দেশ ডিজিটালাইজ হলে মানুষ বেকার হয়ে যাবে, এটা ঠিক না

ফজলুল হক

57

আমার কাছে সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, আপনি যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের পক্ষে? আমি বিজনেস সম্পর্কে কিছু কিছু বিষয় জানি, যদিও আমাকে দেখতে ততটুকু স্মার্ট মনে হয়না। লেখক হিসেবে অখ্যাত। আমি বিজনেস ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। ওই বিষয়ে আমি আজীবন অধ্যাপনা করেছি। দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে ওই বিষয় আমি পড়িয়েছি। একবার এক তরুণ সাংবাদিক আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “স্যার, আপনি শিল্প কারখানাগুলিতে যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের পক্ষে? না, বিরুদ্ধে? যন্ত্রের ব্যবহার না বাড়ালে উৎপাদন বাড়বে কি ভাবে?” আমি তাকে বল্লাম, এখনতো বাবা, অনেকে অনেক কথা বলেন। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা শুনতে পাচ্ছি। এখন যারা স্কুলে কলেজে পড়ছে তারা ১০/১৫ বছর পর জব মার্কেটে আসবে। ধারণা করা হচ্ছে তারা “এআই” আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স এবং রোবটের সাথে চাকুরীর প্রতিযোগিতায় নামবে। আমরা যারা সিনিয়র সিটিজেন, আমাদের বুদ্ধি পরামর্শ অনেকে চান, মানুষ ভাবছে, আমরা এ ব্যাপারটি নিয়ে কি ভাবছি? একথা আমি বুঝতে পারি, চট্টগ্রামে জব এবং ক্যারিয়ার নিয়ে আমাদের কাজ করার তেমন স্কোপ বা সুযোগ নাই। আমার মনে হচ্ছেনা যে, ১০/১৫ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে জব মার্কেটে এআই ও রোবট রাজত্ব শুরু করবে। সময় নিবে। তবে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়বে। জঠিল কাজের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজন হবে। সব কাজই রোবট দিয়ে করানো যাবেনা। খরচ বেড়ে যাবে। আমাদের দেশে মানুষের শ্রম সস্তা। তবে একটা পরিবর্তন আসবে। কাজ পেতে হলে মানুষকে আরো বেশি দক্ষ হতে হবে। যন্ত্রগুলি আপগ্রেড হয়ে যাবে। স্মার্ট হবে। যে মানুষ কারখানায় যন্ত্রের সাথে কাজ করবে, তাকেও হয়ত একটি ডিপ্লোমা করে আসতে হবে। যেন সে স্মার্ট যন্ত্র চালনা, রক্ষণাবেক্ষণ সবই করতে পারে। এখন তো ক্লাস থ্রি- ফোর পর্যন্ত পড়ে অনেকে কাজ পাচ্ছে, সেটা হয়ত আর হবেনা। যন্ত্রের ব্যবহার আমরা ঠেকাতে পারবোনা। স্মার্ট যন্ত্রপাতির ব্যবহার অগ্রগতির অংশ।
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কোর্স কারিকুলাম এবং ক্লাসে শিক্ষকদের পাঠদান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে। যে শিক্ষক ব্যাপক প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বাণিজ্য করে, তাকে চিহ্নিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরাতে হবে। আগামী দিনের জব- প্লেস চ্যালেঞ্জিং হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ট্রেড বডি ও এমপ্লয়ারদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন ব্যবসার গতানুগতিক ধরন বদলে যাচ্ছে। ব্যবসার ধরন যে বদলে যাচ্ছে, সেটা এখন স্পষ্ট। