স্ত্রীর দাবি ষড়যন্ত্র

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে কুতুবদিয়ার এক আইনজীবী কারাগারে

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি

8

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগের ভিত্তিতে কুতুবদিয়া আদালতের এক আইনজীবী ফিরোজ আহমদকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ভিকটিম হ্যাপি আকতারকে (১৬) পথের মধ্যে এক যুবক উত্ত্যক্ত করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দেয়ার জন্য উপজেলা গেইটস্থ জমজম হোটেলের ভেতরে ভাড়া বাসায় আইনজীবী ফিরোজ আহমদের নিকট ভিকটিম ও তার মা মাজেদা বেগম যায় ।
ঐ ঘটনার অভিযোগ লেখা অবস্থায় ভিকটিমের মা মাজেদা বেগম প্রাকৃতিক ডাকে বাইরে গেলে ভিকটিমকে একলা পেয়ে ফিরোজ আহমদ ধর্ষণের চেষ্টা করে। ভিকটিমের মা মাজেদা বেগম চেম্বারে এসে দেখে তার কন্যা কান্না করছে। এক পর্যায়ে এডভোকেট ও ভিকটিমের মার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তাদের চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী দোকানের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী গ্রামের আবদুল হাকিমের কন্যা ভিকটিম হ্যাপি আকতারকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার জয়নাল আবেদীন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ভিকটিমের মা মাজেদা বেগম বাদি হয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বলে কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত)আমিরুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেন। এডভোকেট ফিরোজ আহমেদ কুতুবদিয়া উপজেলা লেমশীখালী ইউনিয়নের বশির উল্লাহ সিকদার পাড়ার মৃত মোহাম্মদ আলী সিকদারের ছেলে।
কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস জানান, ধর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিছিল ও মানববন্ধন করলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ধর্ষককে (এডভোকেট ফিরোজ আহমদ) থানায় নিয়ে আসে। ভিকটিমের মা ফিরোজ আহমদকে আসামী করে এজাহার দিলে পুলিশ তাকে আটক করে। গত বুধবার সকালে কুতুবদিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামী ফিরোজ আহমদকে হাজির করা হলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
ঘটনার বিষয়ে এডভোকেট ফিরোজ আহমদের স্ত্রী শাহিন আরা বেগম দাবী করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী মহলের বিরুদ্ধে মামলায় আইনি লড়াই করায় তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি জুডিসিয়াল তদন্তের দাবী জানান।