দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মন্ত্রী মোশাররফ

35

সরকারি জমি বরাদ্দে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এক-এগারোর সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। একই মামলায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ফটিকছড়ির প্রয়াত সাংসদ রফিকুল আনোয়ারকে। তবে, তার ছোট ভাই উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল আনোয়ারের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুল আমিন মামলার চার্জ গঠনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এ মামলায় চার্জ গঠনের শুনানিতে অংশ নিয়ে শুনানিতে দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ আদালতকে বলেন, আদালতে উপস্থিত মন্ত্রী মোশাররফ ও ফখরুলের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হোক। আর মন্ত্রী মোশাররফের অব্যাহতি চেয়ে শুনানিতে অংশ নেয়া তার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব-উল-আলম আদালতকে বলেন, মামলার এজাহারে মন্ত্রীর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হলেও দুদকের তদন্তে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি চার্জশিটে স্ত্রীকে আসামি বা সাক্ষী কোনোটাই করা হয়নি। তাই মামলার দায় থেকে তার অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুনানি শেষে আদালত মন্ত্রী মোশাররফকে অব্যাহতি দিয়ে ফখরুলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, আদালতের এই আদেশে দুদক সন্তুষ্ট নয়।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় এক দশমিক ৪৪ বিঘা আয়তনের একটি সরকারি জমি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ছিল। বিগত ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ওই জমিটি ‘গোল্ডেন ইন’ হোটেলের নামে প্রয়াত সাংসদ রফিকুল আনোয়ার ও তার ভাই ফখরুল আনোয়ারকে বরাদ্দ প্রদানের সুপারিশ করেছিলেন তৎকালীন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ওই জমির ইজারা মূল্য ধরা হয়েছিল এক কোটি ৬৯ লাখ দুইশ’ সাত টাকা। পরে ইজারার শর্ত লংঘন করে ‘মেসার্স সানমার হোটেল লিমিটেড’-এর নামে ওই জমির ইজারা নিবন্ধন করা হয়। এ ক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখ করা দামের চেয়ে সানমার হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুই কোটি ৯২ লাখ ৭৮ হাজার সাতশ’ ৪৮ টাকা বেশি আদায় করা হয়।
এ ঘটনায় জমি বরাদ্দে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। মামলার এজাহারে বলা হয়, জমি বরাদ্দের বিনিময়ে মন্ত্রীর নির্দেশে তার স্ত্রীর একটি ব্যাংক হিসেবে ৫৫ লাখ টাকা জমা করা হয়। এভাবে একজনের নামে বরাদ্দ জমি অন্যজনের নামে ইজারা নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারের চার কোটি ৬১ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে এই মামলায় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, সাংসদ রফিকুল আনোয়ার ও তার ভাই ফখরুল আনোয়ারকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এর মধ্যেই মারা যান রফিকুল আনোয়ার।
চার্জশিট দাখিলের পর ২০০৮ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মামলাটি বাতিলের আবেদন করলে হাইকোর্টের তৎকালীন বেঞ্চ রুল জারি করে। ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের দ্বৈত বেঞ্চ মামলাটি বাতিলের আদেশ দেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করে দুদক। ২০১৬ সালের ৮ মে আপিল বিভাগ সেই লিভ-টু-আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করে দেয়। ফলে, বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার আইনি বাধা দূর হয়ে যায়। এরপর গত বছরের ৭ ফেব্রæয়ারি এ মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। জামিনে রয়েছেন ফখরুল আনোয়ারও।