মনোনয়নপত্র বাতিল

দুই দিনে ৩১৬ জনের আপিল

পূর্বদেশ ডেস্ক

21

ভোট করতে ইচ্ছুক যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের অর্ধেকের বেশি প্রার্থিতা ফেরত পেতে আপিল আবেদন করেছেন নির্বাচন কমিশনে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। গত ২ নভেম্বর বাছাইয়ের পর নানা কারণে ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করার জন্য নির্ধারিত তিন দিনের সময় শেষ হচ্ছে আজ।
প্রথম দিন সোমবার ৮২ জন আপিল করেছিলেন। দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার ২৩৪ জন আপিল করেন বলে ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে দুদিনে আপিলকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬।
পটুয়াখালী-১ আসনের জাতীয় পার্টির সদ্যবিদায়ী মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বরিশাল-২ আসনের চিত্রনায়ক সোহেল রানা, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও নাটোর-২ আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দ্বিতীয় দিনে আপিল করেছেন।
তিনটি আসনের সব ক’টিতে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে দ্বিতীয় দিনেও কোনো আপিল আবেদন হয়নি।
দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশন চত্বরে প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা ৭টি বুথ স্থাপন করে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা বিভাগে ৬৮টি, চট্টগ্রামে ৫৬টি, বরিশালে ১২টি, সিলেটে ১৫টি, ময়মনসিংহে ১৬টি, রংপুরে ২৭টি, রাজশাহীতে ২২টি ও খুলনা বিভাগে ১৮টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। খবর বিডিনিউজের
আজ আপিলের পর সব আবেদন নিয়ে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শুনানি করবে ইসি। এরপর তা নিষ্পত্তি করা হবে। এরপরও কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি আদালতে যেতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তির পর ৯ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করবে ইসি। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থীরা নামে ত পারবেন ভোটের প্রচারে। প্রচার শেষে ৩০ ডিসেম্বর হবে ভোটগ্রহণ।
মুদ্রণ বিভ্রাট : হলফনামায় মুদ্রণ বিভ্রাটের কারণে বাছাইয়ে বাদ পড়া কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী জাকির হোসেন তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেছেন।
আপিল আবেদন জমা দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার কোনো খেলাপি ঋণ নেই, মামলা-মোকদ্দমা নেই। আয়কর দেখে হলফনামাটা করে দিতে বলেছিলাম উকিলকে। হলফনামায় প্রিন্টিং মিসটেক করেছেন। ৬, ৭ ও ৮ নম্বরে সিরিয়াল ভুল হয়েছে। আইনজীবী আর যে টাইপ করেছে, তার ভুল। আমি নাম্বারগুলো শুধু দেখেছিলাম, গ্রাউন্ডটা দেখিনি। এই ‘সামান্য ভুল’ নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাকির।
এই আসন থেকেই মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের। দুই প্রার্থীই একই সময়ে আপিল আবেদন করেন।
নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন আমানপুত্রের : নির্বাচনী প্রচারে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন ঢাকা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। অমি বিএনপি নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের ছেলে। এই আসনে আমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অমির বড় ভাই কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নিরাপত্তার আবেদনটি জমা দেন।
আবেদনে বলা হয়, একই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল ইসলামের সাথে পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইরফান ইবনে আমান অমি নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা বোধ করছেন।
দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া দুই হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থীর সংখ্যার মধ্যে বাতিল হয় ৪০২ জনের মনোনয়ন। স্বতন্ত্র হিসেবে দাখিল করা ৪৯৮ জনের মধ্যে ৩৮৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বৈধ প্রার্থী রয়েছে ১১৪ জন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী ২৭৮ জন, বাতিল ৩ জন। বিএনপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জন। জাতীয় পার্টি ২১০ আসনে ২৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধ প্রার্থী ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিলেও ২৮১ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে।
অন্যান্য নিবন্ধিত দলের বৈধ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ১২ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ১৩ জন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ২ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩২ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৯ জন, গণতন্ত্রী পার্টি ৮ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১১ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩২ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৩৯ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৪৪ জন, জাকের পার্টি ৭৩ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৪৩ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ৬ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ২০ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ২২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৪০জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ৭৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ১৪ জন, গণফোরাম ৪৪ জন, গণফ্রন্টের ১৪ জন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) ১৪টি, বাংলাদেশ ন্যাপ-৫ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-১১ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ২৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ৫ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ২৩ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিম ৯ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২১ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৪জন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২৭ জন, খেলাফত মজলিশ ১৩ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ৬ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৩ জন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ৫৬ জন।