সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ

পূর্বদেশ ডেস্ক

8

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে আরো বেশী অবদান রাখার লক্ষ্যে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করবে। কারণ, এ দেশ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২০ উপলক্ষে গতকাল সোমবার টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রতর পরিসর থেকে উদ্ভুত সশস্ত্র বাহিনী আজ একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম এবং পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা এবং দেশ গড়ার কাজে আরও বেশি অবদান রাখবেন পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার কাছে এই প্রার্থনা করি।
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের পদক্ষেপ সমূহের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সততা, নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে তাদের প্রতিরক্ষা ও দেশ গড়ায় আরো অবদান রাখতে হবে। খবর বাসসের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর যে আধুনিকায়ন হয়েছে অতীতে কোন সময়েই তা হয়নি।
সশস্ত্র বাহিনী এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রচলিত উৎসবের আমেজ পরিহার করে এ দিবসটি পালন করেছে। তাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দিবস উপলক্ষ্যে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ভাষণ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২টি পদাতিক ব্রিগেড, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য ১টি কম্পোজিট ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ছাড়াও ১০টি ব্যাটালিয়ন, এনডিসি, বিপসট, এ.এফ.এম.সি, এম.আই.এস.টি, এনসিও’স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যগণ যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করলে সম্মিলিত আক্রমণের মুখে শত্রূবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ।
মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে জাতির পিতার অসামান্য ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সীমিত সম্পদ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালেই গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মস স্কুল এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোরের জন্য স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু একইসঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তিনটি ঘাঁটি উদ্বোধন করেন। ভারত ও যুগোশ্লভিয়া থেকে নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ করেন। ১৯৭৩ সালে সে সময়ের সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান এবং এয়ার ডিফেন্স রাডারের মত অত্যাধুনিক সরঞ্জাম বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী লগ্নে জাতির পিতা প্রণীত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতা দেশের গÐি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ দেশের যে কোন ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি কোভিড-১৯ মোকাবেলাতেও তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের কথা উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারদের মানবিক সহায়তা প্রদানে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
আর্ত মানবতার সেবায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিশিষ্টজনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেছে। আটকে পড়া দেশি-বিদেশি নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ১৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের করোনা চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি মেডিকেল টিম মালদ্বীপে প্রেরণ এবং লেবাননে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেখানে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল পদবীর অফিসার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এবং ফোর্স কমান্ডার হিসেবে একজন মেজর জেনারেল বা লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদবীর অফিসার নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা প্রর্বতিত ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব¡, কারও সাথে বৈরিতা নয়’ এই মূলমন্ত্র দ্বারা আমাদের বৈদেশিক নীতিমালা পরিচালিত। প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে, যে কোন আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা-প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’
আওয়ামী লীগ সরকারই সর্বপ্রথম সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সদস্য এবং বিমান বাহিনীতে মহিলা বিমানসেনা নিয়োগ দিয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে পাঁচজন নারী সদস্য লে. কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে সম্মুখসারির যুদ্ধের ইউনিটসমূহের ইউনিট অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনা আবাসন প্রকল্প, উন্নতমানের রসদ সরবরাহ এবং বহুতল সরকারি পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণ, সেনাবাহিনীর শহিদ/মৃত/অবসরপ্রাপ্ত অসহায় বিধবা পতœীদের দুস্থ ভাতা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করাসহ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সদস্যগণের ছুটি নগদায়নের অর্থ প্রদান ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসে উন্নীত করাতেও সরকারের পদক্ষেপ সমূহের উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।