দেখা মিলেনা সোনালুর সোনালী দিন

সুমন কর্মকার

11

ঋতু চক্রের আবর্তে প্রকৃতি তার নিজের নিয়মে আবারো আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে বর্ষাকাল। গ্রীস্মকাল মানে শুধু প্রচন্ড তাপদাহে পোড়ানো নয়, অবশেষে প্রশান্তির পরশেও বুলিয়ে দিতে আসে বর্ষণমুখর দিন। ফুল মানেই বাঙালির জীবনে চলে আসে বসন্তের কথা।
তবে এখন গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে কোথাও কৃষ্ণচূড়া, কোথাও সোনালু, আবার কোথাও কদম ফুলের মেলা। কদম ফুল চোখে পড়লেও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলাতে এখন খুববেশি শোভা পাচ্ছে না কৃষ্ণচূড়া আর সোনালুর মেলা। এসব গাছ শুধু সৌন্দর্য্য নয় অনেক ওষুধি গুণেও সমৃদ্ধ। হলুদে ছাওয়া ঝুমকার মতো ঝুলে থাকা এমন একটি ফুল সোনালু। যে কারো মন ছুঁয়ে দেয়। হলুুদ রঙের বাহার নিয়ে ঝুলে থাকা ফুলের সৌন্দর্য্যে মোহিত করে যে কোন মানুষকে। সোনালুর দোল দেখে মনে হয় এটি যেন প্রকৃতির উষ্ণ অভ্যর্থনা। সোনালু গাছ ওষুধি গাছ হিসেবেই পরিচিত।
সোনালু ফুলের মনমাতানো সৌরভ আর বাহারি অভ্যর্থনা এলাকার মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে। গ্রামের স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছটির বয়স অনেক বেশি হয়েছে। প্রতিটা মানুষ যাতায়াতের সময় দৃষ্টি চলে যায় এই সোনালু গাছের হলুদ ফুলের দিকে। তবে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে এসব গাছ।
তারা আরো জানায় সোনালু গাছ অতীতে যেসব গাছ লাগানো হয়েছে তা এখন বড় হয়ে ফুল, ফল ধরছে। বেশি করে সোনালু চারা রোপণ না করায় এখন তেমন আর দেখা মিলে না সোনালু গাছ।
জানা যায়, সোনালুর ফল পাকতে দীর্ঘ সময় নেয়। পেকে গেলে ফল মাটিতে পড়ে সেখান থেকে বীজ ছড়িয়ে বংশ বিস্তার করে। তবে গাছের শেকড় থেকেও বংশ বিস্তার ঘটে থাকে। সোনালু ওষুধি গাছের তালিকায়ও রয়েছে। বিশেষ করে সোনালুর ফল বাত প্রতিরোধে সাহায্য করে। গাছগুলির ডালপালা ততটা ছড়ানো হয় না। পাতার রং হয় গাঢ় সবুজ।
সোনালুর বৈজ্ঞানিক নাম “ঈধংংরধ ভরংঃঁষধ এবং অষনরুরধ রহঁহফধঃধ”। সোনালী রঙের জংল বিশিষ্ট যধক্ষ। সোনালী রঙের জংলের বাহার থেকেই সোনালু নামে নামকরণ। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় “মড়ষফবহ ংযড়বিৎ ঃৎবব” বা “স্বর্ণালী ঝর্ণার যধক্ষ”। ফুলের পাপড়ির সংখ্যা পাঁচটি। ফুল ফোটার পর থেকে এটি সোনার চেইনের মতো শাখা ও কান্ডে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। ফল হয় গোলাকার লম্বাকৃতির। ফল কিছুটা মিষ্টি হয়ে থাকে।