দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্ক, সান্ত্বনার জয়ে শেষ পেরুর বিশ্বকাপ মিশন

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

42

আগে থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে রেখেছিল ফ্রান্স। গতকাল ডেনমার্কের বিপক্ষে ড্র করার মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো ফরাসিরা। আর গ্রুপ রানার আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল ডেনমার্কও। রাশিয়া বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে গতকাল গোলশূন্য ড্র করেছে ফ্রান্স ও ডেনমার্ক। এর আগে ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে ও পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। আর ডেনমার্ক পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। একই গ্রæপের অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পেরু। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় পেরুভিয়ানদের। শেষ ম্যাচটা ছিল তাদের জন্য নিয়মরক্ষার। যদিও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেঁচে থাকার। এমন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে বিদায় নিল পেরুও।
‘ডি’ থেকে যে দল গ্রæপ রানার আপ হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। আর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হবে ডেনমার্ক।
‘সি’ গ্রুপের সব ম্যাচ শেষে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পেরু। আর এক পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে গতকাল ডেনমার্কের বিপক্ষে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। ৬৮ শতাংশ সময় ধরে তারা বল দখলে রেখেছিল। অন্যদিকে, ৩২ শতাংশ সময় ধরে বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ডেনমার্ক। ম্যাচের পুরো সময়টা জুড়েই ফ্রান্স অসাধারণ খেলা দেখিয়েছে। তারা বারবার আক্রমণে গিয়েছে। কিন্তু কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচে ফ্রান্স টার্গেটে শট নিয়ে তিনবার। আর ডেনমার্ক টার্গেটে শট নিয়েছে একবার।
এদিকে অন্য ম্যাচে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে পেরুর বিপক্ষে জিততেই হবে, এমন সমীকরণ সামনে নিয়েই একই সময়ে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া। সোচির ফিশ্ট স্টেডিয়ামে মাঠে নেমে উল্টো পেরুর মুহূর্মুহূ আক্রমণের মুখে প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। খেলার ১৮ মিনিটে আন্দ্রে ক্যারিলো অসাধারণ এক শটে বল জড়ান অস্ট্রেলিয়ার জালে। পরে ৫০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে পেরু। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
পেরু অধিনায়ক পাওলো গুয়েরেরো এই বিশ্বকাপে এই একটিবার মাত্র নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন। মাঝ মাঠ থেকে লম্বা এক পাসে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের সামনে বল রিসিভ করেন গুয়েরেরো। এরপর বলটি কয়েকজনকে কাটিয়ে বাম প্রান্ত থেকে পাস দেন ডান প্রান্তে। সেখানেই ক্যারিলো ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন। সেটিই জড়িয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়ার জালে।
প্রথমার্ধের ন্যায় দ্বিতীয়ার্ধেও পেরুর রক্ষণভাগে দারুণ চাপ সৃষ্টি করে খেলে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও একটি গোল হজম করে বসে সকারুজরা। প্রথম গোলে দারুণ অবদান ছিল পাওলো গুয়েরেরোর। দ্বিতীয় গোলটি তিনি নিজেই করেন। ত্রাউকোর সঙ্গে ওয়ান-টু করে বল নিয়ে এগিয়ে আসেন ফ্লোরেজ। আলতো চিপে বলটি গুয়েরেরোর কাছে পাঠিয়ে দেন ফ্লোরেজ। বল পেয়েই দারুণ এক ভলিতে অস্ট্রেলিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন গুয়েরেরো।
৬০ মিনিটে আজিজ অস্ট্রেরিয়ার বেহিচ দারুণ এক ভলি নিয়েছিলেন। কিন্তু বলটি বারের পাশ দিয়ে চলে যায় বাইরে। ম্যাচের বাকি ৩০ মিনিটও অস্ট্রেলিয়ার মুহূর্মুহু আক্রমণের তোড়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পেরু রক্ষণভাগকে। কিন্তু গোল আদায় করতে পারেনি অসিরা।
অথচ শুরু থেকে প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ের পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ, ৫৭ ভাগ বল দখলে ছিল অস্ট্রেলিয়ার আর ৪৩ ভাগ বল দখলে ছিল পেরুর। পেরুর জাল লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া শট নিয়েছে ৯টি। পেরু ৪টি। শট কাজে লেগেছে কেবল ২টি, তাও পেরুর।