গ্রাম আদালত

দুই বছরে উদ্ধার ১৮৮ শতক জমি

রাহুল দাশ নয়ন

19

জেলা প্রশাসকদের টানা তিন সম্মেলনে ন্যায়বিচার সহজ করতে এবং মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতকে কার্যকর করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্থানীয় বিচার ব্যবস্থায় আগ্রহ বাড়াতে এ আদালতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই আলোকে সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুÐ, স›দ্বীপ, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার ৪৬টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি চলমান আছে।
২০১৭ সালের জুলাই থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত দুই বছরে গ্রহণকৃত ৩২১৪টি মামলার মধ্যে ৩০৩৫টি নিষ্পত্তি করা হয়। বিচারে বিরোধীয় ১৮৮.৯৯ শতাংশ জমিসহ এক কোটি ১৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৭০টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় গ্রাম আদালতসমূহ সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে। এখানে গরিব ও অসহায় মানুষ স্বল্প সময়ে অল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে। জেলার সকল ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও কার্যকর করার চেস্টা অব্যাহত আছে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত বিচারিক সেবা পৌঁছে দিতে, স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকল স্টেকহোল্ডারদেরকে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদসমূহকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গিকার। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের সুনাম ও কার্যকরিতা বৃদ্ধিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
জানা যায়, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে ‘অ্যাকটিভেটিং ভিলেজ কোর্টস ইন বাংলাদেশ’ পাইলট প্রকল্পের (২০০৯-২০১৫) অর্জিত সাফল্যের উপর ভিত্তি করে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে সরকার নিজেদের অর্থায়ন এবং ইউএনডিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতায় ৪ বছর মেয়াদী (২০১৬-২০১৯) বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি দেশের ৮টি বিভাগের ২৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলার ১,০৮০ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলার ৫টি উপজেলার সীতাকুÐ, স›দ্বীপ, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া ৪৬টি ইউনিয়নে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছরে প্রকল্পভ‚ক্ত ইউনিয়নে সর্বমোট ৩২১৪টি মামলা গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে ৩৩২টি মামলা জেলা আদালত থেকে গ্রাম আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয়। এসময়ে ৩০৩৫টি বিরোধ নিস্পত্তি করা হয়েছে। নিস্পত্তির হার ৯৪.৪৩ শতাংশ। গ্রাম আদালতের ১৮২০ সিদ্ধান্তের মধ্যে ১৪৬১টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। বাস্তবায়ন হার ৮০.২৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত ১৮৮.৯৯ শতাংশ জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৮ লক্ষ ২৮ হাজার পাঁচশত টাকা। গত দুই বছরে প্রকল্পভ‚ক্ত গ্রাম আদালতসমূহে সর্বমোট এক কোটি ১৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৭০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে তুলে দেয়া হয়। এ সময়ে গ্রাম আদালত চালু থাকা ইউনিয়ন পরিষদসমূহ ৪০ হাজার ৭৮০ টাকা ফি আদায় করে।
সম্প্রতি গ্রাম আদালত নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে জানানো হয়, যে ইউনিয়নে বিরোধ সৃষ্টি হয় সে ইউনিয়নেই গ্রাম আদালত গঠিত হয়। ফৌজদারি মামলার জন্য দশ টাকা ও দেওয়ানি মামলার জন্য ২০টাকা ফিস দিতে হবে। ফৌজদারির ক্ষেত্রে বিরোধ সংঘটিত হওয়ার ৩০দিন ও দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে বিরোধ সংঘটনের ৬০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করতে হবে। গ্রাম আদালত কোন কোন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চার জন্য সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালতের বিচারিক প্যানেল গঠিত হয়। প্যানেলে চার জন্য সদস্যের মধ্যে পক্ষদ্বয়ের মনোনীত দুইজন ইউপি সদস্য ও দুইজন স্থানীয় প্রতিনিধি রাখা যাবে। পাঁচজনের বিচারকের প্যানেলে রায় ৪:১ হলে আপীল করা যায় না। ৩:২ হলে আপীল করা যায়। বিচার প্যানেলে বেশিরভাগ নারী রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তছলিমা আবছার বলেন, ‘গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা যাতে থানায় না যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি নারী হওয়ায় আমার গ্রাম আদালতে অনেক নারী বিচারপ্রার্থী আসে।’