দি রিপাবলিক অফ সিঙ্গাপুর প্রফেসর এড. কামরুন নাহার বেগম

22

 

 

প্রারম্ভিক ভূমিকা : ঞযব জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ঝরহমধঢ়ড়ৎব এশিয়ার একটা বদ্বীপ ছোট রাষ্ট্র। গণচীন ও মালেশিয়ার নিকটবর্তী এই দেশ। এর তিনদিকে জল একদিকে স্থল। তাই ভৌগলিক দিক থেকে এটাকে একটা বদ্বীপ বলা যায়। এককালে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা ছিল মৎস্য শিকার এবং মৎসজীবী হিসেবে তারা জীবনযাপন করত।
ঐতিহাসিক এবং ভূতত্ত্ব বিদদের তথ্যানুযায়ী বিগত ১৮১৯ সনে ঝরহমধঢ়ড়ৎব আবিস্কৃত হয়। ৩ জনু ১৯৫৯ সালে নিজস্ব সরকার প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে মালেশিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়। বিগত ১৯৬৩ সালের ৩১ আগষ্ট বৃটেনের কাছ থেকে ঝরহমধঢ়ড়ৎব স্বাধীনতা লাভ করে। ভূখন্ডের দিক থেকে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এশিয়ার একটা ছোট্ট দেশ। এর আয়তন হচ্ছে ৭১৮.৩০ বর্গ কিলোমিটার বা ২৭৭ বর্গমাইল ২০১৩ইং সনের সেনসাস অনুসারে। ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর বর্তমান জনসংখ্যা ৫৫,৭০,৭০০ জন। এদেশের জনগণের চবৎপধঢ়রঃধ ওহপড়সব বা মাথা পিছু আয় হচ্ছে ৬,৪৫৫.১৮২ ডলার।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর ঙভভরপরধষ খধহমঁধমব হচ্ছে ঊহমষরংয, গধষধু, গধহফধৎরহ, ঞধসরষ, খধঃরহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঈযরহবংব ভাষা প্রচলিত রয়েছে। তবে জনগণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ঊহমষরংয খধহমঁধমব ব্যবহার করে থাকে।
এশিয়ার এই ছোট্ট দ্বীপ দেশ সিঙ্গাপুর স্বচক্ষে দেখার এবং জানার তীব্র ইচ্ছা ও আকাংখা ছিল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অপার কৃপায় সেই আশা পূর্ণ হয় ২০১২ সালের জুন মাসে। আমি আমার বড় মেয়ে ডাঃ আইরিন সুলতানা, ছেলে ইফতেখার মাহমুদ এবং মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার ফরহানা সাবরীনা জুঁই সহ এশিয়ার এই ছোট্ট দেশ ঝরহমধঢ়ড়ৎব ভ্রমণ করি। প্রায় মাস খানেক আমরা ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ অবস্থান করি এবং ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর বিভিন্ন বিখ্যাত শহর/বন্দর এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়।
আমরা ঢাকা কুর্মিটোলা বিমান বন্দর থেকে রাত ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্স এর একটা বিমান করে ঝরহমধঢ়ড়ৎব ঈযধহমব অরৎঢ়ড়ৎঃ এ অবতরণ করি প্রায় ২.০০ টায় অর্থাৎ দুই ঘন্টা সময় লাগে ঢাকা অরৎঢ়ড়ৎঃ থেকে পৌঁছাতে।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব অরৎঢ়ড়ৎঃ থেকে আমার মামাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার টিপুর বাসায় জুরুং এলাকায় যাই। বিল্ডিংটা ১১ তলা। আমরা উঠি ১৩ তলায়। বাসার্য় পূর্বে থেকেই খাওয়ার ব্যবস্থা করে রাখা হয়। রাতে আমরা সবাই খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন সকালে উঠে নাস্তা পানি শেষ করে এন.ইউ.এইচ হাসপাতালে যাই আমার চিকিৎসার জন্যে। সেই দিনই গাইনী ডাক্তার দেখাই। সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সিঙ্গাপুরে আরো ২/৩ জায়গায় ডাক্তার দেখাই এবং শারীরিক যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে সব কিছু শেষ করি। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিউরোমেডিসিন এর ডাক্তার দেখাই।
