বিপুল পরিমান মাদক আটক

দিনের বেলায় পাঠদান রাতে রাতে মাদক বিক্রির হাট !

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

26

কাপ্তাই উপজেলার ১নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনের বেলায় পাঠদানের মাধ্যমে সমগ্র এলাকায় ছড়ানো হচ্ছে জ্ঞানের আলো। আর সূর্য ডুবার সাথে সাথে বিদ্যালয়টিতে বসে মাদকের হাট। ফলে জ্ঞানের আলোর মতোই বিদ্যালয়টিতে সন্ধ্যার পর থেকে ছড়িয়ে পড়ে মাদকের আলো। বিক্রয় ও সেবন করা হয় ইয়াবা। কখনো মদ আবার কখনো গাঁজা। মৌঁমাছি যেভাবে মধু সংগ্রহ করতে ছুঁটে আসে মাদকসেবীরাও মাদক সেবনের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভীড় জমায় ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটিতে। শুধু মাদক নয় গত ১ বছর যাবত ব্যাপক অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বিদ্যালয়টির দুটি কক্ষ। কৌশলে এই কর্মকান্ডের তথ্য এতদিন গোপন ছিল। গত বৃহস্পতিবার ২১ জুন রাত ১১.৪৫ মিনিটে পুলিশের অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে আটক করছে বিদ্যালয়টির নৈশ প্রহরী সফিকুল ইসলাম (২৫) কে। ঘটনাস্থল হতে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমানে ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি, যৌন উত্তেজক ঔষুধ এবং কনডম। পরে রাতেই তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চন্দ্রঘোনা থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, প্রাক প্রাথমিকের শ্রেণীকক্ষে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি চলছিল। আরেকটি কক্ষ রাতে অসামাজিক কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ সময় শ্রেণীকক্ষ থেকে কয়েকটি ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের জিনিসপত্র, যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং কনডম উদ্ধার করা হয়। শুরুতে স্কুলের নৈশ প্রহরী সফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাকে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। গত শুক্রবার ২২ জুন তাকে রাঙামাটি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে সফিক জানিয়েছেন এক বছর ধরে তিনি ইয়াবা সেবন করছেন এবং রাতে অন্যান্য ইয়াবা সেবনকারীদের তিনি স্কুলে জায়গা করে দেন। স্কুল কমিটির সভাপতি তাকে এসব করতে বাধ্য করেন বলেও সফিক জানান। স্কুল ভবনে এসব অপকর্ম প্রধান শিক্ষক জানলেও এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। মাদক বিক্রি করে সে ব্যাপক অর্থের মালিক হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খুরশীদ আলম চৌধুরীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে সজিব বড়ুয়াকে বারবার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।