দূষণ

ধোঁয়া ধোঁয়া ধোঁয়া

30

পরিবেশ দূষণ বেড়েই চলছে। দিনের পর দিন এটি যেন মহা সংকটে রূপ নিচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসন দূষণ নিয়ন্ত্রণে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। এদের কাজ হচ্ছে সতর্ক করা এবং পরবর্তীতে জরিমানা করা। বহুক্ষেত্রে দূষণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নদী, শব্দ, আবর্জনা, বিষাক্ত ধোঁয়া কলকারখানার বর্জ্য ধেকে দূষণ যেন বন্ধ হবার নয়। এরই সাথেই বেড়ে চলেছে বাতাসে জীবন-ধারণের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর উপাদান। যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। মিল কারখানা, ইটভাটা পুরনো গাড়ি অহরহ বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গমন করে চলেছে। এ বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের পরিবেশ বিষাক্ত হবার পাশাপাশি জনজীবনের লেগে রয়েছে নানা রোগব্যাধি। পূর্বদেশে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় কিছু কিছু স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। অথচ সাকতানিয়া জাফর আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের পাশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে ১৭টি ইটভাটা। এসবের কালো বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধূলিকণার মধ্যে নাকানি-চুকানি খেয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। বায়েজিদ এলাকায় রি-রোলিং মিলগুলো কুন্ডলি পাকিয়ে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত ধোঁয়া ছুঁড়ছে আকাশে। যা বাতাসের সংস্পর্শে এসে আশপাশের এলাকাকে দূষিত করছে। এদের কোনো অবস্থায় দমানো যাচ্ছে না। ফলে আশপাশের আবাসিক এলাকার মানুষগুলো দূষণের যন্ত্রণার মধ্যে কালাতিপাত করছে।
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস দিয়ে ওরা প্রশাসনের সাথে বারবার আশ্বাসভঙ্গ করেই চলেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে চট্টগ্রামের ৪০৮টি ইটভাটার মধ্যে ৩১২টিই অবৈধ। অবাক ব্যাপার হচ্ছে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা না থাকলে এতোগুলো অবৈধ ইটভাটা কিভাবে গড়ে উঠছে। যার কারণে জমিই শুধু বৃক্ষশূন্য ন্যাড়া হচ্ছে না আবাদি জমির পরিমাণও হ্রাস পাচ্ছে। দূষণ ঘটছে কর্ণফুলী, হালদা, বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদ-নদীর। আশার বিষয় সরকার নদী দূষণ প্রতিরোধে অতি সম্প্রতি ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে একযোগে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কলকারখানার বর্জ্য, পলিথিনসহ নানান উচ্ছিষ্ট পরিবেশ বিপন্ন করছে।
পরিবেশ দূষণ মোকাবেলা করতে হলে সবার আগে আমাদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে সর্ব সাধারণের মধ্যে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা যেন নালা-নর্দামা ও খোলা জায়গা। ডাস্টবিন ব্যবহারে আমাদের আগ্রহ নেই। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবার আগে নিজেদের মধ্যে সচেতনতা দৃষ্টি করতে হবে। শিশু-তরুণদের শিখাতে হবে। সর্বক্ষেত্রে দূষণ প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক ঐক্য। এই ঐক্যই সর্বপ্রকার দূষণ থেকে দেশকে মুক্তি দেবে। ফলে আমরা সহজেই গড়তে পারবো দূষণমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত সোনার বাংলাদেশ।