদী বাঁচাতে মহা পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু সংকিতও বটে। অতীতে দেখা গেছে সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা, মহা পরিকল্পনা লাল ফিতার দৌরাত্বে স্থিমিত শুধু হয়ে যায় নি অনেক ক্ষেত্রে পচে গলে দুর্গন্ধও ছড়িয়েছে। আমরা চাই না বিশ্ব দরবারে ‘বাংলাদেশ নদীর মৃত্যুর দেশ’ বলে খ্যাত হোক। নদী বাঁচানোর জন্য দেশিয় উদ্যোগকে যেমন গতিময় করতে হবে তেমনি প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে বিদ্যমান নদী সমস্যা মেটানোর জন্য বন্ধু দেশগুলোকে চাপ দিতে হবে। ভারত ফারাক্কায় তিস্তা, ফেনি ইত্যাদি নদী হতে এক তরফা পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে প্রকারান্তে বাংলাদেশের নদীগুলোকে মৃত্যুর দিকে টেলে দিচ্ছে। দেশি নদীগুলোতে এখন কান্নার শব্দ ভেসে বেড়ায়। নদীগুলোর বুক জুড়ে ধু ধু বালুচর পক্রিয়া বেড়েই চলেছে। অন্য দিকে আমাদের অবিবেচক মনবৃত্তির কারণে দেশের নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণে প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে। আমাদের এখই আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে।

লেখক : কবি, নিসর্গিক ও ব্যাংক নির্বাহী (অব.)