তৃষ্ণার জলধি

নিঃশব্দ আহামদ

41

দ্রবীভূত হও এখানে,যেনো দ্রাব্য
উষ্ণ রক্তে,প্রবাহমান শিরায়-যেমন সমুদ্রে মিশে থাকা নোনতা-উছলে পড়া আলোয় রাত সব ডেকে গেলে খরস্রোতা,আঁচড়ে পড়ো অসুখি তরঙ্গ রূপে,নদীমুখো গাত্রে-

ভেঙ্গে পড়ো এখানেই,ভাঁজ খুলে সমস্ত শরীরিয় বৃত্তের
খোলস ছিঁড়ে প্রকাশিত হও, জলশোভা কেলাসন
চিকচিক খরকর ছড়িয়ে রাতের কোনো বিষাদি ঘুমঘর
জাগাও প্রমত্ততায়, আদর অভিলাষি দেহমন ?

প্রলুদ্ধ করো ঘ্রাণে,মাদকতা পেয়ে বসা অসুখি রাতে
নাচন তুলে নৃত্যের,নাচাও দেহ সৌষ্ঠব
উজান গাঙের জল এনে ভেজাও পলি বুক
মৃত্তিকার সোঁদা গন্ধে পেলবতা হয়ে আসো রমণীয় গন্ধ ?

মৌ-বন ধারণ করে এই যৌবনে
এনে দাও যুগপৎ অমৃতের স‚ধা
নিবারিত ক্ষুধা থেকে তুলে দাও সহস্র তৃষ্ণা কাতর চুমো
দেহ খামে দেহ পুরে হয়ে থাকি এই ভোরে নাতিশীতোষ্ণ ?
দুঃখবিলাসী ইচ্ছে
রীতা ধর

শৈশব কিংবা কৈশোরে আমারও ইচ্ছে করেছিল
আকাশের বুকে ডানা মেলে উড়তে
ইচ্ছে করত অনন্তকাল বেঁচে থাকতে
জীবন থেকে জীবন তারও পরের জীবন
অনন্ত পরিক্রমায় বিশ্বচরাচর ঘুরে ঘুরে
দুঃখগুলো নির্ভয়ে জয় করতে।
দুঃখগুলো আমার অনেক কস্টের দামে কেনা
বিরহগুলো সব সত্যসাধনায় অর্জিত ফুল
এ ফুলের পাপড়ি যেন কোন রঙের হয়?
পীত বর্ণ, রক্ত বর্ণ নাকি কুচকুচে বেদনার নীল
কিছু না বলে মৌন থাকার দুঃখও কিন্তু
আরো জেদি হয় খুব।
ঘনিভুত বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নিশ্চিত অভিমানি।
পথের দুপাশে অনুরাগের বিরহ পোড়ে ধুপের জ্বলন,
ইচ্ছের মন আছে, অশ্রু আছে,
অশ্রুতে লুকিয়ে রাখে অনল দাহ।
সব ইচ্ছে জেগে থাকে না নিয়ত
কুয়াশার অন্ধকার গ্রাস করে মিলন সাধ
জ্যোতির্ময় ইচ্ছেগুলো ভালবাসার
জলরঙে এঁকে রাখে
দুঃখবিলাসী কিছু চিত্রপট।