দিয়াজ হত্যা মামলায় কারাগারে শিক্ষক চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ প্রত্যাহার

নিজস্ব সংবাদদাতা

39

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা লাগাতার অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অবরোধকারীরা।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন মামলার অপর আসামি ও চবি ছাত্রলীগের ষ পৃষ্ঠা ১১, কলাম ৪.
ষ প্রথম পৃষ্ঠার পর
সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু। তিনি নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
আলমগীর টিপু বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেবেন। তাই আমার অবরোধ প্রত্যাহার করেছি।
তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াতো শাস্তি দেওয়া যায় না। তদন্তের পর যারা দোষী প্রমাণ হবেন, তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু নিরপরাধ মানুষকে কেন হয়রানি করা হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার (আজ) বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, মানববন্ধন, কালো পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়াও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে টায়ারে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। ফলে শহরগামী শিক্ষকবাসগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়নি। এছাড়া সকাল সাড়ে ৭ টার শাটল ট্রেনটি ঝাউতলা স্টেশনে পৌঁছলে হোস পাইপ কেটে দেওয়া হলে সারাদিন ট্রেন চলাচলও বন্ধ ছিল।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী কম উপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ-ইনস্টিটিউটগুলোর পূর্ব নির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কার্যত অচল ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে বিপুল সংখ্যা পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
গত সোমবার উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া ছয় সপ্তাহের জামিন শেষ হওয়ায় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ফের জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের অপসারণের দাবিতে বেলা ১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে খুন হওয়া ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে থেকে মিছিল বের জিরো পয়েন্ট, প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে শেষ হয়।
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র পূর্বদেশকে বলেন, ‘সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী শিক্ষকবাসগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়নি। অবরোধ প্রত্যাহারের পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বুধবার থেকে স্বাভাবিক নিয়মে সকল কার্যক্রম চলবে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলকার ভাড়া বাস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহ। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু হয়েছে বলা হয়। তা প্রত্যাখান করে গত বছরের ২৪ জুলাই চবির তৎকালীন সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুসহ দশজনকে আসামি করে আদালতে নালিশি মামলা করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী।
দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে দিয়াজের হত্যা করা হয়েছে বলা হয়। পরে ২৬ অক্টোবর মামলাটি এফআইআর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন আদালত। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির কাছে রয়েছে।