দেশ ও জাতির রত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

9

জামাল উদ্দিন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনা একটি অবিস্মরণীয় নাম এবং বহিবিশ্বের ইতিহাসে নারী নেতৃত্বের অসীম সাহসী বীরকন্যা। তাঁর অন্য পরচিয় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি ও চারবাররে প্রধানমন্ত্রী। আর বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাণপ্রতিমা। শেখ হাসিনার আজ ৭৪ তম জন্মদিন। ২৮ সেপ্টেম্বের, ভারত বিভক্তির সেই ১৯৪৭ সালে তখনকার গোপালগঞ্জ মহকুমার দক্ষিণে অবস্থিত এবং মধুমতি ও ঘাঘোর নদীবিধৌত গ্রামে নদীবেষ্টিত টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বনেদি শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর র্পূব পুরুষরা ছিলেন ইরাকি সুফি দরবেশ শেখ আউয়ালের উত্তরসূরি। প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে শেখদের বাংলাদেশে আগমন এবং এবং টুঙ্গিপাড়ায় সাড়ে তিনশ বছর স্থিতি। সেকেলে টুঙ্গিপাড়ায় বসতি স্থাপন করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাধিক্ষায় স্থানীয়দের ছাড়িয়ে যান। কোম্পানি আমলে এ অঞ্চলে নীলকরদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করে খ্যাতি অর্জন করেন শেখ পরিবার। এই শেখ পরিবারে শেখ আউয়ালের উত্তরসূরি শেখ আবদুল হামিদের ছেলে শেখ লুৎফর রহমানের আদরের নাতনি শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার শৈশব দিনগুলো কেটেছে টুঙ্গিপাড়ার সবুজ শ্যামল ছায়ায়। ঘরের পাশেই জল ছলছল খাল, খালে ফোটা শাপলা ফুল, গাবগাছে লুকিয়ে থাকা পাখপাখালি এবং অদূরে দাদাদের গড়া নানা স্মৃতি আজো তাঁকে আবেগতাড়িত করে। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তাঁরা। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। শুরু তাঁর শহরজীবন। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্ছ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন। শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬ দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচÐ দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তাঁর জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশংকা ও দুঃসহ দুঃখ-যন্ত্রনা। এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৪ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড.ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তাঁর প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৩ সালে সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
বাবা রাজনীতি করতেন মানুষরে জন্য। রাজনীতি করলে জেলে যেতে হয় , মানুষের ভালোভাসা পাওয়া যায়Ñ শেখ হাসিনা সেই আট বছর বয়সেই বুঝেছিলেন। শিক্ষাজীবনে এর প্রভাব পড়েছিল তাঁর উপর। কারণ পুরো পরিবারই রাজনৈতিক আবহে বিদ্ধমান। কিন্তু নারী শিক্ষাবান্ধব আজিমপুর গার্লস স্কুল, বদরুন্নেসা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ঠিকই করেছিলেন।
দেশ স্বাধীন হলো, পাকিস্তান থেকে বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন। বাংলাদশে তখন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। পাকিস্তানিরা শুধু বাংলায় পোড়ামাটি রেখে আত্মসর্মপণ করেছিল। বঙ্গবন্ধু দেশ পুর্নগঠনে আত্মনিয়োগ করলেন। জাতিসংঘের স্কীকৃতি আদায় করলেন। মিত্র সৈন্যদের দেশে পাঠালেন। দেশ রক্ষার জন্য ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করলেন ভারতের সঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দিলেন। কৃষক পরিবারের জন্য খাজনা মওকুফ ও সিলিং নির্ধারণ করলেন। যুদ্ধাপরাধদের বিচারের ধারা সংবিধানে প্রতিস্থাপন করলেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী ছিল তক্কে তক্কে। তারা অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছিল। ১৯৭৪-এ পিএলও-র খাদ্যশস্য এল না। একদিকে জাসদের উৎপাত অন্যদিকে হক, তোহা, ভাষা মতীন ও সিরাজ সিকদারদের নারকীয় তাÐব, এবং পাঁচ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের হত্যায় বঙ্গবন্ধু অস্থিও হয়ে পড়েন। কিন্তু‘ তিনি শান্তি কল্যান এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে একমঞ্চে শামিল হয়ে দেশ গড়ার আহŸান জানান। বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতি শেখ হাসিনার চোখের সামনেই ঘটেছে। তিনি এসব অবলোকন করেছেন।
১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশে তখন মোশতাক ও জিয়ার বদৌলতে হাফ পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা চলে গেছে সেনানিবাসে। গণতন্ত্র ও সংবিধান আস্তাকুড়ে। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে শেখ হাসিনা মানুষের অঙ্গীকার আদায়ে বিস্তর সংগ্রাম করলেন। তাঁর চতুর্দিকে স্বাধীনতা পক্ষের লোক ছাড়া সবাই শত্র-বিভীষণ। প্রতি মুহূর্তে তাঁকে মেরে ফেলারসমূহ উদ্যোগ। তাঁকে বাঁচতে হয়েছে পরম বিধাতা ও বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ বিশ্বাসী মানুষজনদের শক্তিসাহসের ওপর ভর করে। অতপর ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯০ সালের সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
