দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিনে ‘তোমার হৃদয়ে বাংলাদেশ’

9

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

ছায়া সুশোভিত মায়ায় ভরা রূপসী বাংলার নিভৃত এক পল্লী। তার পাশ দিয়ে বুক ভরা বরষার জল নিয়ে বাইগার বইছে নিরন্তর মধুমতির পানে। তারই কলকল ধ্বনিতে মাতোয়ারা সারা গাঁ খানি। সাথে তাল, তমাল, হিজলের সবুজ শ্যামল বনানীতে পাখির কুজন আর ফসলের মাঠে হাল ধরা মাঝির উদাস করা গান মিলে মিশে নৈসর্গিক আবহ যথা সদা বিরাজমান। যেখানে বেড়ে ওঠেছিল বাংলাদেশের হৃদয়, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখ। তখনো অনাবিস্কৃত সেই বাংলাদেশের হৃদয়, বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের প্রিয় নেতা, বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান ও মমতাময়ী মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কোল আলোকিত করে যে শিশুটির আবির্ভাব, তার নাম রাখা হয় শেখ হাসিনা। পরে আদর করে তাঁকে হাসু বলেই ডাকতেন বাড়ির বড়রা। কালে তিনি হয়ে ওঠেন এক স্নেহময়ী, দয়াময়ী, প্রাণোচ্ছল, আস্থা আর ভালবাসায় বাঙালি বুবুদের মূর্ত প্রতিক। যখন কলেজে পড়ছিলেন তখন পিতা মুজিবের আদর্শে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনা পাকিস্তানী, শোষন, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সদস্যভুক্ত হন পিতার হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের। ঢাকার সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের নির্বাচনে ছাত্রলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায়
৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থ্যান, ৭০’র নির্বাচনের পথ ধরে আসে ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ। শেখ হাসিনা তখন তিন ছোট ভাই ও এক বোনের বুবু, হাসু বু। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে দ্রুত পুনর্গঠন করে সুদুর প্রসারী পরিকল্পনায় এগুতে লাগলেন হাসু’র পিতা, জাতির পিতা মুজিব। ১৯৭৫ সাল। বাঙালির জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। স্বার্থান্বেষী মহলকে হাত করে ৭১’র পরাজিত শত্রু ও দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুসহ দেশে থাকা পরিবারের সকলকে। কপালে বিশ্বাসঘাতকের কলঙ্ক তিলক এঁকে বাঙালি হারাল তাদের জাতির পিতাকে।
পড়া শোনার জন্য বিদেশে থাকা হাসু ও তার ছোট বোন রানু সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিরতরে হারালেন বাবা-মাকে। হারালেন প্রিয় ভাই কামালকে, যাকে খুশী রাখতে ঘাস ফড়িং এর পিছনে ছুটে বেড়াতেন হাসু বু। এদিক সেদিক থেকে ফুল, পাতা কুড়িয়ে এনে খেলায় মাতিয়ে রাখতেন। হারাল ভাই জামালকে, দুই ভাতৃবধূকে। সর্বকনিষ্ট ভাই ছোট্ট শিশু রাসেলকেও সেদিন রেহাই দেয়নি ঘাতকেরা। ঘাতকের বুলেট বুকে নেয়ার আগে এতগুলির শব্দ, লুটিয়ে পড়া বাবা, মা, ভাই, ভাবীর ও এত এত রক্তধারা দেখে ভয়ে, আতঙ্কে বারবার করে যে রাসেল বলছিল, আমাকে আমার হাসু বু’র কাছে নিয়ে চল, আমি হাসু বু’র কাছে যাব। ঘাতকের বুলেট কর্ণপাত করেনি সেদিন, ঝাঁঝড়া করে দিয়েছিল হাসু বু’র ছোট্ট ভাইটির ছোট্ট বুকটাকে। দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাতির জনক হত্যার নেপথ্য কুশীলব ও বেনিফিসিয়ারী গোষ্ঠী।
দীর্ঘ ৬ বছর তারা দেশে আসতে দেয়া হয়নি বঙ্গবন্ধুর বেঁচে যাওয়া আদরের দুই কন্যা হাসু ও বোন রানু’কে। বাংলার মানুষ স্বৈরাচারের যাঁতাকলে পড়ে ততদিনে বুঝতে পারে, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট শিশু শেখ রাসেলের আকুতিতে মিশেছিল সদ্যজাত বাংলাদেশের আকুতি। বাংলাদেশ আজ ঘুমরে কেঁদে তার ভরসার হাসু আপাকেই খুঁজছে। নির্বাসিত জীবনে থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালে বাংলার মানুষ তাঁকে পিতার হাতে গড়া সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করে। লন্ডনে থেকেই আওয়ামী লীগ গোছানোর কাজে হাত দেন তিনি। দেশ বাঁচাতে হবে, দেশের মানুষকে খুনী স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরলেন তিনি। বাংলাদেশ তার বুবুকে পেয়ে আন্দোলিত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে মুখরিত। সব হারানোর বেদনায় মুহ্যমান হাসু বু দেশে ফিরে পরিবারের কাউকেই পেলেন না। এমন কি নিজের বাড়িতে ঢুকার অনুমতি পর্যন্ত পাননি সরকারের কাছে। কিন্তু কাছে পেলেন লক্ষ লক্ষ কর্মী ভাই। শোক ও বেদনাকে বুকে চেপে দলীয় ভাই, বোনদের নিয়ে নেমে পড়লেন দলকে সুসংহত করতে। সারা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে জাতির জনক হত্যার নেপথ্য নায়ক ও বেনিফিসিয়ারি গোষ্ঠী, খুনী স্বৈর সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ শুরু করলেন। দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে উদ্ধার করতে, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে চ‚ড়ান্ত ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে ঘুরে আন্দোলন সংগ্রামে দিনরাত এক করে সময় পার করতে লাগলেন জাতির জনকের কন্যা, কামাল-জামাল-রানু-রাসেলদের হাসু বু, লক্ষ জনতার হাসিনা আপা। স্বৈরাচারের রোষানলে পড়ে বারবার কারাবরণ করতে হয় তাঁকে। বেশ কয়েকবার তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখে স্বৈরশাসক। এর মধ্যে ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে ৩টি আসন হতে প্রার্থী হয়ে তিনি তিনটি আসনেই বিজয়ী হন তিনি। দায়িত্ব পালন করেন বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে। এরপর তাঁর নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলনে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং ৯১’র নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জিতে প্রথম বারের মত প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি উন্নয়নে নব দিগন্তের সূচনা করেন। কিন্তু ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আবারো বিরোধী দলে ফিরে আসেন তিনি। এর মধ্যে স্বৈরচারী বাহিনী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তাঁকে ১৯ বারেরও বেশী হত্যার চ‚ড়ান্ত চেষ্টা করে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে তাঁকে লক্ষ করে গুলি চালায় স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ।
এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাঁকেসহ তাঁর গাড়ি ক্রেন দিয়ে দলিত করার চেষ্টা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘিতে জনসভায় যোগ দিতে এলে কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে তাঁর উপর উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করে স্বৈরাচারের পুলিশ। ৩০ জন নেতাকর্মী সেদিন তাদের নেত্রীকে বাঁচাতে শহীদ হন সেদিন। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন চলাকালেও তাঁকে লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করা হয়। ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে তাঁর কামরা লক্ষ করে অবিরাম গুলিবর্ষণ করা হয়। ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় হেলিপ্যাডে ও তাঁর জনসভাস্থলে দু’টি শক্তিশালী বোমা পুতে রাখে বিএনপি সরকারের মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয় ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। ঐদিন বঙ্গবন্ধু এভিন্যুয়ে এক জনসভায় বক্তব্য শেষ করার পরপরই তাঁকে লক্ষ করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড ছোঁড়া হয় এবং তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে অবিরাম গুলি বর্ষণ করে জঙ্গীগোষ্ঠী। আল্লাহতাআয়ালার অশেষ রহমত এবং মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় লোমহর্ষক সেই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও কানে আঘাত পেয়ে হারিয়ে ফেলেন শ্রবণ শক্তি। আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী শহীদ হন। ৫ শতাধিক মানুষ আহত হন, পঙ্গুত্ব বরণ করেন শতাধিক মানুষ।
এরপর ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করে সংসদ ভবনসংলগ্ন একটি কক্ষকে সাব জেল বানিয়ে ১ বছরের মত বন্দী করে রাখেন। গণআন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালের ১১ জুন তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। ঐ সালেরই ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগনের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে ২০০৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে তিনি মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদকে মোকাবেলা করে একের পর এক সাফল্য গাঁথা রচনা করে দেশকে উন্নয়ন অগ্রগতিতে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ফলশ্রুতিতের ২০১৪ ও ২০১৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করেছেন। মুকুটে গুঁজেছেন একের পর এক সাফল্যের পালক। তিনি এখন বিশ্বজনীন এক নেত্রী, বিশ্ব মানবতার জননী। শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিপ্লোমা প্রদান করে।
সামাজিক কর্মকান্ড, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা সম্মানিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য যুক্তরাস্ট্রের রানডলপ ম্যাকন উইমেন্স কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাসূচক ‘পার্ল এস. বার্ক’ ‘৯৯’ পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ মেডেল প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ‘মাদার টেরেসা’ পদক প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘পল হ্যারিস’ ফেলোশিপ প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে তাঁকে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক প্রদান করে। আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে তিনি ‘মেডেল অব ডিস্টিংকশান’ ও ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে ‘হেড অব স্টেট’ পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গেøাবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার এবং ২ বার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘শান্তিরবৃক্ষ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাঁকে রিজিওনাল লিডারশীপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাঁকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে।
জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশীপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়া, টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন তাকে আইসিটিস ইন সাসটেইন্লে ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৫ প্রদান করে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় ও খাদ্যের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় জাতিসংঘ তাঁকে ‘মাদার অব ওয়ার্ল্ড হিউমিনিটি’ উপাধি প্রদান করেন। এ তালিকা দীর্ঘায়িত করে আর কলেবর বাড়ানোর আর প্রয়োজন আছে মনে করছিনা। তবে সংক্ষেপে বলা যায়, বাংলার হাসু বু এখন বিশ্ব মানবতার জননী। গণতান্ত্রিকতায়, উন্নয়নে, মানবিকতায়, শান্তিতে, নেতৃত্বে তিনি এখন বিশ্বের এক বিষ্ময়। বাংলাদেশের হৃদয় হতে বেরিয়ে আসা বিশ্ব মানবতার জননী বিষ্ময়কর নেতৃত্ব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই অনন্ত শ্রদ্ধা। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে তাঁর সুস্বাস্থ্য দীর্ঘ জীবন কামনায় দুহাত তুলে ফরিয়াদ ব্যক্ত করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী