মর্মান্তিক

দুই মেয়েকে খুনের পর আত্মহত্যার চেষ্টা বাবার

করোনায় চাকরি হারিয়ে সংসারে দেখা দেয় অভাব

পটিয়া প্রতিনিধি

56

 

করোনাকালে চাকরি হারিনো ও সংসারে অভাবের কারণে দুই কন্যাকে গলাটিপে হত্যা করেছেন পিতা। তারা হল শশী বড়ুয়া প্রকাশ টুকু বড়ুয়া (১৫) ও নিশি বড়ুয়া (১০)। এরপর তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার অবস্থা এখন সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার নাম মুকুন্দ বড়ুয়া।
পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে প্রভাত বড়ুয়ার বাড়ি ভান্ডারগাঁও এলাকায় গতকাল বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ সকালে শশী ও নিশির লাশ উদ্ধার করে। টুকু কাশিয়াইস হাই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী এবং নিশি ভান্ডারগাও প্রাইমারি স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা গেছে, দুই মেয়েকে গলাটিপে হত্যার পর মুকুন্দ বড়ুয়া নিজে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুকুন্দ বড়ুয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। তাকে পটিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফজারুল হক টুটুল, সহকারী পুলিশ সুপার (পটিয়া) তারেক হোসেন ও পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা গেছে, কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ভান্ডারগাঁও এলাকার কণিকা বড়ুয়ার সাথে ১৫ বছর আগে সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থানার বাসিন্দা মুকুন্দ বড়ুয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২ কন্যা ও ১ ছেলে রয়েছে। গত ৩ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী মারা যান। তার বড় ছেলে পান্ত বড়ুয়া ঢাকায় বসবাস করেন। মুকুন্দু বড়ুয়া খুলনায় পর্যটন কর্পোরেশনের একটি মোটেলে চাকরি করতেন। ২ কন্যা সন্তান তাদের ভান্ডারগাও গ্রামে তাদের মামা প্রবাসী প্রণব বড়ুয়ার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। টানাটানির মধ্যে তাদের কোন রকমে সংসার চলে। করোনার কারণে তাদের পিতা মুকুন্দ বড়ুয়ার পর্যটন কর্পোরেশনের চাকরি হারান প্রায় তিন মাস আগে। এরপর তিনি শ্বশুর বাড়ি ভান্ডারগাঁও চলে আসেন। চাকরিহীন দীর্ঘ লকডাউনে আর্থিক অভাব অনটনে সংসারে অশান্তি দেখা দেয়।
নিহতদের মামী রিপু বড়ুয়া জানান, প্রতিদিনের মত রাত ১০টা দিকে মেয়েদেরকে খাওয়া দাওয়া করিয়ে ঘুমাতে যান। মামি রিপু বড়ুয়া ঘরের অন্য রুমে ঘুমাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে দুই কন্যাকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা টিপে হত্যা করা হয়।
তকাল বুধবার সকালে পিতা ঘুম থেকে উঠে ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে সামনে পুকুর পাড়ে গিয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এরপর স্থানীয় লোকজন তার শারীরিক অবস্থা দেখে ঘরে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে বিছানায় ২ কন্যাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় লোকজন পটিয়া থানা পুলিশকে খবর দেন। দুপুরে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দীনসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মুমূর্ষু মুকুন্দু বড়ুয়াকে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। লাশ ২টি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় তাদের আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
পটিয়া থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দীন জানান, দুই মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে পিতা মুকুন্দ বড়ুয়া নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। দুই কন্যাকে হত্যা করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করা পিতাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মানসিক অশান্তি ও অভাব-অনটনের কারণে এই হত্যাকান্ড হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।