রাঙ্গুনিয়ার চোখ উৎপাটন মামলা

দুজনের দশ বছর, ৬ জনের সাত বছর করে কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

35

রাঙ্গুনিয়ায় জমির বিরোধ নিয়ে দুই ভাইয়ের চোখে খেজুর কাঁটা ঢুকিয়ে উপড়ে ফেলার ২৭ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে ১৩ আসামির মধ্যে দু’জনকে দশ বছর এবং ছয়জনকে সাত বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া, চারজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। বাকি এক আসামির মৃত্যুর খবর আদালত অবহিত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চম অতিরিক্ত জজ আদালতের বিচারক স্বপন কুমার সরকার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে, দন্ডিতদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। কিন্তু আদালত তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে অবহিত না হওয়ায় মৃত দুজনকেই কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বাকি দন্ডিতদের মধ্যে দুইজন কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক। দীর্ঘ অপেক্ষার এ রায়ে দোষীদের সাজার খবর ভিকটিম দুই সহোদরের একভাই জানতে পারেননি। কারণ, কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন তিনি।
মামলায় ১০ বছরের সশ্রম সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, আইয়ুব আলী ও মো. ইব্রাহিম। তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। সাত বছর করে সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, আবদুল হক, সোলায়মান, ইউসুফ, জাফর, দুলা মিয়া ও গোলাম কাদেরের। খালাস পেয়েছেন হাসেম, সালাম, হাশেম ও জাহাঙ্গীর। মারা যাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন রশিদ আহমদ। দন্ডিতদের মধ্যে দুলা মিয়া ও গোলাম কাদের মারা গেছেন।বাকিদের মধ্যে শুধু আইয়ুব আলী ও সোলায়মান কারাগারে আছেন।
অপরদিকে, ২৭ বছর পর পাওয়া এই রায়ে সন্তুষ্ট নন ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যরা। দুই ভাইয়ের চোখ তুলে ফেলার ঘটনায় মামলা করায় তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহানকেও হত্যা করা হয়েছিল। ওই পরিবারের দাবি, তাদের জীবন তছনছ করে দেয়া ওই ঘটনায় জড়িতদের এত দিন পরও আসামিদের ‘যথাযথ শাস্তি হয়নি’। রায়ের পর ভুক্তভোগীদের ভাই ওয়াকিল আহমেদ বলেন, ২৭ বছর ধরে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরলাম। দুই ভাইয়ের চোখ নষ্ট করার ঘটনায় মামলা করে বাবাকে হারালাম। বাবার খুনের মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন হয়েছে। অথচ, এই মামলায় মৃতদের সাজা দেয়া হল। াআর জীবিত এজাহারভুক্ত দুই আসামি খালাস পেল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আবদুল হকের সঙ্গে জমি নিয়ে ওই পরিবারের বিরোধ চলছিল। ১৯৯১ সালের ১৭ মার্চ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরের দিকে যাওয়ার সময় আসামিরা দুই ভাই ছবুর আহমদ ও কবির আহমদকে রিকশা থেকে নামিয়ে সৈয়দনগর বারইপাড়া এলাকার খাল পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দুই ভাইয়ের মাথায় এসিড ঢেলে দেয় এবং খেজুর কাঁটা দিয়ে তাদের চোখ উপড়ে ফেলে। এতে ছবুর ও কবির একটি করে চোখ হারান। এদের মধ্যে কবির কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।