এর পরের দিন কার-এ করে ফিস আন্ডার ওয়াটার দেখতে যাই। সেখানে দেখি আমার চতুপার্শ্বে অর্থাৎ উপরে-নীচে, পাশে-ভিতরে বিভিন্ন প্রকার ছোট/বড় রং বেরং এর মাছ। আর্টিফিসিয়েল মনে হলেও এগুলো প্রকৃত মাছ। এখানে ৪/৫ কেজি ওজনের মাছও রয়েছে। প্রায় দু’ঘন্টা অবস্থান করে মাছগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করি। সেখান থেকে কিছু দূরবর্তী এলাকায় পুরাতন একটা বিল্ডিং এ ওহফরধহ একটা রেষ্টুরেন্ট এ এসে সন্ধ্যায় খাওয়া দাওয়া করি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ পর বাসার দিকে রওনা দিই। প্রায় রাত ১০টায় বাসায় পৌঁছি।
পরের দিন পুনরায় এন.ইউ.এইচ হাসপাতালে যাই। সেখানে প্রায় ডাক্তার দেখাতে বিকাল ৪.০০ টা হয়ে যায়। ডাক্তার দেখানো শেষ করে সেদিন বিকালে ডলফিন সো দেখতে যাই। সেখানে প্রায় ৩০০ জন একসাথে ডলফিন সো দেখতে পারে। ঘধঃঁৎধষ পানিতে ডলফিনগুলো নানা ধরনের খেলা করতেছে। আর দর্শনার্থীরা ডলফিনের খেলা উপভোগ করতেছে। এই যেন এক নৈসর্গিক দৃশ্য। আনন্দে মন ভরে গেল। পরের দিন আবার এন.ইউ.এইচ (ঘধঃরড়হধষ টহরাবৎংরঃু ঐড়ংঢ়রঃধষ) এ চিকিৎসার জন্যে যাই। চিকিৎসা শেষে সন্ধ্যায় মালেশিয়া রেষ্টুরেন্টে এ খাবার খাই। এরপর আমরা জুরুং বার্ড পার্ক দেখতে যাই। এরপর ঘরমযঃ ধঃ ঝধভধৎর চধৎশ এ যাই। ট্রামে করে এক মাইল ঘুরে ঘুরে অবলোকন করি বড় বড় হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ভাল্লুক, জিরাফ এবং হরেক রকম জীবজন্তু। এগুলো যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতেছে। গাড়ীতে বসা যাত্রীদের প্রতি এই সমস্ত জীবজন্তু মানুষকে আক্রমণ করার কোন চিহ্ন নেই। মানুষের সাথে যেন জীবজন্তুর মিতালী ভাব। এআ পশুগুলি ট্রামের ১৫/২০ ফুট দূরে বসা ছিল। এই দৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখিনি। মনে হয় মানুষ এবং জীবজন্তুগুলো একই সমাজের বাসিন্দা।
এর পরের দিন ঝবহঃড়ংধ ঝবধ ইবধপয পরিদর্শনে যাই। যে কয়েকটি ঝবধ ইবধপয এ গিয়েছি ঝবহঃড়ংধ ঝবধ ইবধপয হচ্ছে সবচাইতে দীর্ঘ এবং মনোমুগ্ধকর। এই ঝবধ ইবধপয এর অপরূপ দৃশ্য যে কোন পর্যটকের মন আকর্ষণ করে। ঝবহঃড়ংধ ঝবধ ইবধপয এ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ১০/১৫ টির অধিক বিভিন্ খাদ্যসামগ্রীর ছোট ছোট দোকান। আমরা ঐখানে চিকেন ফ্রাই, জুস, আঙুর, চিপ্স ইত্যাদি খেয়েছি। ঝবধ ইবধপয এর অদূরে প্রায় ২০০ গজ দূরে ইবধপয এর ভেতরে কৃত্রিমভাবে তৈরী ছোট দ্বীপের মতো দেখায়। ঐ দ্বীপের উপর থেকে ঝবধ ইবধপয উঠানামা করার জন্য সরাসরি রশি টাঙানো রয়েছে যাতে পর্যটকরা ঐ দ্বীপে অনায়াসে উঠানামা করতে পারে। দ্বীপের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত হসপিটাল মাউন্ট এলিজাবেথ। এই হসপিটালের ডাক্তারগণ খুবই অভিজ্ঞ এবং বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে ঝঢ়বপরধষরংঃ । চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত ও নির্ভরযোগ্য। বড় মেয়ে আইরিন সে নিজেও একজন ডাক্তার। বেশ কিছুদিন যাবত সে নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগতেছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩/৪ মাস যাবৎ কাশিতে কষ্ট পাচ্ছিল। ঘটঐ ডাক্তারের সিরিয়াল না পাওয়ায় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ডাক্তারকে দেখায়। