ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি নগরবাসীর

দরকার সমন্বিত পদক্ষেপ

10

গত জুলাই-আগস্টে টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরের অধিকাংশ প্রধান সড়ক বেহাল দশায় পরিণত হয়েছিল। একদিকে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি অপরদিকে ওয়াসার পাইপলাইনের আধুনিকায়ন কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়িতে নরক যন্ত্রণায় পড়তে হয়েছে চট্টগ্রাম নগরবাসীকে। এ অবস্থা এখনও থামেনি। বৃষ্টির জমাটবাঁধা পানি থাকলেও ওয়াসার গর্ত খোঁড়ার কাজ থামেনি। শুক্রবার জাতীয় একটি দৈনিকে উল্লেখ করা হয়েছে আরো এগারো বছর এ অবস্থা চলতে থাকবে। গত কয়েকবছর ধরে চলে আসা এ প্রকল্প আরো এগারো বছর চলতে থাকলে সহজেই অনুমেয় চট্টগ্রাম নগরবাসীর দুঃখ সহসা মিটবে না, বরং নাগরিক দুর্ভোগ চরম থেকে চরমে উঠবে। এমন অবস্থা থেকে চট্টগ্রাম নগরবাসী মুক্তি পাবে কীভাবে? ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে বারবার আসছে। দাবি উঠছে নগরীর এসব উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মকাÐে সমন্বয় সাধনের জন্য। কিন্তু সমন্বয় সমন্বয় ভাব দেখা গেলেও বরং সেবা কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিই বেশি দৃশ্যমান। ফলে সরকার চট্টগ্রাম মহানগরসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে -এর সুফল নাগরিক জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না। গতকাল দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ওয়াসা কর্তৃপক্ষের খেয়ালিপনা ও অমনোযোগিতার কারণে প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে সাব কন্ট্রাকে নেয়া ঠিকাদারগুলোর অদক্ষতা, অযোগ্যতায় পাইপলাইনের কাজে বিঘœ ঘটছে। নতুন পাইপলাইন স্থাপন করতে গিয়ে পুরনো পাইপ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে পাইপ লিকেজ হয়ে পানির অপচয়ই হচ্ছেনা শুধু কাজের সময়ও বাড়ছে। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারার এ খেসারত নগরবাসীকে দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি শীতের মৌসুমের আনাগোনা শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতার দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিললেও এ ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে স্ত‚পকৃত বালি বাতাসে উড়ে সাধারণের চলাচলে বিঘœ ঘটাবে। বাড়বে এলার্জিজনিত নানা রোগব্যাধি।
অপরদিকে চসিক তথ্যানুযায়ী নগরের রাস্তাঘাটের পরিমাণ ১১০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। ওয়াসার কারণে এর ৪০-৪৫ শতাংশ রাস্তাাঘাটের অবস্থা এখন শোচনীয়। বড় বড় গর্তে গাড়ি উল্টে গিয়ে পথচারী ও যাত্রীদের হতাহতের ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক। মূলত সেবা কর্তৃপক্ষগুলোর নিম্নমানের সংস্কার কাজই সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য দায়ী। এ ছাড়া চসিক, ওয়াসা ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীন উন্নয়ন কাজ, ভারী যানবাহন চলাচলসহ আরো কিছু কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে মানসম্মতভাবে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সড়ক সংস্কার করা হলে নগরীর উন্নয়ন কর্মকাÐে জনগণ উপকৃত হত। কমত জনদুর্ভোগও। চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী রাখতে হলে নিয়মিত সংস্কার প্রয়োজন, ওয়াসা ও অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলো যে শর্তে কাজ করছে তা যথাযথ প্রতিপালনও প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দৃষ্টি দিতে হবে নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মানের প্রতি। একটু বৃষ্টি হলেই বা গাড়ি চলাচল করলেই রাস্তার বিটুমিন উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে সেই গর্ত বড় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন থেকে কংক্রিটের রাস্তার কথা বললেও তার তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তবে চসিক বলছে, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্টিভিউশন কর্তৃপক্ষের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ না হলে কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণ সম্ভব নয়। আমরা আশা করব, সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি পাইপ লাইন ও টেকসই সড়ক নির্মাণে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগী হতে হবে। নগরের সেবা কর্তৃপক্ষগুলো নগরবাসীর ভোগান্তি প্রশমনে ত্বরিত বাস্তবোচিত পদক্ষেপ নেবে- এমনই প্রত্যাশা।