করোনা ভাইরাস

দেশে আরও ৪২ মৃত্যু নতুন শনাক্ত ৩১১৪

12

একদিনে আরও ৪২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৬৮ জন।
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ১১৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনে। আইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৬০৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৬৮ হাজার ৪৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা শুক্রবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, বৃহস্পতিবার তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায়।
আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন তা পৌঁছে গেছে দুই হাজারের কাছাকাছি।
নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। ৩১ জন হাসপাতালে এবং ১১ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
এই ৪২ জনের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৭ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ছিল ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
তাদের মধ্যে ১৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪ জন রংপুর বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের এবং ১ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৮৫৫ জনের বয়স ছিল ৬০ বছর বা তার বেশি। ১২ জনের বয়স ১০ বছরের কম।
এছাড়া ২৩ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে, ৭০ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ১৪৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ২৯০ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৫৭১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছিল বলে জানান নাসিমা সুলতানা।
নাসিমা সুলতানা জানান, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হওয়ায় দেশে এখন মোট ৭১টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার সুযোগ হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় এর মধ্যে ৬৩টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৬৫০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে; এ পর্যন্ত দেশে পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৭টি নমুনা।
২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিডিনিউজের খবর
দেশে মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ ষাটোর্ধ্বদের : দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ৯৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব বয়সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি; ৮৫৫ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
এরপর ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৭১ জন। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৯০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৪৭ জন ও ২১ থেকে থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭০ জন ও ১১ থেকে ২৩ জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ সবচেয়ে কম মৃত্যু শূন্য থেকে ১০ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি এও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১১৪ জন। সবমিলে আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনে।
তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬০৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬৮ হাজার ৪৮ জন।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সারাদেশে ৭১টি ল্যাব আছে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৮১টি। আগের নমুনাসহ মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫০টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ ১৭ হাজার ৩৪৭টি।
অধ্যাপক নাসিমা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৪২ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ জন। বাসায় মারা গেছেন ১১ জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।