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। দেখা গেল ২ দিন পরও কোন ওসঢ়ৎড়াবসবহঃ হয়নি। আসলে ডাক্তার তাকে ২ পাতা গ্যাসট্রিকের ঔষুধ দিয়েছিল। মেয়ে জুঁই এর কানে এবং গলায় সমস্যা আছে বিধায় তার হসপিটালে ডাক্তার দেখানো জরুরী হয়ে পড়ে। সেখানে ডাক্তারের চিকিৎসা ফিস কল্পনাতীত। শুধুমাত্র কানের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য ডাক্তার ফিস নিয়েছে ৪৫,০০০/- হাজার টাকা। আমিও মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইউরো মেডিসিন ডাক্তারকে দেখাই। ইউরো মেডিসিন ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রের জন্য বাংলাদেশের ২৫,০০০/- টাকা নিয়েছে। এই যেন এক কসাই খানা। ডাক্তারদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এত বেশী চার্জ পৃথিবীর অন্য কোন দেশে আছে বলে মনে হয় না। এন.ইউ.এইচ হসপিটালে আমি নিজেই প্রথমে গাইনী সমস্যার ব্যাপারে চিকিৎসা করাই। সেখানে ব্যবস্থাপত্র দেয়। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা আমার গাইনো সমস্যা আছে বললেও কিন্তু সিঙ্গাপুরের এন.ইউ.এইচ হসপিটালের ডাক্তাররা তাদের চিকিৎসায় গাইনো সমস্যা নেই বলে ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে দেখা যায়, আসলে আমার কোন গাইনো সমস্যা ছিল না। পৃথিবীর কোন দেশে ভ্রমণে গেলে সেই দেশের মার্কেটের বা শপিং সেন্টারে কিছু কেনাকাটা করতে ইচ্ছা হয়। সেই হিসেবে আমার বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। সিঙ্গাপুরের মাঝখানে মোস্তফা মার্কেট নামে একটি দৃষ্টিনন্দন মার্কেট আছে। এই মার্কেটটি বাঙালি ও ভারতীয় মার্কেট নামে পরিচিত। মার্কেটে যাওয়ার সাথে সাথে বাঙালি ছেলেমেয়েদের সাথে পরিচিত হই। দোকানের মালিক সবাই বাঙ্গালি ও ভারতীয়। এই মার্কেটে যাওয়ার পর মনে হল যেন বাংলাদেশের কোন মার্কেট থেকে কেনাকাটা করছি। কিছু দূরে চায়না মার্কেট নামে আরেকটি মার্কেট আছে। চায়না মার্কেটের ডানে বায়ে মার্কেটগুলোতে নানা ধরনের নানা রংয়ের এবং নানা ডিজাইনের ফুলের মালা, গলার মালা ইত্যাদি রয়েছে। কানের দুল, পায়ের মল, নানা ধরনের পিতলের শো পিচ রয়েছে। মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের বড় ছোট মহিলাদের স্কাট, গেঞ্জি পাওয়া যায়। চায়না মার্কেট যেহেতু রাস্তার দুই পাশে বেচাকেনা হয়, সেজন্য মোস্তফা মার্কেটের চাইতে চায়না মার্কেটে বেচাকেনা কিছুটা কম বলে মনে হল।
ঞযব চড়ষরঃরপধষ ঝুংঃবস ড়ভ ঝরহমধঢ়ড়ৎব চৎরসব গরহরংঃবৎ ধহফ যরং গরহরংঃবৎং ধৎব ঃযব ংুংঃবস ড়ভ জবধষ ংঃধঃব চড়বিৎ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিপরিষদ প্রকৃত ক্ষমতার মালিক। রাষ্ট্রপতি আছেন, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকার প্রধান হিসাবে নয়।
আধুনিক ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর প্রতিষ্ঠাতা ঝরৎ ঝঃধসভড়ৎফ জধভভষবং । তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্য অঞ্চল হিসেবে এটা প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ঔড়যড়ৎ ঝঁষঃধহধঃব এর অনুমতিক্রমে ঊধংঃ ওহফরধ ঈড়সঢ়ধহু এই এলাকাটি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ১৮২৪ সালে বৃটিশরা এই দেশের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেয় এবং ঝরহমধঢ়ঁৎব হয়ে উঠে ১৯২৬ সালে বৃটেনের অন্যতম বাণিজ্য নগরী। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সহায়তায় বৃটেনের কাছ থেকে ঝরহমধঢ়ড়ৎব স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৬৩ সনে।