নতুন অভিবাসীদের গ্রামে রাখার পরিকল্পনা অস্ট্রেলীয় সরকারের

8

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নতুন অভিবাসীদের সিডনি ও মেলবোর্নের বাইরে রাখার একটি পরিকল্পনা হাজির করেছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। বড় দুই শহরের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে অন্যান্য এলাকাগুলোর উন্নতিতে এ নীতির কথা ভাবা হচ্ছে বলে মঙ্গলবার দেশটির জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালান টুজের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। টুজ বলেছেন, নতুন অভিবাসীদের ভিসায় সরকার এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিতে পারে, যাতে কিছু অভিবাসীকে কোনো কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকতে হতে পারে। পরিকল্পনাটি কার্যকর করা যাবে কি না এবং যে উদ্দেশ্যে এটি প্রয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে, তা অর্জিত হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন অনেক বিশ্লেষক। বিবিসি বলছে, অস্ট্রেলিয়ার মোট আড়াই কোটি জনসংখ্যার দুই-পঞ্চমাংশেরই বাস সিডনি ও মেলবোর্নে। দেশটিতে গত বছর জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার ছিল এক দশমিক ছয় শতাংশ।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বিশ্বের ৭৭তম দেশ হলেও এ হার ওইসিডিভুক্ত (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন ও ডেভেলপমেন্ট) দেশগুলোর মধ্যে বেশি, বলেছে বিশ্ব ব্যাংক। অস্ট্রেলীয় সরকার মনে করছে, অভিবাসনের কারণেই জনসংখ্যা এভাবে বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এ অভিবাসীদের বেশিরভাগই মেলবোর্ন, সিডনি ও দক্ষিণ-পূর্বের কুইনসল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেন, যা শহরদুটির অবকাঠামো ও স্থান সংকুলানের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও জানিয়েছে তারা।

এ হারে চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ মেলবোর্ন ও সিডনির প্রত্যেকটিতে বাসিন্দা সংখ্যা ৮০ লাখ পেরিয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। “নতুন অভিবাসীদের কিছু অংশকেও যদি ছোট রাজ্য ও অন্যান্য এলাকাগুলোতে সরিয়ে নেওয়া যায় তাহলে তা আমাদের বড় দুটি শহরের ওপর চাপ কমাবে,” মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তৃতায় বলেন টুজ। পরিকল্পনাটির বিস্তারিত না জানালেও ‘ভৌগোলকি প্রয়োজনেই, অন্তত কয়েক বছরের জন্য এ ধরনের’প্রকল্প চালু করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিবাসীরা গ্রামাঞ্চলেই স্থায়ীভাবে বাস করতে চাইবেন এমন আশা থেকে তাদের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে, বলেন এ জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রী। পারিবারিক কিংবা নিয়োগকারীর সূত্রে পাওয়া অভিবাসীদের জন্য ভিসায় এ ধরনের শর্ত থাকবে না বলেও টুজ আশ্বস্ত করেছেন।