ট্রেনের অগ্রিম টিকিট

দ্বিতীয় দিনে উপচেপড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

7

রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে চাকরি করেন হাবিবুর রহমান। কোরবানির ঈদে তিনি বাড়ি যাবেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ। এ জন্য চাই একটি টিকিট। টিকিটের জন্য তিনি বুধবার রাত ১০টায় হাজির হন রেলস্টেশনে। লাইনে দাঁড়িয়ে যান। আসার সময় গামছা নিয়ে এসেছেন। পরে সেটি বিছিয়ে শুয়ে পড়েন। রাতটা তার সেখানেই কাটে। সকালে তিনি টিকিট পেয়ে যান। এনিয়ে তার আনন্দ আর ধরে না। একইভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী মিজানুর রহমান। তিনিও রাতে দাঁড়িয়েছিলেন লাইনে। তিনিও টিকিট পেয়েছেন। এভাবে বুধবার রাতেই শত শত মানুষ স্টেশনে আসেন। কেউ পত্রিকা বিছিয়ে, কেউ কাপড় বিছিয়ে শুয়ে পড়েন। সারারাত কাটানোর পর সকাল থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলে লাইনে দাঁড়িয়ে যান সকলে। একের পর এক টিকিট হাতে পেয়ে যান তারা।
মিজানুর রহমান জানালেন, কষ্ট করলেও সার্থক হয়েছে। টিকিট পেয়েছি। সকলের সঙ্গে ঈদ করতে পারব।
গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন। এদিন বিক্রি হয় ১৮ আগস্টের টিকিট। ট্রেন স্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। তিল পরিমাণ জায়গা খালি নেই। টিকিট কিনতে আসা লোকে ছিল ঠাঁসা।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে ১০টি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ, তূর্ণা, মহানগর, সোনার বাংলা, মেঘনা, পাহাড়িকা, গোধূলী, উদয়ন, চট্টলা ও বিজয়।
১০টি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে আটটিতে অগ্রিম টিকিট এবং দুইটিতে নিয়মিত ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট কালোবাজারী রোধে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।
স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ১৮ আগস্টের টিকিট। ১০ থেকে ১২ আগস্ট বিক্রি হবে ১৯ থেকে ২১ আগস্টের টিকিট। একজন সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারছেন। সুবর্ণ ও সোনার বাংলা ট্রেনে আসনবিহীন টিকিট ইস্যু হবে না। অন্য ট্রেনগুলোতে যাত্রার দিন আসনবিহীন টিকিট পাওয়া যাবে।