নগর আওয়ামী লীগের সাম্পান র‌্যালি

দখল-দূষণ থেকে কর্ণফুলীসহ সব নদী বাঁচানোর আহব্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

17

অবৈধ দখল ও কলকারখানার বর্জ্যরে কবলে পড়ে কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গাসহ বহু নদীর অবস্থা বর্তমানে বিপন্ন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সাম্পান শোভাযাত্রার মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকেই নদী বাঁচানোর ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।
কর্ণফুলীসহ সব নদ-নদীর দখল, দূষণ প্রতিরোধে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় কর্মসূচির প্রথম পর্ব অভয়মিত্র ঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সাম্পান র‌্যালি ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
র‌্যালির শুরুতে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এ সময় নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনগণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দেশ মাতৃকার দুর্যোগে, দুর্বিপাকে এই আওয়ামী লীগই জনগণকে সাথে নিয়ে এগিয়ে গেছে। এই আওয়ামী লীগই সাড়ে সাত কোটি বাঙালির স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। দখল, দূষণের কবলে পড়ে কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গাসহ নদীগুলোর বিপন্ন অবস্থা। নদী রক্ষায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তবে এর সাথে জনসাধারণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন আগ্রাসনে এবং নানা ধরনের অপচনশীল বর্জ্যে কর্ণফুলী নদীর প্রায় ২০ ফুট গভীরতা কমে গেছে। ২০ ফুটের এই পলেস্তরার কারণেই নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী প্রায় ৮০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কম করে হলেও ৩০০টিরও বেশি কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এই শিল্প ও কলকারখানাগুলোর দূষিত তরল বর্জ্য নদীতেই ফেলা হচ্ছে। তাই এই নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মৎস্য বিচরণের পরিবেশ নেই বললেই চলে।
মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, কর্ণফুলী না বাঁচলে চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচবে না। চট্টগ্রাম বন্দর না বাঁচলে বাংলাদেশের বেঁচে থাকার কোন অর্থ হয় না। তাই কর্ণফুলীকে বাঁচানো শুধু চট্টগ্রামবাসী নয়, রাষ্ট্র, সরকার ও দেশের ১৮ কোটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী নদী, বুড়িগঙ্গা নদীসহ দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীগুলোকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তার শতভাগ বাস্তবায়ন চাই।
জনসাধারণের অসচেতন ও বেপরোয়া ব্যবহারে দিন দিন নদীগুলো অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দখল ও ভরাটের করাল গ্রাসে অনেক নদী মরে গেছে। নদী বাঁচলে জীবন বাঁচবে। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই নদীকে বাঁচাতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা শফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, কার্য নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, বেলাল আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, শৈবাল দাশ সুমন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক আলীউর রহমান রুশাই প্রমুখ।
সাম্পান র‌্যালি ও শোভাযাত্রাটি অভয়মিত্র ঘাট থেকে শুরু হয়ে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত গিয়ে আবার অভয়মিত্র ঘাটে ফিরে আসে। এই র‌্যালিতে সুসজ্জিত ১০০টি সাম্পান অংশ নেয়। এসময় নদীর তীরে সমবেত হাজার হাজার মানুষ হাততালি দিয়ে সাম্পান র‌্যালিকে অভিবাদন জানান।