নওফেল পরিচয়ে ফোন করা প্রতারক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

46

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নাম ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রী শ্রাবণী দিশার সঙ্গে কথা বলা প্রতারক এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। মো. ওসমান (২৬) নামের ওই যুবককে সোমবার গভীর রাতে ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার ওসমানের বাড়ি খাগড়াছড়ির জেলার মানিকছড়ি হলেও থাকেন নগরীর ঝর্ণাপাড়া এলাকায়।
গতকাল মঙ্গলবার কোতোয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কর্মকর্তা শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, শিক্ষা উপমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী নাজিউর রহমান শিকদার ওরফে অনিক থানায় এসে অভিযোগ করেছিলেন, উপমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে কোনো ব্যক্তি ০১৮১২৭৬১৭০৩ ও ০১৭৮৫৬০৮৭০৫ মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ওসমানই ০১৮১২৭৬১৭০৩ নাম্বার থেকে ফোন করে নিজেকে নওফেল পরিচয় দেন আর ০১৭৮৫৬০৮৭০৫ নাম্বার থেকে ফোন করে নিজেকে উপমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। ওসমান গত ১৮ মে ০১৮১২৭৬১৭০৩ নাম্বার থেকে উপমন্ত্রী নওফেল পরিচয় দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রী শ্রাবণী দিশাকে ফোন করে কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল।
গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রাবণী দিশা তাকে ‘অপহরণের চেষ্টার’ অভিযোগ তোলেন।
দিশা সংবাদ সম্মেলনে জানান, শনিবার বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এস কে রিমা ফোন করে তাকে বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার সঙ্গে কথা বলতে চান।
তিনি বলেন, সন্ধ্যায় হাতিরপুলের একটি বাসায় আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন রিমা। কিন্তু তার আচরণ দেখে আমি বুঝতে পারি, উপমন্ত্রীর কথা বলে আমাকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমি বুঝে ফেলায় রিমা তড়িঘড়ি বের হয়ে যান। পরে আমরা জানতে পারি, উপমন্ত্রী নওফেল চীনে অবস্থান করছেন। ‘অপহরণের চেষ্টার’ অভিযোগে শাহবাগ থানায় জিডি করার কথা জানান তিনি।
প্রতারক ওসমান এর আগে গত ১০ মার্চ মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী এটলিকে ফোন করে পদ ধরে রাখতে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা রউফ বলেন, এটলির বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে আমরা ওসমানের সন্ধান পাই। পরে শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগ নেত্রী শ্রাবণীর করা সাধারণ ডাইরিতে যে নাম্বার থেকে নওফেল পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করার কথা বলা হয়েছে সেটির সাথে ওসমানের নাম্বারটির মিল পাই।
শ্রাবণীর সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ করা হয় ওসমান সে বিষয়েও পুলিশকে তথ্য দিয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা রউফ।
ওসমানের দেওয়া তথ্য মতে, একটি ফেসবুক আইডি থেকে নওফেলের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে বদরুন্নসা কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রী রিমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে যুক্ত হন তিনি। পরে তার সাথে আবার নওফেল পরিচয় দিয়েও কয়েকবার কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার পরে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণীর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে ওসমান নওফেলের ছোট ভাই সেজে ম্যাসেঞ্জারে রিমাকে জানান, শ্রাবণীর ওপর হামলার ঘটনায় নওফেল ব্যথিত হয়েছেন। এসময় রীমাকে শ্রাবণীর বাসায় গিয়ে নওফেলের সাথে কথা বলিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন ওসমান।
ওসমান পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে দারুল ফজল মার্কেটে আওয়ামী লীগের অফিসে যাতায়াত করতেন। সেখানে নেতাকর্মীদের আচরণ লক্ষ্য করে অনেকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতেন।
পুলিশ কর্মকর্তা রউফ বলেন, ওসমান তার ফেসবুক আইডি থেকে নিজেকে নওফেলের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের সাথে বন্ধুত্ব করে। বিভিন্ন কণ্ঠ নকল করে কথা বলতে পারে সে।

তিনি আরও বলেন, ওসমান নিজেকে নওফেল পরিচয় দিয়ে অন্যদের সাথে কথা বলার সময় বিশ্বাস অর্জন করতে নিজের ইমো আইডিতে নওফেলের নাম ও ছবি ব্যবহার করেছেন, যাতে কেউ তার নাম্বারটি সেভ করলে নওফেলের নাম ভেসে উঠে।