দিনভর পানির নিচে নগরী

এম এ হোসাইন

28

টানা দুইদিনের ভারী বৃষ্টিতে হাটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর অধিকাংশ এলাকা। টানা বৃষ্টির কারণে এবার নতুন নতুন এলাকায় পানি উঠেছে। গত দুইমাসে যে সকল এলাকায় পানি জমেনি এমন জায়গায়ও পানি থৈ থৈ করছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পর্যন্ত স্থায়ী ছিল বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতা। রাস্তাঘাট পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে।
এদিকে একে তো খানাখন্দে ভরা সড়ক, তার উপর বৃষ্টির হাঁটু সমান পানি। ফলে অধিকাংশ রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে করে অফিস ও স্কুল-কলেজগামীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস-টেম্পু না পেয়ে অনেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। গতকাল সকাল থেকেই এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে।
মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির সাথে সাথেই পুরো এলাকায় পানি উঠে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, তাতেও পানিতে থৈ থৈ অবস্থা। সবগুলো রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। খাল খনন হচ্ছে, জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে বলে আমরা পেপার পত্রিকায় খবর পাই। কিন্তু বাস্তবে আমাদের দুঃখ কেউ দেখে না।’
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৯০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয় ১২১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। সমুদ্রে কোন সতর্কবার্তা না থাকলেও আজ কোথাও কোথাও সারাদিন দমকা হাওয়াসহ ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ডিউটি এসিস্টেন্ট নুর মোহাম্মদ। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এর কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
টানা বর্ষণে প্রতিবারের মতো এবারও নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বেপারীপাড়া, ছোটপুল, মুহুরীপাড়া, শান্তিবাগ, এক্সেস রোড, হালিশহর, নিমতলা, মা ও শিশু হাসপাতাল, শিশুপার্ক, জাম্বুরী মাঠ, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। তবে বৃষ্টিতে জলমগ্নের তালিকায় এবার নতুনভাবে আরো কয়েকটি এলাকা যুক্ত হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে চান্দগাঁও আবাসিক, শুলকবহর, ডিসি রোড, বাকলিয়া, সিএমবি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল হক বলেন, ‘প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে এলাকা জলমগ্ন হয়ে থাকে। এরমধ্যে বৃষ্টির দুর্ভোগ চরম ্আকার ধারণ করেছে। জোয়ারের পানি আর বৃষ্টির পানি এক হয়ে পুরো এলাকা নদীতে রূপ নিয়েছে। পুরো এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরের নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে। যানবাহনতো নেই, পায়ে হেঁটে চলাচলও দুঃসাধ্য।’
এদিকে বৃষ্টিপাতের অযুহাতে প্রায় গণপরিবহনের বিরুদ্ধেই দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যাত্রীদের কাছ। উঠানামা পাঁচ টাকার স্থলে ১০ টাকা আদায় করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি রুটেই চলে এ অরাজকতা।
বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি সিডিএ নাকি জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তারা কি কাজ করছে। দিন দিন তো পানি বাড়ছে। মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। যদি ভোগান্তিই বাড়ে, তাহলে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে এতো টাকার অপচয় করার কি দরকার।’