দেয়াঙ, শিল্প সাহিত্যের অপূর্ব সৌন্দর্যের কথন

হোসনেয়ারা শেলী

4

কবি ও কথাসাহিত্যিক মাহমুদ নোমানের সুসম্পাদিত ‘দেয়াঙ’ এর শারদীয় সংখ্যা হাতে পেয়ে ক’দিন থেকেই লিখব লিখব করেও ব্যস্ততায় লেখা হয়ে উঠছিলো না। যদিও শুভ সংখ্যা আমার পড়া হয়নি। তারপরও ধরেই নিয়েছি শারদীয়া সংখ্যার মতো শুভ সংখ্যাটিও ভাল হয়েছে। এটি পরিবার পাবলিকেশন্স-এর প্রতিষ্ঠান এক্সিকিউট প্রিন্টার্স থেকে ডিজাইন ও মুদ্রিত হয়েছে। রাজদীপ পুরীর অভূতপূর্ব একটা প্রচ্ছদ মনে হয়েছে আমার। মূলত প্রচ্ছদ দেখেই ‘দেয়াঙ’ পড়বার আকাক্সক্ষা বেড়ে গেছে।
এবারের সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে গল্প, কবিতা, গুচ্ছ কবিতা, অণুগল্প, অনুবাদ কবিতা, বইয়ের পৃথিবী দিয়ে। শুরুতেই সম্পাদক মাহমুদ নোমান তার স্বভাব সুলভ ভাষায় শুভেচ্ছা বক্তব্যটি ছিলো অর্থবহ। অল্প কথায় এখনকার সাহিত্যের হাল হাকিক্বত বুঝিয়ে দিলেন অকপটে। বই এবং সাহিত্য পত্রিকার পার্থক্য হলো বই পড়ে অনেক সময় বোরিং ফিল হতে পারে। কিন্তু সাহিত্য পত্রিকা পড়ে তা কখনও মনে হয়না। বেশ কয়েক জন কবি’র গুচ্ছকবিতা দিয়ে সাজানো পত্রিকাটি। মাহমুদ নোমান প্রতিজনের গুচ্ছকবিতার শুরুতে সুন্দর পাঠ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। প্রতিক্রিয়াগুলো পড়লে কবির সৃষ্ট সাহিত্য সম্পর্কে আপনার একটা স্বচ্ছ ধারণা হবে। মোটামুটি সবই ভাল লেগেছে। তবে কিছু লেখা আছে উল্লেখ না করলেই নয়। কবি, প্রাবন্ধিক শিবলী মোকতাদির ও কবি, প্রচ্ছদশিল্পী রাজদীপ পুরীর কবিতাগুলো বিশেষভাবে আমার ভালো লেগেছে। কবি সুলোচনা বর্মা’র হিন্দি কবিতাগুচ্ছ অনুবাদ করেছেন মিতা দাস। অসম্ভব ভালো লেগেছে তিনটি কবিতাই। এছাড়াও রুদ্রাক্ষ রায়হান এর ‘কীর্তনখোলা’, রেহেনা মাহমুদ এর ‘অভিশাপ’, শ্যামশ্রী রায় কর্মকার এর ‘পুরনো স্মৃতি থেকে’, আরিফুর রহমান এর ‘পথের উত্তরাধিকার’, মোহাম্মদ জসিম এর অণুগল্প ‘হ্যালোইন’, ইয়ামিন ইয়ান এর ‘অচেনা কষ্ট’ ভাল লেগেছে। কয়েকটি গল্প আছে বেশ ভাল। আসলে অনেক লেখার ভীড়ে আলাদা করে বলা সম্ভব নয়। পাঠক পড়লেই বুঝতে পারবেন। আমি তো পরবর্তী বইমেলা সংখ্যার অপেক্ষায় আছি। পাঠতৃষ্ণা আমার বেড়ে গেছে। অচিরেই দেয়াঙ বাংলাসাহিত্যে নতুন অধ্যায় রচিত করবে নির্দ্বিধায় বলা যায় এখনি। নিরন্তর শুভ কামনা ‘দেয়াঙ’ এর জন্য।

সম্পাদক : মাহমুদ নোমান
প্রচ্ছদ : রাজদীপ পুরী
প্রকাশ: চট্টগ্রাম, আনোয়ারা সদর থেকে
মূল্য: ৭০ টাকা