ধেয়ে আসছে আম্ফান সতর্কতা অবলম্বন জরুরি

31

মহামারি করোনা ভাইরাস ভয়াবহ রূপলাভ করছে। আক্রান্তের সংখ্যা দেশে ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। ৩২৮ জনের অধিক মৃত্যুবরণ করেছে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে। এমতাবস্থায় বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে ‘আম্ফান’ নামক ঘূর্ণিঝড়। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ একপ্রকার অচল। দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তার উপর বঙ্গোপসাগরে আম্ফান নিম্নচাপটি সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাতে জানা যায়। এ ঘূর্ণিঝড়টি যেকোন সময় দেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে জনসাধারণকে রক্ষার স্বার্থে সরকার ও জনপ্রশাসন নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি ও সতর্কতায় হয়তো ঘাটতি নেই। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সবচেয়ে জরুরি জনসচেতনতা ও ব্যক্তিগত সতর্কতা। মানুষ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় গাছপালা ভেঙে, কাঁচাঘর ভেঙে মানুষ আহত হয়। কখনো কখনো এমন অবস্থায় মৃত্যুও ঘটে থাকে। তাই যেকোন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে জনগণকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদিতে মানুষের করার কিছু থাকে না। তবু সতর্কতা, সচেতনতা এসবের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখে। তাই দেশের মানুষের সংকটময় বর্তমান মুহ‚র্তে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ হতে রক্ষার জন্য আগাম প্রস্তুতি জরুরি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের খবর উপকূলীয় তথা দেশের মানুষের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। দেশের মানুষ আম্ফানের খবরে খুবই ভীত সন্ত্রস্ত। যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতিই প্রধান কাজ। দেশের মানুষ নানারকম ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ¡াসের সাথে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত। তবু অসতর্কতাজনিত কারণে অনেকে ক্ষতির সম্মুখিন হয়।
আমরা চাই সমগ্র দেশের মানুষ সতর্ক অবস্থানে থেকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলা করে নিরাপদে থাকুক। যতটুকু সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকুক। প্রকৃতিকে আমরা বহু অত্যাচার করেছি। কিন্তু আমাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রকৃতি আমাদের উপর মাঝে মাঝে প্রতিশোধ নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দেশের মানুষ যতবেশি সতর্কতা অবলম্বন করে ততবেশি নিরাপদ থাকতে পারে। মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে আমাদের আরজ করোনা ভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে তিনি যেন এদেশের মানুষকে রক্ষা করেন। আমীন।