ভারতের ওডিশা ও অন্ধপ্রদেশে আঘাত

দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’

রতন কান্তি দেবাশীষ

21

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে গত তিনদিন ধরে কখনো হালকা আবার কখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রাস্তায় যানবাহনও চলাচল করছে কম। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরবেলা ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে তীব্র বেগে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে পড়েছে তিতলি। এতে ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বালে জানা গেছে। তবে বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে তিতলি মোকাবেলায় উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।  বেশ তর্জন-গর্জন করে বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছিল ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এটি বিস্তৃত ছিল ভারতের ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে। আবহাওয়াবিদের ধারণা তিতলি ভারতের তিনটি রাজ্যে আঘাত হেনে ছোবল মারবে বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলে।
তিতলির প্রভাবে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিও ঝরছিল। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো নির্দেশ দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরবেলা ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের আঘাত হানার পর দুর্বল হতে থাকে তিতলি। এটি উত্তর -উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও দুর্বল হতে পারে। তিতলি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দুর্বল হলেও তিতলির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হবে। আজ শুক্রবারও এর প্রভাবে বৃষ্টি হবে।দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত এবং অন্যান্য এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে তিতলির প্রভাবে গত তিনদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কখনো হালকা আবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
বৃষ্টির কারণে নগরীর রাস্তায় যানবাহন চলাচলও কমে গেছে। গণপরিবহন কম থাকায় লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল কম। নি¤œাঞ্চলে পানি উঠেছে। এছাড়া আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকা, এক্সেস রোডও পানিতে তলিয়ে গেছে ।
আহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ‘তিতলি’র প্রভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ও কাল বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ৩ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত থাকায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা সমুদ্রবন্দরে বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস আরো জানিয়েছে, নগরে ২৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৪৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে ১০৯০৪৩ নম্বরে কল এবং ৩৩৩ নম্বরে ম্যাসেজ দেওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সিভিল সার্জন অফিস ১ জন ডাক্তারসহ তিন সদস্যের ২৮৪টি টিম প্রস্তুত রেখেছে। প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুম ৬৩৪৮৪৩ এবং ০১৮১৬-০৩১১২১-এ যোগাযোগ করে দুর্যোগকালীন সহযোগিতা নেওয়া যাবে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ কথা বলেন।
ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি সকালে (বৃহস্পতিবার) ভারতে আঘাত হেনেছে। তিতলির মোকাবেলায় আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমাদের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এছাড়া সিপিপির ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার-ভিডিপি ও স্কাউট প্রস্তুত রয়েছে।