দুই বছরে দখলমুক্ত হবে রেলের ২৪৭ একর জমি

২১ সালের জুনের মধ্যে এসব জমি উদ্ধার করবে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। গত তিনমাসে উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ একর

রাহুল দাশ নয়ন

12

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বেদখল থাকা জমি উদ্ধারে দুই বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৪৭ দশমিক ৮৭একর জমি উদ্ধার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রেলের ভূমি দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিভাগটি। চলতি সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ৩২ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দখলীয় জমিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা পূর্বদেশকে বলেন, চলতি অর্থ বছরসহ আগামী ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে উচ্ছেদের মাধ্যমে অবৈধ দখলীয় রেলভূমি সমূহ উদ্ধারের কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে আমাদের পরিকল্পনার কথা রেলভবনে জানানো হয়েছে। এ পরিকল্পনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ২৪৭ একর জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।
ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলে কাচারী ভিত্তিক উচ্ছেদ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগের জামালপুরে তিন দশমিক ৭২একর, ময়মনসিংহে নয় দশমিক আট একর, ঢাকা সদরে ১৬ দশমিক ৬৮একর, শ্যামগঞ্জে ১১ দশমিক ৭২ একর, কিশোরগঞ্জে তিন দশমিক ৯৬একর, নরসিংদীতে ১১ দশমিক আট একর, আখাউড়ায় তিন দশমিক ৯৫একর, ছাতকবাজারে ২৮ দশমিক ৮৬ একর, কুলাউড়ায় ৫৮ দশমিক ৮৬ একর, শায়েস্তাগঞ্জে ২৬ দশমিক ৭৩ একর, চট্টগ্রাম বিভাগে সদরে ২২ দশমিক ৫৯ একর, ষোলশহরে ৪৩ দশমিক ৪৩ একর, ফেনীতে পাঁচ দশমিক তিন একর, কুমিল্লায় ০.৬০ একর, লাকসামে এক দশমিক ৫৬ একর জমিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে। চলতি সালের জানুয়ারি মাসে নয় দশমিক ৬৬ একর, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ দশমিক ৬২ একর, মার্চ মাসে আট দশমিক ১৫ একর বেদখলীয় জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে বেদখলীয় রেলভূমি উচ্ছেদ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রেলভূমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের হলেও এ কাজে তাদের উদাসীনতা আছে। টেন্ডার নিয়ে প্রায়সময় আলোচনায় থাকলেও রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ জমি রক্ষণাবেক্ষণে এক প্রকার ব্যর্থ। যে কারণে প্রতিবার উচ্ছেদ হলেও জমিগুলো পুনরায় দখলদারদের আয়ত্বে চলে যায়। অথচ রেলওয়ের প্রকৌশল বিধি মতে, রেলপথের দুই পাশে খালি জায়গা থাকা আবশ্যক। দুই পাশে নিরাপদ দূরত্ব হিসেবে কমপক্ষে ১৪ দশমিক তিন ফুট এবং সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা খালি রাখতে হয়। এসব জায়গায় কোন স্থাপনা তৈরি করলে বিনা নোটিশে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া যাবে। অন্যদিকে নিয়মিত অর্থ মঞ্জুরী না পাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে অনীহা প্রকাশ করেন ভূ-সম্পত্তি বিভাগ।
চলতি সালের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রামে যে কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযানে সক্রিয় ছিল ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। এরমধ্যে বারৈয়ারহাটের গেইটঘর এলাকায় রেললাইন গেটের উভয় পাশে অবৈধ কাঠামো ও কাঁচাঘর উচ্ছেদ হয়। এতে ৪০টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করে ২০০জন অবৈধ দখলদারকে সরিয়ে দেয়া হয়। পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে ও সিআরবি সাত রাস্তার মোড় সংলগ্ন হাসপাতাল কলোনি রোড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ কার্যক্রমে অবৈধভাবে দখল করা ১৬টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করা হয়। আমবাগান রেলওয়ে কোয়ার্টারের একটি বাসা অবৈধভাবে নির্মিত পাঁচটি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেধ করা হয়। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে দোহাজারী স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে অবৈধ স্থাপনা ও দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এ অভিযানে ৫৯টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করে ৭০জন দখলদার সরানো হয়। চট্টগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন আশপাশের এলাকা ১৬টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিক্রিত জমি ছাড়া রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৯৩একর। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ হাজার ১৬৯ দশমিক ২০ একর ও চট্টগ্রাম বিভাগে সাত হাজার ২৭১ দশমিক ৭৩একর। এরমধ্যে ৬১৯একর জমি এখনো বেদখল আছে।