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সিঙ্গাপুর একটি। পৃথিবীর পাঁচটি বিখ্যাত সমুদ্র বন্দরের মধ্যে সিঙ্গাপুর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে অন্যতম সমুদ্র বন্দর। সিঙ্গাপুর হচ্ছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ। অর্থাৎ বেশী চবৎপধঢ়রঃধ রহপড়সব এর তিনটি দেশের মধ্যে একটি। জনসংখ্যার ৭৫ ভাগই ঈযরহবংব, ২৫% এর মধ্যে গধষধু, ওহফরধহং ঊঁৎড়ঢ়বধহ রয়েছে এর অফিসিয়াল ভাষা হচ্ছে ৪টি যথা- ঊহমষরংয, গধষধু গধহফধৎরহ এবং ঞধসরষ। তবে জনগণ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ঊহমষরংয খধহমঁধমব ঈযরহবংব ব্যবহার করে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঈযরহবংব খধহমঁধমব ব্যবহার হয়। আধুনিক সিঙ্গাপুর ৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য পদ লাভ করে।
১. অংংড়পরধঃরড়হ ড়ভ ঝড়ঁঃয ঊধংঃ অংরধহং ঘধঃরড়হং (অঝঊঅঘ)
২. অংরধ চধপরভরপ ঊপড়হড়সরপ ঈড়-ঙঢ়বৎধঃরড়হ (অচঊঈ)
৩. ঊধংঃ অংরধ ঝঁসসরঃ (ঊঅঝ)
৪. ঘড়হ অষরমহবফ গড়াবসবহঃ
৫. ঈড়সসড়হবিধষঃয
* এড়াবৎহসবহঃ ্ চড়ষরঃরবং:- ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ বা শাসনতন্ত্র ঐ দেশে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছে।
চধৎষরধসবহঃ গবসনবৎ নির্বাচিত হন তিন ভাগে যেমন- ১. ঊষবপঃবফ ২. ঘড়হ ঈড়হংঃরঃঁবহপু ৩. ঘড়সরহধঃবফ গবসনবৎ ৪. ঊষবপঃবফ গবসনবৎ (গচঝ) ধৎব াড়ঃবফ রহঃড় ঃযব ঢ়ধৎষরধসবহঃ ড়হ ধষষ. ঋরৎংঃ ঢ়ধৎঃ ঃযব ঢ়ড়ংঃ (ঢ়ষঁৎধষরঃু) নধংবং ধহফ ৎবঢ়ৎবংবহঃধঃরাব ঈড়হংঃরঃঁবহপরবং. সিঙ্গাপুর হচ্ছে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু এখানে দুইটা প্রধান দলই ঘুরে ফিরে ক্ষমতায় থাকে। একটা দল হচ্ছে অপঃরড়হ চধৎঃু। বর্তমানে ক্ষমতায় আছে ডড়ৎশবৎ’ং চধৎঃু এবং বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে অপঃরড়হ চধৎঃু।
ঞযব খবমধষ ংুংঃবসং ড়ভ ঝরহমধঢ়ড়ৎব: একজন আইনজীবী হিসেবে সিঙ্গাপুরের আইন ব্যবস্থা বা বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল। ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর আইন ব্যবস্থা এখনো ঊহমষরংয ঈড়সসড়হ খধি অনুসারে সম্পূর্ণরূপে চলছে। পূর্বে বিভিন্ন আদালতে যে ঔঁৎু ঝুংঃবস ছিল বিগত ১৯৭০ সালে ‘ঞৎরধষ নু ঔঁৎু ঝুংঃবস’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিচারিক কার্যক্রম পুরোপুরি অঢ়ঢ়ড়রহঃবফ ঔঁফমব’ং এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ আইনের শাসন বিদ্যমান। পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রের ন্যায় আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সঠিকভাবে রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে গঁৎফবৎ এবং উৎঁম, ঞৎধভভরপশরহম ঋরৎব অৎসং সংক্রান্ত অপরাধের জন্য উবধঃয চবহধষঃু রয়েছে। মোটামুটি এশিয়ার মধ্যে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর আইন ব্যবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষতার ভূমিকা রাখে।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলবৎ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনঅধিকার এর উপর ঝবহড়ৎযরঢ় রয়েছে। বিশেষ করে ঋৎববফড়সস ড়ভ ঝঢ়ববপয এবং ঋৎববফড়স ড়ভ অংংবসনষু এর ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আছে। সকল জনসমাবেশ বা চঁনষরপ গববঃরহম করার জন্য পাঁচ বা পাঁচের অধিক সমাবেশের জন্য পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
