অভিনন্দন চসিক মেয়র

নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আরো উদ্যোগী হতে হবে

14

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের চার বছর পূর্তি আজ। ২০১৫ সালে এপ্রিলে নির্বাচনের পর জুলাই মাসের ২৬ তারিখ তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, ক্লিন ও গ্রিন সিটি সর্বোপরি ম্যাগাসিটিতে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন। গত চার বছরে তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, নাগরিক প্রত্যাশা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে-এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। যেহেতু এটি শেষ মেয়াদ তদুপরি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী বছর সেহেতু গত চারবছরের কাজের উপর ভিত্তি করে রচিত হবে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। এ অবস্থায় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মেয়রের গত চারবছরের কার্যক্রম আলোচনা ও মূল্যায়নে নগরবাসী অধিকার রাখেন। আমরা দেখেছি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের চারবছর পূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামের দৈনিকসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দৈনিক পূর্বদেশ চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন, সংস্কারে চসিক প্রণীত প্রকল্প গ্রহণ, একনেক কর্তৃক অনুমোদন, বাস্তবায়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে মেয়রের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন যে প্রতিশ্রুতি তিনি নগরবাসীকে দিয়েছেন সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী যা সম্ভব তার অধিকাংশই তিনি বাস্তবায়নে সচেষ্ট ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকেও আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি প্রকল্পের অনুমোদন ও বরাদ্দ পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি । তাঁর মতে, সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দায়িত্ব পালনের ১৫ বছর ও মোহাম্মদ মনজুর আলমের ৫ বছরসহ মোট ২০ বছরে সিটি কর্পোরেশন প্রকল্প পেয়েছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার। আর মেয়র আ জ ম নাছিরের ৪ বছরে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে ৫ হাজার ৩০৬ কোটি টাকার। এছাড়াও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প। মেয়র মহোদয়ের বক্তব্যের সাথে আমরা সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে বলতে চাই, সময়ের বাস্ততায় এ বরাদ্দ দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক নগরীর জন্য আদৌ কী যথেষ্ট? আমরা জানি, চট্টগ্রামের উন্নয়নে মেয়রের আন্তরিকতার কোথাও ঘাটতি নেই। তিনি তার সাধ্যের সবকিছু করার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন। নগরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন ও সংস্কার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এরপরও কিন্তু নগরবাসীর যে দুঃখ জলাবদ্ধতা ও যানজট, তা এখনও সেই তিমিরই রয়ে গেছে। ফলে নগরবাসীর কাছে মেয়রের দায় এখনও অসম্পূর্ণই থেকে গেল। যদিও নানা কারণে এ দায় মেয়র এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু নগরবাসী ভোটের হিসাবে এ অভিযোগ থেকে রেহাই দিবে বলে আমাদের মনে হয় না। আমরা মনে করি, আর যে একবছর সময় নগর সেবার জন্য মেয়রের হাতে রয়েছে-সেই সময়গুলো নগরবাসীর মৌলিক সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে হবে।
মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন একজন পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ নয় শুধু, তিনি পোড় খাওয়া রাজনীতিক, রাজনীতির নানা প্রতিকূলতা, চড়াইউৎরাই পার হয়েই তাকে বর্তমান অবস্থানে আসতে হয়েছে। আমরা জানি, এখানেও তার জন্য কন্টভমুক্ত আসন ছিল না, তাকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশে সাবধানে পা দিতে হয়েছে-সম্ভবত এখনও তাই। এ অবস্থায় মেয়র নগরীর উন্নয়ন, সংস্কার, আলোকায়ন ও পরিচ্ছনতার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য যে কাজগুলো করেছেন তা যথার্থই মূল্যায়নযোগ্য। আমরা জেনেছি, মেয়র ইতোমধ্যে শিক্ষার প্রসারে আরো বেশ কয়েকটি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ করেছেন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষকদের পদোন্নতি ও সিলেকশান গ্রেড বন্ধ থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি কলেজগুলোতে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ না দেয়াসহ উল্লেখিত সমস্যাগুলোকে সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষায় চসিক কলেজগুলোর আশানুরূপ ফল না হওয়ার কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, মেয়র তাঁর দায়িত্ব থেকে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আরো সক্রিয় ও উদ্যোগী হবেন। আমরা মেয়র আ.জ.ম. নাছিরের চারবছর পূর্তিতে তাঁকে এবং তাঁর সাথে নির্বাচিত পরিষদকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।