বাকাসস’র কর্মবিরতি

দ্বিতীয় দিনও অচল দাপ্তরিক কার্যক্রম

9

দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবি ও বেতন গ্রেড স্কেল পরিবর্তনের দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত সহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) নেতৃবৃন্দের তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন গতকাল অতিবাহিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন কর্মস্থলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চত্বরে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে টানা তিন দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।
গত মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। কর্মবিরতির কারণে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সকল শাখায় দাপ্তরিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। এডিএম কোর্টের ধার্য তারিখের মামলার কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। ফ্রন্ট ডেস্কসহ অন্যান্য শাখাগুলো ফাঁকা থাকার কারণে অফিসগামী সেবা প্রার্থীরা আবারও বেকায়দায় পড়েন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসের কোন ফাইল নড়েনি। গতকাল বুধবার পূর্ণ দিবস কর্মসূচি পালনকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হয়।
বাকাসস চট্টগ্রাম জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি স্বপন কুমার দাশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এসএম আরিফ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি স্বদেশ শর্মা, আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক উদয়ন কুমার বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জামাল উদ্দিন, নুরুল মুহাম্মদ কাদের ও চৌধুরী নিউটন বড়ূয়া, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এসএম আরিফ হোসেন, মো. আইয়ুব, তেজেন্দ্র দেবনাথ, স্বরাজ আচার্য্য, প্রদীপ কুমার চৌধুরী, কাজলী দেবী, সুফিয়া বেগম, এমএ হাশেম, আবদুল মন্নান, বেগম সাদিয়া নুর, উত্তম কুমার ভট্টচার্য্য, সফিউল আলম, জাহাঙ্গীর আলম, রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, শোয়াইব মো. দুলু, মিশন কান্তি নাথ, অপর্ণা দাশ, আরমান চৌধুরী, বিদ্যুৎ দেবনাথ, বিপ্লব পাল, সাইদুল ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ এরশাদ আলম, শুভ্রা চাকমা, আলী আজম খান, কানু বিকাশ নন্দী, ফজলে আকবর, মহিউদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল মোমিন, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আবদুল মন্নান, সৈয়দ মো. এরশাদ আলম, সাহেদুল ইসলাম, অপর্না দাশ, সফিউল আলম, মো. মহসীন, রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, সাইদুল ইসলাম, মো. খোরশেদ, পরাগ মনি, কামরুল ইসলাম, হেলাল হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সচিবালয়ের একজন কর্মচারী ১৬ গ্রেডে চাকরিতে যোগদান করে ৫ বছর পর ১০ গ্রেডে পদোন্নতি পান। আর সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রনালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে ১৬ তম গ্রেডে যোগদান করে অনেকে সহকারী সচিব হয়ে চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন। ইসিতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে এক লাফে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি প্রদানেরও নজির রয়েছে। রাজউকে ইউডি পদে ৮ বছর চাকরি করলে অফিস সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, হিসাব রক্ষণ অফিস, সিএমএম কোর্ট, কৃষি বিভাগ, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় অফিস সমূহে সমপদের বিভিন্ন পদের পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন করা হয়। শুধুমাত্র ইউএনও, ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত অফিস সহকারীগণ চাকরিতে জীবন শেষেও কোন পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন।
তারা বলেন, সহকারীদের ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায় না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, এসডিজি বাস্তবায়ন ও রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত সহকারীদের মনোবল সতেজ না রেখে কাজের গতিশীলতা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। তারা বিভিন্ন দপ্তরের ন্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত সহকারীদের উত্থাপিত দাবি দাওয়াসমূহ দ্রূত বাস্তবায়নের জন্য জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়কে উদাত্ত আহবান জানান এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে মুজিব বর্ষে সহকারীদের মর্যাদার দাবি বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। বিজ্ঞপ্তি