ঈদের টানা ছুটি

নগরী এখনো ফাঁকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

15

পবিত্র ঈদুল আযহার তিনদিনের ছুটি শেষে টানা দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হওয়ায় বন্দরনগরী এখনও অনেকটাই ফাঁকাই রয়েছে। রাজপথে লোকজনের ভিড় যেমন নেই, তেমনি নেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। ফলে, নিত্য যানজটের যন্ত্রণাকর দৃশ্যও উধাও। বিনোদন কেন্দ্রগুলো বাদে প্রায় সর্বত্র নিষ্প্রাণ ও কোলাহলমুক্ত যেন এক অচেনা শহর। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আগামীকাল রবিবার থেকে নগরে পুনরায় প্রাণ ফিরতে শুরু করবে বলে মনে করছেন অনেকে।স্বাভাবিক সময়ে এমনিতেই শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগরীতে মুখরতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অফিস-আদালত এবং অধিকাংশ কল-কারখানা বন্ধ থাকায় সড়কে কর্মস্থলগামী মানুষের মিছিল নামে না। তবে, দুপুর গড়াতেই রাজপথে গণপরিবহনের চলাচল বাড়ে। ছুটির বিকালে পতেঙ্গা ও কাট্টলী বাংলাবাজার সমুদ্র সৈকত, ফয়’সলেক সী ওয়ার্ল্ড, চিড়িয়াখানা, প্রজাপতি পার্ক ও শহরের অনতিদূরের পার্কি সৈকতমুখী মানুষের চলাচল চোখে পড়ে। কিন্তু ঈদের ছুটির পর গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিনোদনকেন্দ্রমুখী মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। টানা পাঁচদিনের ছুটি পেয়ে অধিকাংশ মানুষ নগর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ে চেনা দৃশ্যেও তাই ছন্দপতন ঘটেছে বৈকি! নগরীর প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনভর স্বল্প সংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধই রয়েছে। ব্যস্ততম জিইসি, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, টাইগারপাস,
আগ্রাবাদ, বন্দর, বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি ও চকবাজারসহ সন্নিহিত বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট বলতে গেলে অনেকটা ফাঁকাই দেখা গেছে। গণপরিবহনের সংখ্যা খুব একটা নেই বললেই চলে। সড়কমোড়ে নেই পরিবহন শ্রমিকের হাঁকডাক। ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাও নগন্য। তবে, সিএনজিচালিত অটোরিক্শার পাশাপাশি প্যাডেলচালিত রিক্শার দেখা মিলেছে প্রায় সব সড়কে। কোন কোন সংযোগ সড়কের মুখে দেখা গেছে নিষিদ্ধ ব্যটারিচালিত রিক্শার জটলা। ঈদ বকশিসের অজুহাতে এসব রিক্শা ও অটোরিক্শার চালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে র‌্যাব-পুলিশের টহলও পরিলক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত ও বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুলিশ সদস্য ছাড়াও নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছেন। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও চমেক হাসপাতালসহ নগরের কয়েকটি স্থানে ফার্মেসী এবং বাস স্টেশনকেন্দ্রিক খাবারের দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে।
আগ্রাবাদ মোগলটুলী এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন পূর্বদেশকে বলেন, ঈদের দিন নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ঈদের জামাত পড়েছি। পরে বিকেলের দিকে নানার বাড়ি আনোয়ারায় গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে রাতেই শহরে ফিরতে হয়েছে। কেননা, আমরা বাড়ির মালিক। বাড়ির বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া থাকেন। ঈদে সবাই গ্রামের চলে যাওয়ায় বলতে গেলে পুরো বাড়ি ফাঁকাই রয়েছে। তাই, এখন অনেকটা পাহারাদারের কাজ করছি।
নানা সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৬০ লাখ নগরবাসীর দুই-তৃতীয়াংশই নগর ছেড়েছেন। তবে, নগরীর স্থায়ী বাসিন্দারা এখানেই ঈদ উদযাপন করেছেন। এছাড়াও জরুরি সেবাদানকারী সরকারি -বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাদের ছুটি মেলেনি কিংবা অন্য কোন কারণে যারা ঈদে বাড়ি যেতে পারেন নি; তারাও শহরেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে কোথাও কোন অপ্রীতিকর কিংবা অনাকাংখিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার মত দীর্ঘ ছুটিতে নগরী আসলে পুরোটাই ফাঁকা হয়ে যায়। বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলো পরিবারের সদস্যদের সাথে উদযাপন করতে নাড়ির টানে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায় কাজের প্রয়োজনে নগরে অবস্থানকারী অধিকাংশ মানুষ। ছুটি শেষে সকলে ফের নগরমুখী হবেন। কাজের টানে তাদের পুনরায় শহরে ফেরার মধ্য দিয়েই বন্দরনগরী ফিরে পাবে কোলাহলমুখর চিরচেনা রূপ।