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান- যেমন, ফেসবুক, আমাজন- তাদের দৃশ্যমান কোন পণ্য নাই। তারা শুধু একটা প্লাটফরম তৈরি করেছে। সে প্লাটফরম সারা বিশ্বের মানুষ ব্যবহার করছে। আমাদের তরুণরা ব্যবসাতে নতুন নতুন ধারনা নিয়ে আসছে। আমরা এগিয়ে থাকতে চাই। আমরা যারা সমাজের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করতে পারবো বলে মনে করি। আমরা তরুণদের বলবো, তোমরা সবসময় এগিয়ে থাকার কথা চিন্তা করবে। তোমার আগ্রহ তোমাকে পথ দেখাবে। যে বিষয়ে আপনার তুমুল আগ্রহ আছে, উদ্যোগ আছে, স্বপ্ন আছে- আর সে আগ্রহের জায়গা থেকে যদি আপনি আয়ের পথ বের করতে পারেন, তাহলে ক্যারিয়ার নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা। কর্ম ক্ষেত্রে যন্ত্রের ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে কিন্তু মানুষের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবেনা। যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে, সে বিষয়ে আপনি সাফল্য দেখাতে পারবেন।
অনেক পরিবর্তন আসবে, নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে, আপনি হাল ছেড়ে দেবেননা, লেগে থাকুন, আপনি একটা রাস্তা পেয়ে যাবেন। আপনার জব্ হয়ে যাবে। ধরুন, আপনি ভাল ডিজাইন করতে পারেন, আপনি একটা বাড়ির ডিজাইন করতে পারেন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতে পারেন, আসবাবের ডিজাইন করতে পারেন, আপনাকে আয়ের জন্য চিন্তা করতে হবেনা। ২০ বছর পর কি হবে, তা আপনি জানেন না, আমিও জানিনা, কিন্তু তারপরও আমরা পরিকল্পনা করি, সামনে তাকাই, ভবিষ্যতমুখী হই।
আমাদের কাছে অনেক তরুণ ক্যারিয়ার বিষয়ে বুদ্ধি পরামর্শের জন্য আসে। তারা বলে, আপনারা কিভাবে চাকুরী পেয়েছিলেন? কতদিন হাঁটতে হয়েছিল? হ্যাঁ, আমরা তরুণদের পরামর্শ দিতে পারি। অনেকে এটা জানেনা। যারা পরামর্শ চায় আমি তাদের কথা শুনি। তাদের মনোভাব লক্ষ্য করি। তাদের মধ্যে আমি খুঁজি তার শেখার আগ্রহ আছে কিনা। এক ছেলে আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছে, সে প্রকৌশল পড়েছে। সে আমাকে বলেছে, চাকুরী পাচ্ছিনা, হতাশ লাগছে। এক মেয়ে এসেছে ব্যবসা প্রশাসন পড়েছে। আমি তাদের হতাশ হওয়ার কারন দেখিনা। পড়ালেখার ভিত ঠিক থাকলে কাজ বুঝতে সহজ হয়। দেখতে হবে তার শেখার আগ্রহ আছে কিনা। একজন তরুণকে দেখতে হবে, সে চাকুরী করতে কতটুকু আগ্রহী? আমার একটা অনুভ‚তির কথা বলি, অনেক তরুণ পেশাজীবীর সাথে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, তাদের কাছে কাজের প্রতি আগ্রহের চাইতে বড় বিষয় হয়ে গেছে টাকা। তারা রাতারাতি ধনী হতে চায়। শুধু আয়ের চিন্তা করলে টাকা আসবেনা। টাকা টাকা করলে টাকা আসবেনা। অনৈতিক পথে যেওনা। সে টাকা তোমাকে স্বস্থি দেবেনা।
এখন শিল্প বিপ্লব নিয়ে কথা হচ্ছে। হয়ত আগামী দিনে আমাদের কর্মক্ষেত্র প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাবে। তখন তরুণদের চাকুরী পেতে হলে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প কিছু থাকবেনা। যন্ত্র চালনা, রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে, এমন তরুণরা দ্রæত চাকুরী পাবে। তরুণদের নিজেদের কিছু স্বপ্ন থাকে। নিজের কিছু ইচ্ছে থাকে। সে তার ইচ্ছা পূরণ করতে চায়। