ধরাছোঁয়ার বাইরে ৪৩ ইয়াবা গডফাদার

মূল হোতা সাইফুল করিম ও ইউসুফ বহাল তবিয়তে

রতন কান্তি দেবাশীষ

47

আত্মসমর্পণ না করা ৪৩ ইয়াবা গডফাদার এখনো অধরাই রয়ে গেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের খুঁজছে না। আত্মসমর্পণেরও কোনো ল²ণ নেই। ফলে ইয়াবা কারবার রোধ নিয়ে সন্দিহান অনেকে। তাদের ধারণা, ইয়াবার আরো বিস্তার ঘটতে পারে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন ইয়াবা কারিবারি আত্মসমর্পণ করেন। এসময় তিন লাখ পিস ইয়াবা ও ৩০টি এলজিও জমা দেন তারা।
অনেকের মতে, এটা ইয়াবার বড় কারবারিদের জীবন রক্ষার সাময়িক কৌশল মাত্র। বন্দুকযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচার কৌশল হিসেবে তারা নিজেরাই একটা পথ বেছে নিয়েছেন। আর যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ইতিমধ্যে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন তাদের পরিবার আবার এই ‘ধরা দেওয়ার’ ঘোর বিরোধী ছিল।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারির সংখ্যা ৭৩। এদের মধ্যে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদির ভাই-আত্মীয়-স্বজনও রয়েছেন। ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছেন ৩০ জন। এদের মধ্যে সাবেক এমপি বদির তিন ভাই, উপজেলা চেয়ারম্যানপুত্র, পৌর কাউন্সিলর, অর্ধডজন ইউপি সদস্যও রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ১০ জন ইয়াবা গডফাদার।
তারা হলেন, আকতার কামাল, একরামুল হক, শামশুল হুদা, ইমরান প্রকাশ পুতিয়া মিস্ত্রী, মো. কামাল, জিয়াউর রহমান, হাবিব উল্লাহ, মো. ইউসুফ জালাল বাহাদুর, মোস্তাক আহমদ মুছু ও বার্মাইয়া শামশু।
জানা যায়, ৪৩ জন গডফাদার এখনো অধরাই রয়ে গেছেন। মূল গডফাদাররাও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে সাইফুল করিম আত্মসমর্পণ করেননি। শুরুতে তার আত্মসমর্পণ করার কথা শুনা গেলেও শেষ পর্যন্ত যাননি। এ সাইফুল করিম ইয়াবার মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। হালিশহরের তার বাসা থেকে ১৩ লাখেরও বেশি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। মিয়ানমারের মূল এজেন্ট এই সাইফুল। ইয়াবা কারবার করে তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক। তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আরেক গডফাদার মো. ইউসুফও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। নগরীতে রেলের কুলি হিসেবে কাজ শুরু করলেও মাদক ব্যবসা করে তিনি কয়েকশ’ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
ইয়াবা গডফাদারদের খোঁজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও তেমন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজ খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ইয়াবা কারবারি যেই হোক রেহাই নেই। তাদের ধরা পড়তেই হবে। সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ প্রতিনিয়তই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। হয়ত আত্মসমর্পণ করতে হবে নয়তো পুলিশ খুঁজে বের করবে।
এদিকে মাদক কারবারিদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা বাঁচার সুযোগ দিতেই আপনাদের আত্মসমর্পণের আহবান জানাচ্ছি। আপনারা আসুন। সবকিছু জমা দিয়ে ভালো হয়ে যান। না এলে আপনাদের চরম পরিণতি হবে। ভয়াবহ অবস্থা অপেক্ষা করছে সামনে আপনাদের। গতকাল বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সেমিনার কক্ষে ‘মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলে বর্জনীয় ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স¤প্রতি টেকনাফে ১০২ জন শীর্ষ ইয়াবা কারবারি তাদের সরঞ্জাম জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা কথা দিয়েছেন, মাদকের কারবারে আর কোনোদিন তারা জড়িত হবেন না। আর হলেও তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এখন আমরা অনেক জেলা থেকে সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই আত্মসমর্পণ করতে আগ্রহী। আমরা জেলায় জেলায় যাবো। আর মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনব। কেউ না আসলে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। বাঁচার কোনো পথ থাকবে না।
অনেকের ধারণা, ইয়াবা গডফাদাররা অধরা থাকলে মাদক কারবার বন্ধ হবে না। উল্টো আরো বিস্তার লাভ করবে। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণেই চলে যাবে ইয়াবা ব্যবসা। ফলে তা আরো ভয়ঙ্কর হবে।