কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেরর দিকে তাকিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা

দলীয় মনোয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং আ.লীগ নেতাকর্র্মীদের

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

16

আগামী মাসে রাঙ্গুনিয়া ৫ম উপজেলাপরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও নেতা কর্মীদের মাঝে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছেনা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ রাঙ্গুনিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে নানা তোড়তোড় চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। উপজেলায় নির্বাচন নিয়ে তেমন আমেজ দেখা যাচ্ছেনা। আওয়ামী লীগে শুধু মাত্র কে দলীয় মনোয়ন পাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি একেবারেই নিরভ। সাধারণ ভোটারদের মাঝে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। অনেকই মনে করেন দলীয় সরকারের আমলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ট নির্বাচন না হওয়ার আশংকায় সাধারণ মানুষ নির্বাচন নিয়ে তেমন উৎসাহ নেই। অনেকই মত প্রকাশ করেন আমেজ বিহীন হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। তবে নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহন করবে। দলীয় প্রতিকে নির্বাচন না হলে এখানে উৎসব ও প্রতিদ্ধন্ধিতা মূলক নির্বাচন হতো। দলীয় প্রার্থীর বাইরে অনেকে নির্বাচন করার আগ্রহ দেখালেও দলীয় প্রতিকে নির্বাচন হওয়ায় সেখান থেকে সবে এসেছেন সম্ভ্যাব্য অনেক মুখ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেন রাঙ্গুনিয়ায় চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন। তবে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা আগামী কয়েকদিন পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ। চেয়ারম্যান পদে যারা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌরসভার মেয়র খলিলুর রহমান চৌধুরী, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ আলী শাহ এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম চিশতি। দলীয় মনোনয়ন পেতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রস্তাবিত ১১ জনের মধ্যে এ তিনজনের নাম যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করেছিল উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। তবে দলীয় বিশ্বর্স্ত সুত্রে খলিলুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা যায়। তিনি এর আগে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্রথম প্রশাসক ও পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার জানান, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ৩ জন প্রার্থী ফরম জমা দিয়েছেন। কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা দলীয় মনোনয়ন বোর্ডেই সিদ্ধান্ত হবে। শুক্রবার বিকালে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক আছে হয়তো শনিবার কিংবা রবিবার কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা জানা যাবে। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন বলে তিনি জানান। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে এককভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগম। মনোয়ারা বেগম চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত বদিউল আলম তালুকদারের সহধর্মিনী। একক ভাবে ফরম জমা দেওয়ায় তাদের দুইজনেরই মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান এড. রেহেনা আখতার বেগম জানান, আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দেয়নি। আমি পর পর দুইবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। প্রথমবার ৫ জনের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করে ও পরেরবার বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হয়েছিলাম। এবারও প্রার্থী হয়েছিলাম তবে মনোয়ারা আপা ফরম জমা দিয়েছেন শুনে তাকে সুযোগ দিয়ে আর ফরম জমা দেয়নি এবং নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে এসেছি। আওয়ামী লীগে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় চললেও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেরর দিকে তাকিয়ে আছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে তাদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।এই বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত জানান, অতিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে এ সরকারের আমলে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে হয়েছে সেভাবেই এ নির্বাচন হবে তা অনেকটা নিশ্চিত। তাই নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে দেশে ১২৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাঙ্গুনিয়াতেও এদিন নির্বাচন হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি, যাচাই-বাছাই ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবু আহমেদ হাসনাত নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরী জানান, দলীয় ভাবে মনোয়ন দেওয়া হলে আমি সাধারণ মানুষের ভোট পেয়ে জয়লাভ করব। বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলীশাহ বলেন আমি গত ৫ বছর এ উপজেলাকে সাধারণ মানুষের উপজেলায় পরিণত করেছি। নিজেকে কখনও ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দু মনে করেনি। আমি সাধারণ মানুষের সাথে রাজনীতি করে এত দুর আসা। দল আশাকরি আমাকে আমার কাজের জন্য মূল্যায়ন করবে।