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা, আমাদের মা বাবারা আমাদের জন্য পথ চলার ট্র্যাক রেখে গেছেন। উনারা অনেক কষ্ট করেছেন। তারা নিজে কষ্ট করে আমাদের কাজ শিখিয়েছেন। তারা অনেক কিছু অর্জন করেছেন। তারা সফল হয়েছেন। আল্লাহ, আমার বাবা, চাচাকে বেহশত নসীব কর। আমার বাবা দেশে স্কুল পর্যায়ে লেখাপড়া করেছেন। আমি দেশে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছি, পড়েছি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার ছেলে দেশে লেখাপড়া শেষ করে বিদেশে লেখাপড়া করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের চিন্তার ভিন্নতা আছে। আমি আমার চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন আমার কাজে দেখাতে পেরেছি কিনা, আমার ছেলে, তার স্বপ্নের প্রতিফলন তার কাজে দেখাতে পারবে কিনা- সে সব বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমাদের শিল্প কারখানার বিরাট অংশ এখনো ম্যানুয়াল, অটোমেটেড না। বেশি যন্ত্র আমরা ব্যবহার করিনা। এখানে প্রশ্ন দেখা দেয়, আমাদের যন্ত্রনির্ভর হওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা। পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আমাদের শ্রমের মূল্য কম। সবকিছু হয়ত স্বয়ংক্রিয় করা যাবেনা। মানুষ আর যন্ত্রের কাজের একটা সামঞ্জস্য তৈরি করতে হবে। তাতে ভাল ফল আসবে। যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ নিখুঁত হয়। মানুষকে কাজ দিতে হবে। দেশের প্রতি একটা দায়িত্ব বোধ আছে। কর্মসংস্থান করা ও একটি জরুরী কাজ। পরিবর্তন আনার আগে এসব নিয়ে ভাবতে হবে। আমার নিজের একটা পর্যবেক্ষণ হলো, ছোট ছোট শ্রমিকনির্ভর কারখানাগুলি বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় বাজারে টিকে থাকতে পারেনা। ফুল অটোমেটিক বড় কোম্পানী গুলি লো-কষ্টে মাল বাজারে ছাড়ে। কারন তারা যন্ত্র নির্ভর উৎপাদনের সুফল পায়। এভাবে ছোট ছোট শিল্প মার খায়।
আমাদের দেশে এখন মোট কত লোক মোটর গাড়ি চালায়? সঠিক সংখ্যা আমার জানান না থাকলেও এটা বলতে পারি যে আগামী ২ বছরের মধ্যে অনেক চালক, সোফার, ড্রাইভার চাকুরী হারাবে। রোবো-টেক্সি বাজারে আসতে ২ বছরের বেশি সময় লাগবেনা। অটো-ড্রাইভার জাতের গাড়ি বাজারে এলে গাড়ি চালানো খাতে কর্মসংস্থান কমে যাবে। টেশলা ইনকর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী ইরন মাস্ক বলেছেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। টেক্সাসে টেসলার জন্য বিশেষ চিপ্স তৈরি করেছে স্যামসাং। চিপ্সটি সব ধরনের গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে। ওয়েবকাট প্রেজেন্টেশনে সোমবার (২২/৪/১৯) এমন এক আগ্রাসী ও উচ্চভিলাষী লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন, ইলেন মাস্ক, তিনি বলেন, একটু দেরী হয়েছে, যারা আরো দেরী করবেন, তারা পিছিয়ে পড়বেন। ইলন- অটো ড্রাইভ গাড়ির একটি মাইক্রো চিপ্স উন্মোচন করেন। (সূত্র: দৈনিক আজাদী-২৫/৪/১৯)। আগামী দিনের গাড়িতে স্টিয়ারিং থাকবেনা।