প্রায় ৬৩টি ছোট বড় দ্বীপ নিয়ে ঝরহমধঢ়ড়ৎব গঠিত। প্রধান দ্বীপ হচ্ছে ঝরহমধঢ়ড়ৎব ওংষধহফ বা চঁষধঁ ণলড়হম রহ গধষধু সবচেয়ে বড় ওংষধহফ হচ্ছে ঔঁৎড়হম ওংষধহ, চঁষধস ঞবশড়হম, চঁষধস টনরহ, এবং ঝধহঃড়ংধ দ্বীপসমূহ।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর ভূখন্ডের শতকরা ১০% ভাগ পার্ক এর জন্য রাখা হয়েছে এবং ঘধঃঁৎব জবংবৎাবং । রাস্তার দুপার্শ্বে বৃক্ষধারা আচ্ছাদিত এবং নগরের খালি জায়গা সবুজ চত্বরে আচ্ছাদিত। ১৯৬৩ সালে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর প্রধানমন্ত্রী খবব কঁসধহ ণবি সর্বপ্রথম এ বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্ভাবন করেন। মন্ত্রী পরিষদে বর্তমানে ঐ উবঢ়ধৎঃসবহঃ এর নামকরণ করা হয় ঘধঃরড়হধষ চধৎশ ইড়ধৎফ রহমধঢ়ড়ৎব বা ঘঢ়ধৎশং সংক্ষেপে জুলাই ১৯৯৬।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ মাদকাশক্তি ব্যক্তির সংখ্যা পৃথিবীতে সবচাইতে নগণ্য। এই দেশের উৎঁম খধি অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন ও বাস্তাবায়ন করা হয়। ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ ৪২% মানুষ বাইরের এবং তারা ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ বিভিন্ন ভাষাভাসি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটেছে। বিশেষ করে ১৯৬৩ সনে যখন ঝরহমধঢ়ড়ৎব বৃটিশ থেকে স্বাধীনাত লাভ করে তখন এই নবগঠিত স্বাধীন দেশের নাগরিকেরা চীন বিশেষ করে সমস্ত নাগরিক মালেশিয়া, চীন এবং ভারতীয় বংশোদ্ভুতদ। তারা ছিল বেশিরভাগ অশিক্ষিত শ্রমিক। ঐ সমস্ত নাগরিকদের উন্নত জীবনের কোন চিন্তা ভাবনা ছিলা না। মধ্যবিত্তের সংখ্যা ছিল নগন্য এবং ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর স্থায়ী নাগরিকের সংখ্যা ছিল কম। তারাও চবৎধহধশধহং নামে পরিচিত ছিল। তারাও ১৫ ও ১৬ শতকে চীন থেকে ঊসরমৎধহঃ করেছে। স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর সংস্কৃতি পাল্টাতে শুরু করে এবং ঝরহমধঢ়ড়ৎব সর্বদিক থেকে নতুন নামে পরিচিতি লাভ করে।
সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা কোন সুনির্দিষ্ট এক ভাষায় কথা বলে না। তারা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে থাকে। তবে ইংরেজী হচ্ছে সিঙ্গাপুর এর প্রধান জাতীয় ভাষা। ২০১০ সালের ঈবহংঁং অনুসারে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর ২০% জনগণ ইংরেজী ভাষা জানে না। ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ যারা চীনা বংশোদ্ভুত তাদের মধ্যে প্রতি ৫ (পাঁচ) জনে একজন খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। জনসংখ্যার তিন ভাগের একভাগ অংশ ইংরেজী কে তাদের জাতীয় ভাষা (অং ঃযবরৎ ঘধঃরড়হধষ খধহমঁধমব) হিসাবে ব্যবহার সকরে। এদের অর্ধেকের ভাষা হলে গধহফধৎরহ ঈযরহবংব।
সিঙ্গাপুরে ভারতীয়রা প্রতি ছয় (৬) জনে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, দুইজন মুসলিম এবং বাকীরা খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। প্রতি ১০ জনে ৪ জন মাতৃভাষা হিসেবে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করে। প্রতি ১০ জনে তিন জন মাতৃভাষায় কথা বলে। প্রতি ১০ জনে একজন গধষধু ভাষা ব্যবহার করে এবং বাকীরা ওহফরধহ খধহমঁধমব অর্থাৎ তাদের মাতৃভাষা ব্যবহার করে। সিঙ্গাপুর এর মানুষের আচার আচরণ, ধ্যান-ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম কিংবা ভাষার সংমিশ্রণ হলে ও আলাদাভাবে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ধারণ করে আছে।
[[ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর যে সমস্ত নাগরিকরা ইংরেজী ভাষায় কথা বলে তারা সাধারণত পশ্চিমা সংস্কৃত অর্থাৎ ডবংঃবৎহ ঈঁষঃঁৎব এ বিশ্বাসী।