অবশেেষ ১৯৯৬ সালে তাঁর আন্দোলন সফল ও সংগ্রামের প্রথম বিজয় হয়। একাত্তরের শত্র“দের পর্দার আড়ালে পলায়ন। এ যাত্রায় তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলোর ভিত রচনা করলেন এবং পরের পাঁচ বছর বাদে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণ করে তাঁর স্বপ্নগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ২৫ বছরের দীর্ঘ বিদ্রোহের অবসান ঘটান। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় দফায় বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। এরপর আসে সেই ভয়াল ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন।
বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের পর ২০০৮ সালে সালে ক্ষমতায় আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে সরাতে তৎপর হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরতে বাঁধা দিতে শুরু করে। তারপরও সমর্থকদের বিপুল বিক্ষোভের মুখে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ঐ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণা জাগিয়ে তোলারও চেষ্টা চালায়। ২০০৭ সালের সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে। কিন্তু, মিথ্যা মামলায় তার মত রাষ্ট্র নেতাকে আটকে রাখা যায় না। তাইতো, তারই নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে এবং এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে।
অতি সম্প্রতি তিনি মায়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকেই। পুনরুজ্জীবিত করেছেন সারা বিশ্বের মৃতপ্রায় মানবতাকে।
শেখ হাসিনা ঐ সময় বলিষ্ঠকন্ঠে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি তাহলে ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকেও খাওয়াতে পারব’। তিনি এমন একটা সময় এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন যখন সারা বিশ্বেই শরণার্থী ইস্যুতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল উন্নত দেশগুলো, যখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাবার ও সাহায্যের তীব্র অভাব প্রকট হয়ে উঠেছিল।
এর পরপরই জনগণ তার উদারতা এবং একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শরনার্থী সংকটে তার বলিষ্ঠ এবং সাহসী পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করে। জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেছেন। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে।
এছাড়া বিগত বছরগুলো পাহাড়ি সমস্যার সমাধান, পানি চুক্তি, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ পদ্মাসেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তররে খুনিদের বিচার এবং ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্র বিজয়, একুশকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে আন্তর্জাতিকব স্বীকৃতি, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু সেটেলাইট প্রেরণ, দেশের সকল প্রকারের উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা শেখ হাসিনারই অবদান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, আদর্শ দেশের মানুষকে ভালোবাসার জন্য তাঁর দিনরাত কাটে। দুর্যোগে-দুর্বিপাকে তিনি ঘুমান না। বৈরী পরিবেশেও প্রতিটি সেকেন্ডে, মিনিট ও ঘন্টা অতিবাহিত করেন দেশের মানুষের জন্য। তাইতো আমরা জোর গলায় বলতে পারি – তাঁর জন্মদিন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। তাঁর অভিযাত্রায় আমরা নতুন দিগন্তের সীমানা খুঁজে পাই। তিনি আমাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক ও গ্যেরব। তাঁকে ঘিরেই আমাদের জীবন। তাঁর দীঘল আঁচলের ছায়ায় বাংলাদশেরে পথঘাট, প্রান্ত এবং সজীব প্রাণিকুল। একারণইে তিনি লোকলক্ষী। দৃঢ় চিত্তের অধিকারী, দূরর্দশী ও প্রচন্ড আবেগময়ী শেখ হাসিনা। মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনলেই সেখানে দয়ার হাতটি বাড়িয়ে দেন তিনি।
মানুষকে খুশি করতে পারলেই তিনিও খুশি। মানুষের কল্যাণই তাঁর বড়ো ধর্ম। আর এদেশের মানুষও তাঁকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। এই ভালোবাসার কারণেই শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন। তবে, একটা ব্যাপার স্বীকার না করলে নয় যে, তার যে দৃঢ় মানসিকতা যার মাধ্যমে তিনি তার পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ড, নির্বাসনের জীবন, স্বৈরশাসকের দুঃশাসন, অসংখ্য হত্যাচেষ্টা, গৃহবন্দী জীবন মোকাবিলা করেছেন সেটা নাহলে বাংলাদেশ আরও অনেক খারাপ অবস্থানে থাকত সারা বিশ্বের উন্নয়নের চিত্রে।

লেখক : গবেষক ও প্রকাশক