আমরা রোবো- টেক্সির মতো স্মার্ট গাড়ির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। যখন এসব গাড়ি বাজারে আসবে অনেক চালক বেকার হবে। এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমি উপভোগ করতে পারবোনা, হয়ত আমার ছেলে উপভোগ করবে। তারা স্মার্ট ঘরে থাকবে। ভোরে ঘড়ি নিজ থেকে ওয়েক আপ্ কল দিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগাবে। বলবে, তোমার এয়ারপোর্টে যাবার কথা সকাল সাড়ে ৬টায়। ঘড়ি- গাড়িকে ম্যাসেজ করবে, রেডি হও, স্যার আসছেন। কিচেনকে ও বলা হবে, নাস্তা রেডি কর। গাড়ি গ্যাস স্টেশনে ম্যাসেজ পাঠাবে আমি আসছি। সিংগাপুরের ফ্লাইট থেকে নেমে তার বৌ দেখতে পাবে, তার স্বামী লাউঞ্জে অপেক্ষা করছে। এরকম জীবন উপভোগ করার জন্য আমার ছেলেকে এই দুনিয়াতে রেখে যাচ্ছি। আমার নাতি কি রকম লাইফ এনজয় করবে তা ভাবতেও পারছিনা। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি যন্ত্রের ব্যবহারের পক্ষে? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, ব্যবসা বানিজ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া যন্ত্র ও প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাবে। এটা ঠেকানো যাবেনা। মানুষ যাতে বেকার হয়ে না পড়ে- সে জন্য স্কুল কলেজে পড়া লেখার ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। দক্ষ লোক কাজ পাবে। অটোমেশন থামিয়ে রাখা যাবেনা। এখন গার্মেন্টস সেক্টর থেকে আমরা যে ফায়দা পাচ্ছি আগামী দিনে আউট সোর্সিং থেকে আমরা সে ফায়দা পাব। তাই এখন বিজনেস প্রসেসড আউট সোর্সিং “বিপিও” (ইচঙ) নিয়ে চিন্তা ভাবনা হচ্ছে। স্কুল কলেজের পরিচালনা পরিষদ বা ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয় কোন বিবেচনায় তা জানিনা। শিক্ষা সম্পর্কে কিছু জানেনা এমন লোককে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার কোন ভিশন নাই। সে কিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সামনে নিয়ে যাবে?সরকারকে এই যায়গাতে মণযোগ দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ক্লাশে যাবেন, যেন তিনি আগামীর সাথে লেনদেন করার মতো শিক্ষা দিতে পারেন। শিক্ষা অংশগ্রহণমূলক হতে হবে।
দেশকে ডিজিটালাইজ করার রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এটা ২০০৮ সালের আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসেছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তারা “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছে। এখনো করছে। আজ থেকে বিশ বছর পর মানুষ আওয়ামী লীগের ডিজিটালাইজেশনের কর্মসূচির কথা স্মরণ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ অগ্রসর দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে। ওই সময়ে আমার একটা বই বের হয়েছিল- “ডিজিটাল বাংলাদেশ”। আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামের কথা জানার আগে আমি বইটি লিখেছিলাম। তখন দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ, সুপ্রভাত বাংলাদেশে ছাপা আমার লেখা গুলি পড়ে দেখতে পারেন। দেশ ডিজিটালাইজ হলে মানুষ বেকার হয়ে যাবে এমন কোন কথা নাই। বরং “হাই এন্ড বিপিও” খাতে অনেক তরুণ ফ্রি ল্যান্সিং করে উপার্জন করতে পারবে। সম্ভাবনার দুয়ার খোলার চেষ্টা করবেন আপনারা। হতাশ হবেননা।আমাদের সরকার প্রযুক্তি-বান্ধব সরকার। আমরা যদি প্রযুক্তির অপব্যবহার না করি তাহলে আমাদের জব্ পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবেনা।

লেখক : সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
ঊ-সধরষ: ভধুষঁষযড়য়ঁবথ৭@ুধযড়ড়.পড়স