রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের উদ্যোগ

দ্রুত কার্যকর করতে হবে

11

স¤প্রতি দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে ক্যাম্পে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোনের সুবিধা সাত দিনের মধ্যে বন্ধ করে তা জানাতে দেশের সব মোবাইল অপারেটরকে নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। নির্দেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শুরু থেকেই মোবাইল ফোন সুবিধা না দেয়ার জন্য সব মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেয়া সত্তে¡ও তাদের হাতে সিম ও রিম ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়। শুধু তাই নয়, মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা নানা অপরাধসহ মিয়ানমার ফেরত সংক্রান্ত পরিকল্পনার ব্যাপারে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হচ্ছে-এমন সংবাদও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দেরিতে হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের টনক নড়েছে। এখন মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে গিয়ে এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর বিটিআরসিকে জরুরি নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
এ ক্ষেত্রে আমলে নেয়া দরকার যে, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, গুরুত্ব বিবেচনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে মোবাইল ফোন সুবিধা না পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকারী বিটিআরসির কমিটির কাছ থেকে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে সিম ও রিম ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে কমিশন। আমরা মনে করি, সঙ্গত কারণেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর জাতিহত নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিলেও, সেই রোহিঙ্গাদের কারণেই সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ- যা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জাতিসংঘ এবং বিশ্বের ক্ষমতাধর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রæতি দিলেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সংকট যেমন দূর হচ্ছে না, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা ভিডিও বার্তা আর সংবাদে রোহিঙ্গারা দ্রæত প্রভাবিত হচ্ছে বলে মনে করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি রোহিঙ্গা নির্যাতনের দুই বছর পূর্তিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অঘোষিত সমাবেশ সেখানে দেশীয় দা, কিরিচ ও লাঠিসোটা নিয়ে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে, কক্সবাজারবাসীসহ দেশবাসী এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনার পর আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা ভিডিও বার্তা আর সংবাদে রোহিঙ্গারা দ্রæত প্রভাবিত হওয়ার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কার বিষয়টিও সামনে আসছে। ফলে বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে আমরা মনে করি।
জানা গেছে যে, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আর খবর আদান-প্রদানে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে রয়েছে ইন্টারনেট ও উন্নত প্রযুক্তি। থ্রিজির পাশাপাশি কিছু ক্যাম্পে ব্রডব্যান্ড ও ডিশ সংযোগও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক অনলাইন টিভিতে সার্বক্ষণিক রোহিঙ্গাদের খবরও স¤প্রচার করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের রয়েছে ফেসবুক গ্রæপ ও পেজ। এসব গ্রæপ ও পেজে সার্বক্ষণিক ছবি, ভিডিও এবং লেখা আপলোড করা হচ্ছে। ফলে যেকোনো ঘটনাই মুহূর্তের মধ্যে সব রোহিঙ্গার কানে পৌঁছে যায়। আমরা বলতে চাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা ভিডিও বার্তা আর সংবাদে রোহিঙ্গারা দ্রæত প্রভাবিত হচ্ছে এমন বিষয় যখন আলোচনায় এসেছে, তখন এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগী হতে হবে। বলা দরকার যে, উখিয়া ও টেকনাফে নিবন্ধিত ৩৪টি ক্যাম্পের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার অর্ধেকের হাতেই রয়েছে মোবাইল ফোন। স্থানীয়দের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সিম নিবন্ধন করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী তা তুলে দিয়েছে তাদের হাতে। এসব সিম ব্যবহার করে অপরাধমূলক নানা কাজের অভিযোগ উঠেছে কিছু রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে- যা ভীতিপ্রদ।
আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে সামনে রেখে যেমন ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টা আব্যাহত রাখতে হবে, তেমনিভাবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যেকোনো সংকট বা নেতিবাচক পরিস্থিতি রোধে উদ্যোগী হতে হবে। এ ছাড়া কোনো ধরনের সহিংস পরিস্থিতি যেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীতে সৃষ্টি না হয়, এই বিষয়টিকে সামনে রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।