বিআরটিএ’র দালালের আস্তানায় অভিযান

দুইটি দোকান সিলগালা, ৫ জনকে কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

28

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের আঙিনায় তিন দোকানসহ পুরো এলাকায় অভিযান চালিয়েছে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় দালালির সাথে জড়িত ফটোকপির দোকান ও মাঠ থেকে পাঁচ দালালকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদÐ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ফটোকপি ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক পূর্বদেশে ‘বিআরটিএ’র আঙিনার ৩ দোকানে যত দালাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই সূত্র ধরে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সরেজমিন দেখা গেছে, বেলা ১১ টার দিকে র‌্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় বিআরটিএ’র মূল গেটসহ চারদিকে ঘিরে ফেলা হয়। মাঠের ভেতরে সেবাগ্রহীতারা প্রবেশ করতে পারলেও বের হতে পারেননি কেউ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিআরটিএ’র প্রত্যেক কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকেন এবং আগত সেবাগ্রহীতাদের কাছে জানতে চান, কীভাবে লাইসেন্স করা হচ্ছে এবং কোন দালালের সহায়তা নিতে হচ্ছে কি না।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কয়েকজন অভিযোগ করেন তিন দোকানের বিষয়ে। এরপরই তিন দোকানে অভিযান চালানো হয়। ক্যান্টিন থেকে ম্যানেজার এবং হোটেল বয়দের আটক করা হয়। একই সাথে পাশের ফটোকপি দোকান থেকে তিনজনকে এবং মাঠে ঘোরাফেরা অবস্থায় আরও দুইজনকে আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জিজ্ঞাসাবাদের পর দালালির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় হাটহাজারীর খন্দকিয়া গ্রামের ইউনুস নগরের মৃত মো. ইসহাকের ছেলে মো. আরমান (২২) ও দক্ষিণ পাহাড়তলী ফতেয়াবাদের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে জাহেদুল ইসলাম রনিকে (৩২) এক মাসের কারাদন্ড এবং হাটহাজারীর খন্দাকিয়া গ্রামের ইউনুস নগরের মো. সরোয়ারের ছেলে মো. ইমরান (২১), ফতেয়াবাদের মো. জানে আলমের ছেলে মো. বেলাল হোসেন (২২) ও শিকারপুর ইউনুস নগরের মৃত বাবুল বিশ্বাসের ছেলে সাজু বিশ্বাসকে (২৯) ১৫ দিনের কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, দন্ডিতদের মধ্যে মো. আরমান নগরীর ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরীর শ্যালক।
পরে ক্যান্টিন, ফটোকপি এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের দোকানের অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে কাগজপত্রে শুধু ক্যান্টিনের অনুমতি থাকলেও বাকি দুই দোকানের অনুমতি ছিল না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যান্টিনের লোকজনকে খাবারের মান ভাল করা, সঠিক দাম এবং মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করার জন্য তিনদিনের সময় দিয়ে ক্যান্টিনটি খুলে দেন। পাশাপাশি ফটোকপি ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের দোকানকে সিলগালা করা হয়।
গতকাল এ অভিযানের ফলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। মো. আতিক নামে একজন বলেন, অন্যদিন বিআরটিএ’র ভেতরে কয়েক জায়গায় যে জটলা থাকে আজ তা দেখা যাচ্ছে না।
কাগজপত্র নবায়ন করতে আসা সুমন বলেন, আমি আজ যে সেবা পেয়েছি, সেটি অন্যদিন পাইনি। কারণ গেটের ভেতর ঢুকলেই এক-দুইজন কাছে এসে কাগজপত্র নবায়ন করবে বলে নিয়ে নিতো। আজকে নিজেই করলাম।
অভিযানের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক পূর্বদেশকে জানান, একটি দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দালালি করার সুযোগ না পেয়ে সুকৌশলে ফটোকপি ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের দোকানের আড়ালে দালালির কাজ করে আসছিল। এ রকম অভিযোগের ভিত্তিতে আজ অভিযান পরিচালনা করে হাতেনাতে পাঁচ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করি। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র তথা অনুমতিপত্র না থাকার কারণে দুইটি দোকানকে সিলগালা করে দেই।
দোকানের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যান্টিন ছাড়া বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ কোন দোকানের অনুমতি দেয়নি। তাই ফটোকপি এবং অগ্নিনির্বাপণের দোকান পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সিলগালা করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এর আগেও অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছি। পরবর্তীতে যদি একই দালালদের বিআরটিএ আঙিনায় পাওয়া যায়, তবে আরও কঠোর শাস্তি হবে।