দুষ্টু গুল্লুর মিষ্টি টিচার

রুনা তাসমিনা

4

বিকেলে নাস্তার টেবিলে বসে কয়েকবার ডাকার পরেও প্রিয়তির কোন সাড়া না পেয়ে আম্মু বেডরুমে দেখতে এলেন প্রিয়তি ঘুমিয়ে পড়লো কিনা। রুমের দরজার কাছে আসতেই শুনতে পেলেন প্রিয়তি কাউকে খুব শাসন করছে। বেডরুমে উঁকি মেরে দেখলেন গুল্লুকে খুব করে বকছে। প্রিয়তির আটটি পুতুলের সবার ছোটো ও একটু নাদুস নুদুস বলে পুতুলটিকে প্রিয়তি ডাকে গুল্লু বলে। আম্মু আড়াল থেকে দেখতে লাগলেন কান্ড। প্রিয়তি বলছে,
আবার যদি তুমি কথা না শুনো তাহলে সোজা আম্মুর কাছে গিয়ে নালিশ দেবো। হয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে এবার খেলা বন্ধ করে নাস্তা করতে এসো। ওদেরকে আজকের মতো ছুটি দাও। ওদের ও তো রেস্টের দরকার আছে। এবার ওদেরকেও ছুটি দাও তুমিও খেতে এসো। রুমে ঢুকে বলল আম্মু।
আম্মু প্লিজ আরেকটু সময় দাও! ওদেরকে কালকের হোমওয়ার্ক দিয়ে আসি।
ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি এসো আপু ভাইয়াও এসে পড়েছে অপেক্ষা করছে তোমার জন্য বলে আম্মু চলে গেলো ডাইনিং রুমের দিকে।
আম্মুর বেডরুমে প্রিয়তির স্কুলটি বেশ মজার। পাশ বালিশ দুটোকে টেবিল বানিয়ে পুতুলগুলো লাইন ধরে বসিয়ে দেয়। ওদের সামনে রেখে দেয় প্রিয়তির পুরনো খাতা, ছোটো হয়ে যাওয়া পেন্সিল। স্টিলের আলমিরার আয়নায় লিখে প্রিয়তি ওদের বাংলা, ইংরেজি, অংক শেখায়। পুতুল স্টুডেন্ট লিখতে পারেনা। প্রিয়তি নিজেই আবার ওদের খাতায় লিখে দেয়। এভাবেই চলে তার ‘টিচার টিচার’ খেলা। প্রথম দিকে আম্মু একটু বকাঝকা করতো প্রিয়তির এই খেলা নিয়ে। কিন্তু কিছুদিন খেয়াল করে দেখলো প্রিয়তি তার পুতুল স্টুডেন্টদের সেই পড়াগুলো পড়াচ্ছে যা স্কুলে পড়ে আসছে। এবং দেখেছে এতে করে মেয়ে আগের চেয়ে পড়ালেখায় অনেক মনযোগী হয়েছে। আম্মু খুশি হয় মেয়ে ট্যাব, কার্টুনে সময় নষ্ট না করে পুতুল খেলে শিখছে তার নিজের পড়া। তাই মাঝে মাঝে আম্মুও যোগ দেয় মেয়ের সাথে। যখন অংক করতে গিয়ে মেলাতে পারে না তখন আম্মু গিয়ে প্রিয়তির হয়ে বুঝিয়ে দেয় পুতুল স্টুডেন্টদের। একই সাথে শেখা হয়ে যায় প্রিয়তিরও।
স্টুডেন্টদের অনেক ভালবাসে প্রিয়তি টিচার। টিফিন ব্রেকে চলে খেলা। ক্লাস শেষ হলে হোমওয়ার্ক দিয়ে রাখে। সপ্তাহে দুদিন ছুটিও থাকে। গুল্লুটা একটু দুষ্টু। একদম পড়তে চায় না। মাঝে মঝে অভিযোগ আসে পাশের জনকে চিমটি কেটেছে! আহ! তোমার জ্বালায় আর পারি না গুল্লু! কেন এত দুষ্টুমি করো? ভালো করে পড়লে টিচার তোমাকে অনেকগুলো স্টার দেবো। কিন্তু ছোট্ট গুল্লুর উপর রাগ বেশি রাখতে পারে না। তাই একটু বকা দিয়েই আবার আদর করে পড়া বুঝিয়ে দেয়। খেলায় খেলায় নিজের পড়াও শেখা হয়ে যায়। এরই মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে যায়। পরীক্ষার ফলাফল দেখে আম্মুতো মহাখুশি! সেদিন বাসায় না এসে প্রিয়তিকে মার্কেটে নিয়ে গিয়ে কিনে দেয় আরো দুটো পুতুল আর ছোটোদের একটি গল্পের বই। গিফট পেয়ে দারুণ খুশি প্রিয়তি। রিক্সায় বসে সময় গুনছে কখন বাসায় ফিরে ভাইয়া, আপুকে গিফট দেখাবে!