তীব্র যানজট

দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

46

ফুটপাট ছাড়িয়ে রাস্তায় বসেছেন হকার। এলোপাতারি পার্কিংয়ে দখল হয়েছে রাস্তার দুই-তৃতীয়াংশ। সবমিলিয়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা নিউমার্কেট মোড়ের চারপাশ। এই মোড় ঘিরেই রয়েছে প্রায় ২’শ মার্কেটের অবস্থান। যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের আগমন ঘটে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে। মধ্য রমজান থেকে মানুষ ও গাড়ির চাপ দুটোই বেড়ে যাওয়ার কারণে দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে। এর উপর রয়েছে হকারদের রাস্তা দখল, বিশৃঙ্খল গাড়িং পার্কি ও চলাচল। ফলে প্রতিদিন নিউমার্কেট মোড়ের এই অবস্থা হাজারো মানুষের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া এ অবস্থার কারণে ক্রেতা হারাচ্ছে রিয়াজুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ফলে হুমকির মুখে নগরীর সবচেয়ে বড় এ বাজারটি- এমনটাই দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
গত বৃহস্পতিবার, রাত ১ টা। এ সময়ও থমকে আছে নিউমার্কেট মোড়। তীব্র যানজটে হাঁটার অবস্থা নেই। হকার মার্কেটের সামনে অর্ধেক রাস্তা জুড়ে বসেছেন হকার। এরপর আরেক শ্রেণির হকাররা রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে করছেন বিকিকিনি। তাদের পরই এলোপাতারি রিকশা, মোটরসাইকেল ও কার পার্কি করা হয়েছে। রাস্তার উপর তিন দফা দখল শেষে যেটুকু বাকি আছে, তাতেই চলছে গাড়ি। যানজটের অবস্থা দেখে তাও বুঝার উপায় নেই- গাড়ি চলছে, নাকি থেমে আছে।
গত শনিবার থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, গাড়ি ও মানুষের অচলাবস্থা শুধু হকার মার্কেটের সামনে বা নিউমার্কেটের মোড়ে সীমাবদ্ধ নেই। যানজটের সীমা ছাড়িয়ে গেছে আমতলা থেকে তিনপুলের মাথা পর্যন্ত। আবার সিনেমা প্যালেস থেকে শাহ আমানত মার্কেট পর্যন্ত রাস্তাটিতেও লেগে থাকে একই রকম যানজট। নিউ মার্কেট থেকে মোড় থেকে পশ্চিম পাশে বটতলী স্টেশন হয়ে কদমতলী মোড় পর্যন্ত থাকছে তীব্র যানজট। পূর্বদিকে কোতোয়ালি মোড় হয়ে লালদীঘি পর্যন্ত সড়কটিতেও যানজটের প্রভাব পড়ছে চরমভাবে।
দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের তথ্য মতে, ইফতারের আগ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যানজট বেশি হয়। রমজানের শেষের দিক এবং আসন্ন ঈদের কারণে এ অবস্থা হচ্ছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, নিউমাকের্টের যানজটের পরিধিও তত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে বাজার করেেছন।
গত রবিবার বিকেল ৪ টায় দেখা যায়, থেমে থেমে গাড়ি চলছে। আর সেখানে মানুষ এলোপাতারিভাবে রাস্তা পার হচ্ছে। অথচ সেখানেই রয়েছে ওভারব্রিজ। এর প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ দুটোই হারিয়ে গেছে। ওভারব্রিজের মুখেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। দেখে বুঝার উপায় নেই এখানে একটি ওভারব্রিজের পথ রয়েছে।
গত বছরের শেষের দিকে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের সময়, হকার বসায় নিয়ম বেঁধে দেয় চসিক। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হকার বসতে পারবেন। তখন কিছুদিন সেই নিয়ম হকাররা মেনে চললেও এ বছরের শুর থেকেই এ নিয়ম মানা হচ্ছে ন।
হকার মার্কেটের সামনে বসা কালাম নামে এক হকার বলেন, আমরা তো এখানে মাগনা বসি না। পুলিশ ও নেতাদের টাকা দিয়ে বসি। ওরা টাকা খায়, রাস্তা যানজট কমানোর দায়িত্ব ওনাদের।’
আল ইমরান রিয়াজউদ্দিন বাজারে এসেছেন ইদের বাজার করতে। তিনি নিউমার্কেটের যানজট প্রসঙ্গে পূর্বদেশকে বলেন, সারাবছর এমনিতেই নিউ মার্কেটের যানজট থাকে। তার উপর এখন এসেছে রমজান। অনেক মানুষ একসাথে শপিং করতে আসার কারণে রাস্তার উপর বাড়তি চাপ হচ্ছে। তবে যেটুকু রয়েছে তাতে সুন্দর ম্যানেজমেন্ট দরকার। যার যেখানে ইচ্ছে সেখানে গাড়ি পার্কিং করছে। ইচ্ছেমত হকাররা রাস্তায় বসছে। এভাবে তো চলতে পারে না। ঈদ এসেছে তাই যানজট বাড়বে, একথা বলে তো দায়িত্বকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, নতুন ব্রিজ থেকে নিউমার্কেট আসতে সিএনজি ট্যাক্সি নিয়েছি। কোনরকম কোতোয়ালি পর্যন্ত এসেছি। এরপর রাস্তার অবস্থা দেখে হেঁটে চলে আসলাম। চারপাশে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে হাঁটাও দায়।
এ বিষয়ে তামাককুন্ডি লেন বণিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, এখানে মূল মার্কেট হল রিয়াজুদ্দিন বাজার। এর খ্যাতি রয়েছে দেশব্যাপী। যার কারণে অসংখ্য মানুষ আসে বাজার করতে। কিন্তু রাস্তা ও ফুটপাতে হকারের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। যার কারণে মূল ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমনকি তারা ধার-কর্জ করে ঈদে মালামাল কিনে বিক্রির জন্য। কিন্তু এমন বাজে পরিবেশের কারণে দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা কমছে। যার করাণে হুমকির মধ্যে লাখো ব্যবসায়িক পরিবার।
তিনি বলেন, হকার যতই উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলে, ততই একটি চক্র নিজেদের স্বার্থের জন্য তাদের বসায়। তাদের পকেটকে সচল রাখতে রাস্তা দখল করায় হকারদের দিয়ে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, আমরা তো অনেক চেষ্টা করেছি ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখতে। কিন্তু সবার অসহযোগিতার কারণে বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। সামনে যেহেতু ঈদ, ভোগান্তি যেহেতু বেড়েছে। তাই ঈদের আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে অভিযান পরিচালনার চেষ্টা থাকবে।