ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি

দেড়ঘণ্টা বিকল সার্ভার, চরম ভোগান্তি টিকিট প্রত্যাশীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

4

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় রেল স্টেশনে এসেছিলেন সিলেটের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ। তিনি ঈদের আগে ১৯ আগস্ট বাড়ি যাবেন। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটতে এসে সারা রাত অপেক্ষার পর এলো টিকিট পাওয়ার সময়। কিন্তু না, সকাল ৮টায় কাউন্টার খুলতেই লেগে গেল গণ্ডগোল। সার্ভার বিকল, টিকিট দেয়া যাচ্ছে না। শুরু হয়ে গেল হৈ চৈ। কয়েক হাজার মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি। এভাবে দীর্ঘ দেড়ঘণ্টা অচল ছিল সার্ভার। সকাল পৌণে ১০টার দিকে সার্ভার সচল হওয়ার পর টিকিট দেয়া শুরু হয়। এ নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় টিকিট প্রত্যাশীদের।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৯ আগস্টের টিকিট। বৃহস্পতিবার রাতেই ভিড় জমে স্টেশনে। ৯টার পর থেকে টিকিট প্রত্যাশীরা আসতে থাকে। ১০টার মধ্যে এসে যান কয়েকশ’ লোক। এসব লোকেরা কাউন্টারের সামনে থেকে গামছা বা পত্রিকা বিছিয়ে বিছানা পাতে। সেখানেই শুয়ে পড়েন তারা। সারা রাত মশার কামড় খেয়ে সকালে দেখেন সার্ভার বিকল। রাতভর অপেক্ষায় থাকা লোকজন কাউন্টারের সামনে গিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়ে। স্টেশনে উপস্থিত সকলে চিৎকার শুরু করে দেন। পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী কেউ তাদের থামাতে পারছিল না।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ফাইবার অপটিক লাইন কাটা পড়ায় সার্ভার সচল ছিল না। তাই সকালে নির্ধারিত সময়ে টিকেট বিক্রি শুরু করা সম্ভব হয়নি। এখন স্বাভাবিক নিয়মে টিকেট বিক্রি চলছে।দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার কাউন্টার থেকে লাইন ছিল দীর্ঘ। কিছুক্ষণ বিশৃঙ্খলা হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সকাল পৌণে ১০টার দিকে সার্ভার সচল হলে টিকিট দেয়া শুরু হয়।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে ১০টি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ, তূর্ণা, মহানগর, সোনার বাংলা, মেঘনা, পাহাড়ীকা, গোধূলী, উদয়ন, চট্টলা ও বিজয়।
১০টি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে আটটিতে অগ্রিম টিকিট এবং দুইটিতে নিয়মিত ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট কালোবাজারি রোধে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৯ আগস্টের টিকিট। আজ ও কাল বিক্রি হবে ১৯ থেকে ২১ আগস্টের টিকিট। একজন সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারছেন। সুবর্ণ ও সোনার বাংলা ট্রেনে আসনবিহীন টিকিট ইস্যু হবে না। অন্য ট্রেনগুলোতে যাত্রার দিন আসনবিহীন টিকিট পাওয়া যাবে।