নগরীতে ভাতের হোটেলে বসে অনলাইনে জুয়া!

রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে গ্রেপ্তার ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

18

উচ্চ আদালত থেকে ঢাকা মহানগরীর অভিজাত ১৩ ক্লাবসহ সারাদেশে সবধরনের জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণার একদিন পর নগরীতে ভাতের হোটেলে বসে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ৩০ ধারায় মামলা দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. শিপু (৩২), ইমান আলী মিঠু (৩০), আমজাদ হোসেন রুবেল (২৯), মো. ইদ্রিস (৪০), মো. শাহ আলম (৩১), মো. ওসমান (৩৭), আব্দুল সফুর ওরফে নয়ন (৩০), মো. রানা (২৬), বিপ্লব চৌধুরী (৩২), মো. রায়হান ইসলাম (৩১), মো. ফারুক (২৫), বেলাল উদ্দিন (২৭), মো. সানি (২৩), রাজু বণিক (২০), আব্দুল ওয়াহেদ (২৬), নজরুল ইসলাম (৩০)।
অভিযান পরিচালনাকারী কোতোয়ালি থানার এসআই সজল দাশ জানান, গত বুধবার দিবাগত রাতে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মার্কেটের পাখি গলির জনৈক ইদ্রিসের মালিকানাধীন ভাতের হোটেল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ওই হোটেলে জড়ো হয়ে অনলাইনের মাধ্যমে জুয়া খেলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে। যা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী অপরাধ। অনলাইনে একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এ জুয়া খেলা হত।
এর আগে গত ১০ ফেব্রæয়ারি ‘জনস্বার্থে’ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনে ভিত্তিতে হাইকোর্টের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের দ্বৈত বেঞ্চ সারাদেশে সব ধরনের জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ে দেশের কোথাও ‘জুয়ার উপকরণ’ পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা জব্দেরও নির্দেশ দেয়া হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়, যেসব খেলার ফলাফল দক্ষতার বদলে ‘চান্স’ বা ভাগ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়, সেগুলোই জুয়া খেলা। হাউজি, ডাইস, ওয়ান টেন, চরচরির মত খেলাগুলো দক্ষতার পরিবর্তে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। আইনে এসব খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।