যে সমস্ত নাগরিকরা চীনা ভাষায় কথা বলে অর্থাৎ যাদের মাতৃভাষা ঈযরহধ তারা সাধারণত চীনা সংস্কৃতি বা ঈযরহবংব ঈঁষঃঁৎব ধারণ করে আছে।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ যারা গধষধু খধহমঁধমব ব্যবহার করে তারা গধষধু ঈঁষঃঁৎব এর সাথে সংযুক্ত এবং যারা মুসলিম তারা গঁংষরস ঈঁষঃঁৎব এর সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব হচ্ছে এশিয়া মহাদেশের একটা দ্বীপদেশ কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশী। ২০/২৫ তলা বিল্ডিং এ বাংলাদেশে একটা বড় গ্রামের জনসংখ্যার সমান মানুষ বসবাস করে। ঈধৎন/অরৎ চড়ষষঁঃরড়হ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করে। গাড়ী বা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের উপর কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করে। একটা কার কিনতে গেলে বার ব্যবসায়ীকে দামের দেড়গুণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। অন্যান্য ইংরেজী ভাষাভাষি দেশসমূহ থেকে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ ঈধৎ এর মূল্য অনেক বেশি।
ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ ঝুংঃবস ড়ভ ঝরহমধঢ়ড়ৎব: ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর অধিবাসাীরা সাধারণত পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করে। তাছাড়া এখানে ইঁং, ঞধীর, এবং ঞৎধরহ বা খজঞ, গজঞ আছে। দুটো কোম্পানী পাবলিক বাস নিয়ন্ত্রণ করে এবং একটা কোম্পানী ঞৎধরহ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ নিয়ন্ত্রণ করে। কোম্পানীর নাম হচ্ছে ক) ঝইঝ ঞধসরষ এবং খ) ঝগজঞ ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ । এ ছাড়া এখানে ছয় (৬) টি ঞধীর কোম্পানী রয়েছে, যার ২৭,০০০ হাজার ঞধীর রাস্তায় চলে। ঞধীর যানবাহন হচ্ছে ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ অত্যন্ত জনপ্রিয় বাহন এবং ভাড়া খুবই কম।
ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ জড়ধফ ঝুংঃবস ঈড়াবৎরহম ৩,৩৫৬ কিলোমিটার (কি.মি. এবং এর মধ্যে ১৬১ কি.মি. হচ্ছে ঊীঢ়ৎবংং ডধুং.
শেষকথা:-
এশিয়ার ছোট দ্বীপ দেশ হলেও আধুনিক বিশ্বে একটা উন্নত দেশ বলা যায়। বিশ্বের একটা উন্নত এবং বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি এই ছোট বদ্বীপ দেশটি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশ্বে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত হসপিটাল মাউন্ট এলিজাবেথ ন্যাশনাল, ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং আরো বেশ কিছু ছোট বড় হসপিটাল রয়েছে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানো খুবই ব্যয়বহুল হলেও চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই উন্নত। ঝরহমধঢ়ড়ৎব এ কোন গ্রাম নাই বললে চলে পুরো দেশ ঈরঃু ঝঃধঃব ঝরহমধঢ়ড়ৎব কে পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি, স¤প্রদায়ের দেশ হলেও বিভিন্ন জাতি স¤প্রদায়ের মধ্যে আচার ব্যবহারের তেমন কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত এই দেশটি ভ্রমণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। দীর্ঘ ৩০ দিনের পরিভ্রমণে আমি ঝরহমধঢ়ড়ৎব এর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এবং বিখ্যাত নিদর্শনগুলো স্বচক্ষে অবলোকন করে নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। আমি ইতিমধ্যে ১২/১৪টি ইউরোপ মহাদেশের দেশ পরিভ্রমণ করেছি। কিন্তু এশিয়ার এই ছোট্ট দ্বীপ দেশ সিঙ্গাপুর আমার কাছে সবচাইতে ভাল লেগেছে।